যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মীয়দের রণসজ্জায় সজ্জিত দেখে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন অর্জুন। সেই বিষাদ কাটানোর দায়িত্ব নেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। সেদিন তিনি অর্জুনকে যা বলেছিলেন, তাই-ই গীতার জ্ঞানরাশি হিসাবে মানবসমাজে প্রচারিত। তবে স্রেফ কৃষ্ণ নয়, গীতা রয়েছে শিবের নামেও। আসুন শুনে নেওয়া যাক।
কথায় বলে যত্র জীব, তত্র শিব। তিনি অভয়শীল, সর্বদা কৃপাশালী এবং সদারক্ষাকারী। তিনি অল্পেই তুষ্ট। ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন। তিনিই আদিতম, দেবাদিদেব। তাঁর লীলাকথন মূলত বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন পুরাণে। তবে স্রেফ পুরাণ নয়, শিবের নামে রয়েছে গীতাও।
:আরও শুনুন:
চলতি বছরে দুইদিন শিবরাত্রি! শাস্ত্রমতে কোন দিন ব্রত পালন সঠিক, নেপথ্যে শাস্ত্রের কী ব্যাখ্যা?
শ্রীগীতায় ভগবান নিজের মুখে অর্জুনকে বলেছিলেন, অধর্ম বিনাশের জন্য, ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যুগে যুগে আবির্ভূত হন। এই কথার মধ্যে ইঙ্গিত আছে যে, ভগবান শুধুমাত্র অর্জুনের সময়কালে এসেছেন তা নয়, আগেও এসেছেন; পরেও আসবেন; আর তাঁর অমূল্য বাণী তিনি জগৎবাসীকে শুনিয়েছেন, মানুষকে উদ্ধার করতে। এই যে জ্ঞান, তা শাশ্বত। চিরন্তন। সময়ের আবর্তে কখনও সখনও তা ঢাকা পড়ে যায়। তখনই উত্থান ঘটে অধর্মের। আর সেই কালিমা মোচনের জন্য নেমে আসতে হয় ভগবানকে, অবতার রূপে। মহাভারতের অংশ হিসেবে এই গীতাই সর্বজনবিদিত। পরিচিত। তবে আরও অনেক ধরনের গীতা রয়েছে। শৈবগীতা তার অন্যতম। এখানে দশরথপুত্র রামচন্দ্রকে মহাদেব যে উপদেশ দিচ্ছেন তা সংকলিত রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আরও কয়েকটি ধাপে শিবগীতা বর্ণিত হয়েছে। জানা যায়, পদ্মপুরাণের অন্তর্গত এই শিবগীতা প্রথমে রামকে বলেছিলেন শিব। সনৎকুমারের কাছে তার পুনর্কথন করেছিলেন কার্তিক। সেখান থেকে ব্যাসদেব, এবং তারপর সুত অবধি এই গীতা এসে পৌঁছয়।
এবার আসা যাক, শিবগীতায় কী বলা হয়েছে। সবটা একেবারে বলা সম্ভব নয়, তবে রামায়ণের বড় একটা অংশ এর সঙ্গে সম্পর্কিত তা বলাই যায়। এখানে উল্লেখ রয়েছে বীরজা হোমের কথা। যার ভূমিকা তন্ত্রশাস্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরপরই নাকি রাবণ বধের জন্য পশুপাত অস্ত্র লাভ করেন রামচন্দ্র। আরও অনেক অস্ত্রের উৎস ছিল এই বিশেষ হোম। শীবগীতাতেও বিশেষভাবে বলা হয়েছে ব্রহ্মান্ডের বিলীন হওয়ার প্রসঙ্গ। যেখানে শিব বলছেন, সূর্য থেকে আলো উৎপন্ন হয়ে যেমন সেখানেই আবার ফিরে যায়, তেমনই নিখিল ব্রহ্মান্ড শিব থেকে উৎপন্ন হয়ে শিবেই বিলীন হয়। শুধু তাই নয়, শৈবগীতায় দেহতত্ত্বের উল্লেখও মেলে। মানবদেহের কতগুলি অস্থি, তরূনাস্থী সবকিছুর সম্পর্কেই সম্যক ধারণা দেয় এই গীতা। তা থেকে বলাই যায়, অর্জুন যেমন বিশ্বরূপে কৃষ্ণকে দেখেছিলেন, রামও তেমনি শিবকে দেখেছেন। শৈবগীতাতেই সেই ঘটনার ব্যাখ্যা রয়েছে বিস্তারে।