‘যেন রিংয়ে নেমেছেন মাইক টাইসন!’ কোর্টে প্রতিপক্ষ মনিকা সেলেসকে দেখে এভাবেই শিউরে উঠতেন স্টেফি গ্রাফ

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 1, 2021 10:51 pm|    Updated: May 1, 2021 11:53 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 1, 2021 10:51 pm Updated: May 1, 2021 11:53 pm

সেরার সিংহাসনে বসা আর তা অধিকার করে রাখার মধ্যে ফারাক অনেকখানি। মনিকা নিজের কেরিয়ারে প্রায় ১০০ সপ্তাহেরও বেশি ধরে রেখেছিলেন সর্বসেরার স্থান। তাঁর খেলার পদ্ধতি বিপ্লব এনেছিল টেনিসের জগতে। তথাকথিত ‘সার্ভ অ্যান্ড ভলি’-র বিকল্পে ‘ডবল ব্যারেল’, ‘টু ফিস্টেড স্ট্রোক’ ইত্যাদি এল মনিকার হাত ধরে। এল পাওয়ার টেনিস-এর যুগ।

ততদিনে কিশোরী মনিকাও পা দিয়েছেন যৌবনে;  তিনি সেলিব্রিটি। সারা দুনিয়া বুঁদ তাঁর ফ্যাশনিস্তায়। জামাকাপড়, হেয়ারস্টাইল সবেতেই তিনি আইকন। একইভাবে মাতিয়ে রাখছেন ১৯৫.৭ স্কোয়ার মিটারের মাঠ। তাঁর শর্টগুলো দেখতে সহজ মনে হলেও ভরা মাঠে দর্শকের সম্মিলিত আওয়াজকে ছাপিয়ে যায় শর্ট মারার আওয়াজ। তাতে স্পষ্ট মিশে থাকে পরিশ্রম আর সিদ্ধিলাভের যন্ত্রণা। মনিকার শক্তিতে অবাক যুযুধান প্রতিপক্ষ বিখ্যাত টেনিস প্লেয়ার নভ্রাতিলিভাও। পাতলা ছিপছিপে শরীরে দুটো সরু চড়াই পাখির মতো পা। তা নিয়ে কীভাবে যে প্রতিটা শর্ট নিখুঁতভাবে পাঠিয়ে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের কোর্টে, সেটাই বিস্ময়ের। পিটার উস্টিনোভ মনিকার চিৎকারের ধরন শুনে মজা করে বলেন, ওঁর বিয়ের রাতে প্রতিবেশীদের কথা ভেবে আমার দুঃখ লাগছে!’ বাঁ হাতের নিখুঁত সার্ভ, ঋজু শরীরে দৃপ্ত ভঙ্গিমায় শক্তিশালী রিটার্নের যোগ্য জবাব ছিল না কারও কাছেই। কিন্তু একবর্ণও ঔদ্ধত্য ছিল না। মায়াবী মুখে লেগে থাকত অমলিন হাসি। খেলার আগে আর পরে একেবারে অন্য মানুষ! শুধু খেলা চলাকালীন একেবারে চোয়াল শক্ত করা মাসাই যোদ্ধা। এক্কেবারে ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সুচ্যগ্র মেদিনী’ মানসিকতা।

১৯৯৩, ৩০ এপ্রিল। হ্যামবার্গে চলছে সিটিজেন কাপ। প্রতিপক্ষ ম্যাগদালেনা মালিভাকে প্রায় দুটো স্ট্রেট সেটেই হারিয়ে দিয়েছেন মনিকা। ছোট্ট একটা চেঞ্জ ওভার-এ বিশ্রাম নিচ্ছেন। জলটা নেওয়ার জন্যে নিচু হতেই হঠাৎ মেরুদণ্ডের গা ঘেঁষে খেলে গেল এক ঠান্ডা স্রোত! অসহ্য যন্ত্রণায় ভেঙে পড়লেন তিনি। সম্বিত ফিরলে বুঝলেন ধারালো এক ছুরির বেশ কয়েক ইঞ্চি ঢুকে গিয়েছে পিঠের মাঝামাঝি।
তারপর?
শুনে নিন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল