রাষ্ট্রপতি ভবনের ইফতারেও যোগ দেননি কখনও। ইদ উপলক্ষে মুসলিমদের উপহার দিচ্ছেন সেই মোদি। প্রায় ৩২ লক্ষ মুসলিম পরিবার উপহার পাবেন। শুধুমাত্র সম্প্রীতির বার্তা দিতেই এমন পদক্ষেপ? নাকি নেপথ্যে অন্য কিছু? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
রমজান মাস শেষের পথে। আসছে খুশির ইদ। উৎসবের অপেক্ষায় গোটা বিশ্বের মুসলিম সমাজ। এই আবহে সামনে এল নয়া তথ্য। জানা যাচ্ছে, ইদ উপলক্ষে ভারতের প্রায় ৩২ লক্ষ মুসলিম পরিবারকে বিশেষ উপহার পাঠাবেন মোদি। তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা থাকবে, ‘সওগাত-এ-মোদি’।
:আরও শুনুন:
রাষ্ট্রপতি ভবনের ইফতার বন্ধ করেছিলেন আব্দুল কালাম, নেপথ্যে কোন যুক্তি ছিল?
ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে রাজনীতির যোগ, এই নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। বিশ্লেষকরা বলেন, ভোটবাক্স ভরাতেই এমনটা করে থাকেন নেতারা। ইফতারের আয়োজন সেই তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে। ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে অটল বিহারী বাজপেয়ী, ইফতারের আয়োজন করেছেন এঁরা সকলেই। এমনকি এই ইফতারে থেমেছিল সাম্প্রদায়িক অশান্তি। তবে বর্তমান শাসকদল এর থেকে খানিক দূরে থাকতেই পছন্দ করে। বিরোধী শিবির দিকে দিকে ইফতার আয়োজন করলেও, বিজেপি আয়োজিত ইফতার খুব একটা শোনা যায় না। খোদ মোদি রাষ্ট্রপতি ভবনের ইফতারে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ স্বচ্ছন্দে এরিয়ে যান। চলতি বছরেও ব্যতিক্রম হয়নি। নিজেদের আয়োজন দূরে থাক, অন্য কারও ইফতারে যোগ দেননি মোদি। তবে অন্য রকম পদক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইদ উপলক্ষে বিশেষ এক উপহারের বাক্স পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। উপহার পাবেন মুসলিমরাই। সংখ্যায় প্রায় ৩২ লক্ষ। জানা গিয়েছে, ইফতারের সামগ্রী থাকবে ওই বাক্সে।
:আরও শুনুন:
ইফতারের আয়োজন করেছিলেন বাজপেয়ীও, ইফতারেই থেমেছিল সাম্প্রদায়িক অশান্তি
আসলে, বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার তরফেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে মোদির নাম জোড়া হয়েছে প্রচারের আশায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে প্রধানমন্ত্রী নাম লেখা ইফতারের সামগ্রী। তুলে দেওয়া হবে সেইসব মুসলিমদের হাতে, যাঁদের এই আয়োজনের সামর্থ্য নেই। এর আগেও আজমের দরগায় চাদর চড়িয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন মোদি। এবার ইফতারেও এমনটাই দেখা গেল। তবে মোদি নিজে হাতে এই উপহার কারও হাতে তুলে দেবেন কি না, তা জানা যায়নি। ইদ উপলক্ষে গোটা দেশের মুসলিমরা আনন্দে মেতে উঠুক, এই বার্তায় যাবতীয় দায়িত্ব সারবেন তাঁর দলের কর্মীরাই। ইতিমধ্যেই ৩২ হাজার দলীয় কর্মীকে উপহারের বাক্স পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এত বড় কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতিও অল্পদিনে সম্ভব নয়। তাও কোথাও কোনও খুঁত রাখতে নারাজ সংখ্যালঘু মোর্চা। সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিতে তাদের এই উদ্যোগ সফল হোক, এমনটা চাইছেন বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় নেতারাও।