উধাও সন্ত কবীরের মরদেহ, সাদা থানের নিচে রাশি রাশি ফুলের স্তূপ!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 25, 2021 8:06 pm|    Updated: January 26, 2021 12:52 am

Published by: Sankha Biswas Posted: January 25, 2021 8:06 pm Updated: January 26, 2021 12:52 am

কেউ তালাবন্ধ হাজত থেকে বেরিয়ে এসেছেন অবলীলায়। অন্যের রোগ টেনে এনেছেন নিজের শরীরে। কেউ নিমেষে তালুবন্দি করেছেন কাঙ্খিত বস্তু। কেউ আবার একই সময়ে একাধিক জায়গায় থেকেছেন। বুদ্ধিতে এসবের ব্যাখ্যা মেলে না। অথচ বুজরুকি বললে ইতিহাসকে অপমান করা হয়। অণিমা, লঘিমা, গরিমা, প্রাপ্তি, প্রাকাম্য, মহিমা, ঈশিতা, বশিতা।

অষ্টসিদ্ধি করায়ত্ত করা সাধকদের খুঁজেছেন গৌতম ব্রহ্ম 

এক লহমায় ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল মহাপুরুষের সব শিক্ষা। দুই দিকে ঝকমক করছে খাপ-খোলা তরবারির সারি। যুদ্ধের মেজাজে দুই শিবির। এই মারে তো সেই মারে। হিন্দুদের দাবি, অগ্নিসংস্কার করা হবে কবীরের পূত দেহ। অন্যদিকে মুসলমানরা কোমর বেঁধেছে কবর দিতে। জীবনভর যে মানুষটি জাতপাতের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেলেন, তিনি চোখ বুজতেই এমন ভয়ংকর অবস্থা। তাঁর অনুগামীদের মধ্যেই সম্মুখ সমর! সামনে কুলকুল করে বয়ে চলেছে মগহরের অমী নদী। নদী পাড়ে একটি পরিত্যক্ত কুটির। তাতেই শায়িত কবীরের মরদেহ।

বারাণসী থেকে একটু আগেই পদব্রজে এখানে এসেছিলেন কবীর। পিছু পিছু একঝাঁক ঘনিষ্ঠ অনুগামী। তাঁদের শেষ বিদায় জানিয়ে শয্যা নিলেন মহা সন্ত। ধবধবে সাদা কাপড়ে সাধককে ঢেকে দিলেন রাজ সেনাপতি বিজলী খাঁ। তারপর কবীরের নির্দেশমতো সবাই কুটিরের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন। শুরু হয়েছে অপেক্ষা। কে জানত এই পর্বেই শুরু হবে সাধকের অন্তেষ্টি নিয়ে তুমুল ঝামেলা! পরিস্থিতি ক্রমশ নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গোরখপুরের অমী নদীর পাশে পেশী ফোলাচ্ছে দু’পক্ষ। হঠাৎ কবীরের পরম মিত্র নন্দু চিৎকার করে উঠলেন, “আপনারা থামুন। চলুন কুটিরের ভিতর।”

কিন্তু মরদেহ পথ দেখাবে কী করে?

সবাই কুটিরে ঢুকলেন। শায়িত সাধকের দেহ সাদা কাপড়ে ঢাকা। চিন্তায় আকুল নন্দু। বিবাদ মীমাংসার জন্য প্রাণপণে স্মরণ করছেন কবীরকেই। সাদা কাপড় সরাতেই বিস্ময়ে অভিভূত সবাই। মরদেহ উধাও! তার জায়গায় ফুলের স্তূপ, পদ্মের পাপড়ি। সুগন্ধে ম-ম করছে চারদিক। দু’পক্ষই সেই ফুল নিয়ে চলে গেল।

ঘটনার সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও কেউ এ পর্যন্ত কবীরের অন্ত্যেষ্টি নিয়ে আলোকপাত করতে পারেননি। বরং বারাণসীর কবীর বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই ‘কাহিনী’কেই মান্যতা দিয়েছেন। তাঁদের মত, সন্ত কবীরের নশ্বর দেহকে অদৃশ্য করে প্রতিভাত হয়েছিল যে ফুলের স্তবক, বারাণসীর হিন্দুদের তৈরি কবীরচৌরার সমাধিমন্দিরে তার অর্ধেক সংরক্ষিত রয়েছে। বাকিটা ঠাঁই পেয়েছে মগহরে মুসলিমদের তৈরি কবীর মাজারে। কবীরপন্থীদের কাছে দু’টিই তীর্থস্থান।

শুনুন…তারপর…

লেখা: গৌতম ব্রহ্ম
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল