ডাল, সাবান, কিংবা শুকনো লঙ্কা। কখন কোনটা ফুরোবে, আগে থেকে হিসাব রাখা কঠিন। ভরসা পাড়ার দোকান। সেখানে সব মেলে। তাই অফিসফেরত বাজার অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু যেদিন অন্যকিছুর প্রয়োজন? বিশেষ করে ওষুধ। না কিনে উপায় নেই, এদিকে দোকান বহুদূর। অগত্যা সেদিকে পা বাড়ানো। এবার সেই ছবিটা খানিক বদলাবে। কেন্দ্রের নয়া নিয়ম বলছে, মুদিখানার দোকানেই মিলতে পারে ওষুধ! ব্যাপারটা ঠিক কেমন?
চাইলেই মনে রাখা যায়, তবু লিখে নিতে হবে। যত ছোটই জিনিস হোক, না লিখলে শান্তি নেই। বিশেষ করে বাঙালি বাড়িতে। যে লেখার কথা বলছি, তার পোশাকি নাম ফর্দ। লেখা থাকে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসের নাম ও পরিমাণ। ফর্দ মিলিয়ে বাজার থেকে সেসব আনতে হয়। কিন্তু এই তালিকায় কি প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকতে পারে?
আরও শুনুন:
‘হাতুড়ে’ ডাক্তারের ভূমিকায় এখন এআই! আদৌ ভরসাযোগ্য তো? চিন্তায় চিকিৎসকরা
শুনতে অবাক লাগাই স্বাভাবিক! ওষুধের সঙ্গে ফর্দ বিষয়টা ঠিক যায় না। যেখানে ফর্দে লেখা জিনিস উপলব্ধ, সেই দোকানে ওষুধ পাওয়াও যায় না। তবে এই ধারণা এবার বদলাচ্ছে। কেন্দ্রের নির্দেশেই বদলাচ্ছে। বলা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ, যা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায়, সেসব মুদিখানার দোকানেই মিলবে। কাফ সিরাপ থেকে জ্বর কিংবা পেইনকিলার ইত্যাদি অনেককিছুই সাধারণ কোনও দোকানে মিলতে পারে। হতেই পারে সেই দোকানে চাল, ডাল, আলু, সবজি কিংবা মশলাপাতি পাওয়া যায়। সেসবের পাশে কয়েকখানা কাফসিরাপের বোতল থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। মূলত গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজনীয় ওষুধের উপলব্ধি স্বাভাবিক করতে এমন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ পায়নি। জানা যাচ্ছে, এই নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশাসনের অন্দরে আলোচনা চলেছে। এই ধরনের ওষুধকে ওটিসি বা ওভার দ্য কাউন্টার ড্রাগ বলা হয়। যা আগামীতে যে কোনও দোকানে কিনতে পাওয়া যাবে। এতে মুদিখানার দোকানিরা বেজায় খুশি। বলাই বাহুল্য, বিক্রি বাড়বে।
আরও শুনুন:
চাওয়া মাত্র হাতের সামনে, তবেই তৃপ্তি! ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন বদলে দিচ্ছে সম্পর্কও
তবে ওষুধ দোকানের মালিকরা এই সিদ্ধান্তে মোটেও খুশি নন। তাঁদেরও মূল চিন্তা বিক্রি নিয়েই। পাশাপাশি এই অভ্যাস আরও অনেক বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এমনিতে নিজের ডাক্তারি নিজেই করে নেওয়া অনেকের অভ্যাস থাকে। সেক্ষেত্রে ওষুধ দোকানের অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্ট সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন। এবার যদি সেই ওষুধ দোকানে যাওয়ার বালাই না থাকে, তাহলে অনেকেই ভুল ওষুধ খেয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারেন। যদিও কেন্দ্রের তরফে যে যে ওষুধ সাধারণ দোকানে বিক্রির ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেনা যায়। সুতরাং এতটুকু বলাই যায় যে এতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তেমন নেই। তবে ওষুধ দোকানের মালিক সংগঠন বিষয়টা এত সহজে মেনে নেবেন না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সুবিধা যে হবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। পাশাপাশি আশঙ্কার দিকটাও একেবারে এড়ানো যাচ্ছে না। তবে বাজারের ফর্দে যদি একপাতা পেইন কিলার কিংবা কাফ সিরাপ লেখা থাকে, তাহলে অনেকেই যে প্রথম প্রথম বেজায় ঘাবড়ে যাবেন তা নিশ্চিত!