সামান্য একটা বেলপাতা। আর গঙ্গাজলে স্নান। এতেই তুষ্ট ভোলা মহেশ্বর। যে কোনও দিন তাঁর পুজো করা যায়। তবে শিবরাত্রির দিনটি বিশেষ। এইদিনে মহাদেবের পুজো করলে মেলে বিশেষ ফল। চলতি বছরে শিবরাত্রির দিনক্ষণ কবে? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী। পুরাণমতে এই তিথি দেবাদিদেব মহেশ্বরের অত্যন্ত প্রিয়। নিষ্ঠাভরে মহেশ্বরের পুজো করলে সারা বছর ভালো কাটে ব্রতীর। অনেকে বিভিন্ন মনস্কামনা নিয়েও এই ব্রত করে থাকেন। কথিত আছে, সেই সবই পূরণ হয়ে মহাদেবের আশীর্বাদে। চলতি বছরে এই শিবরাত্রি পড়েছে ১৪ ফাল্গুন। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসেবে ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখ। তবে পঞ্জিকায় যেভাবে তিথির সময় উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে অনেকেরই মনে হচ্ছে শিবরাত্রি ২৭ তারিখ।
:আরও শুনুন:
শুধুমাত্র শিবরাত্রিতেই খোলা, তাও উপচে পড়ে ভিড়! কী মাহাত্ম্য এই শিবমন্দিরের?
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা বলছে, এই বছর চতুর্দশী তিথি ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টা ১০মিনিটে শুরু হয়ে, পরদিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ৫৫ অবধি থাকছে। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতেও সময়ের খুব একটা হেরফের নেই। অর্থাৎ ২৬ তারিখ চতুর্দশী শুরু হয়ে পরদিন ২৭ তারিখ সকাল অবধি থাকছে। সেই হিসাবে দুদিনই শিবরাত্রি পুজো করা যায় কি না, এই প্রশ্নই জন্মেছে সকলের মনে। এক্ষেত্রে শাস্ত্রের নিয়ম কী বলছে সেদিকে লক্ষ রাখা যাক।
:আরও শুনুন:
বেলপাতার বদলে তুলসী, রুদ্রাভিষেক নিষিদ্ধ, কোথায় রয়েছে এমন শিবমন্দির?
আসলে, সমস্ত পুজোর নির্দিষ্ট কিছু সময় থাকে। পঞ্জিকা স্রেফ তিথির উল্লেখ করে, কিন্তু কোন দেবতার পুজোর আদর্শ সময় কোনও তা বলা থাকে না। শাস্ত্র বলছে, কালী, কোজাগরী লক্ষ্মী সহ বেশ কিছু দেবীর আরাধনা রাতের আঁধারে করতে হয়। আবার সরস্বতীর আরাধনা করতে হয়, ভোরবেলা। শিবের ক্ষেত্রে দুই নিয়মই চলে। তবে শিবরাত্রি ব্রতে রাত্রি জাগরণ আবশ্যক। তাই তিথির হিসাবে যে রাতে চতুর্দশী পাওয়া যাবে সেই রাতেই মহাদেবের বিশেষ ব্রত পালনের নিয়ম। আর তাই নিয়ম মেনে যারা চার প্রহরে পুজো সারবেন, তাদের জন্য শিবরাত্রি পালনের তারিখ ফেব্রুয়ারির ২৬। তবে অনেকেই সারারাত জেগে থাকতে পারেন না। সকালে বাবার মাথায় জল ঢেলে ব্রত সারেন। তাঁদের জন্য ২৭ তারিখটি পালনীয় হতে পারে। এইদিন চতুর্দশী ছাড়ার আগে পুজো সেরে নিলে বিশেষ লাভ। যদিও শিব স্বয়ম্ভূ। তাঁকে যেকোনও দিন ভক্তিভরে স্মরণ করা যায়। তাতে শিবরাত্রির তিথি পেরিয়ে গেলেও সমস্যা নেই। কিন্তু কেউ যদি ব্রত পালনে আগ্রহী হন, তাহলে নিয়ম মেনে সারারাত জেগে চারপ্রহরে পুজো করাই শাস্ত্রমতে উচিত হিসেবে গণ্য হবে।