কাশ্মীরে মর্মান্তিক সন্ত্রাস হামলার জের, ভারত ছাড়ার নোটিশ পেয়েছেন পাকিস্তানিরা। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘদিন ভারতের বাসিন্দা। তবু কাউকে রেয়াত করা হয়নি। পরিবার, পরিজন সব ভারতে, অথচ জন্মসূত্রে পাকিস্তানিদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিজের দেশে। ব্যতিক্রম বিহারের দুই মহিলা। কোন শর্তে অনুমতি পেলেন তাঁরা?
জন্মসূত্রে পাকিস্তানি। অথচ এখনই ভারত ছাড়তে হচ্ছে না। নিশ্চিন্তে থাকার সুযোগ রয়েছে। তাও কোনও অবৈধ উপায় অবলম্বন না করেই। জানা যাচ্ছে, এই সুবিধা পেয়েছেন বিহারের দুই মহিলা। কিন্তু কোন ক্ষমতার বলে এমনটা করতে পারছেন তাঁরা?
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত এদেশে পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই অনেকে নোটিশ পেয়েছেন দেশছাড়ার। সে তালিকায় সীমা হায়দারের মতো জনপ্রিয়, চর্চিত চরিত্রও রয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন এমন অনেক মানুষ, যারা কয়েক দশক এ দেশের বাসিন্দা। স্বাভাবিক ভাবেই পাকিস্তানে ফিরতে নারাজ তাঁরা। মোটের উপর সকলেই দেশের থাকার অনুমতি চেয়েছেন। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর কাছেও সওয়াল করেছেন। এসবের ভিড়ে ব্যতিক্রম বিহারের দুই গৃহবধূ। এঁরা জন্মসূত্রে পাকিস্তানি। কিন্তু এখনই তাঁদের দেশ ছাড়তে হচ্ছে না। প্রশাসনের তরফে এই ধরনে কোনও নোটিশ তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি। খোদ পুলিশ আধিকারিকও বলেছেন, এতে কোনও সমস্যা নেই। বিষয়টা ভালো করে খতিয়ে দেখেই বিষয়টা ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তবে এমন সুবিধা ভারতে বসবাসকারী আর কোনও পাকিস্তানিকে দেওয়া হয়নি। কারণ, যে বিশেষ শর্তে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা বিহারের ওই দুই মহিলার পক্ষেই আদায় করা সম্ভব।
কারণ, তাঁদের কাছে রয়েছে ‘লং টার্ম ভিসা’। জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিহারের ভোজপুর জেলার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই বিশেষ ভিসা থাকলে পাকিস্তানি হলেও ভারতে থাকার অনুমতি রয়েছে। আসলে সাধারণ ভিসা অপেক্ষা এই ভিসার ক্ষমতা খানিক বেশি। ৬০ দিন থেকে ৫ বছর অবধি এর বৈধতা হতে পারে। এর জোরেই বিহারের দুই মহিলার ২০২৮ ও ২০৩২ অবধি ভারতে থাকার অনুমতি রয়েছে। আর তাই পুলিশের তরফেও তাঁদের কোনও নোটিশ পাঠানো হয়নি। এতক্ষণ যাঁদের সম্পর্কে কথা হল, তাঁরা আসমা ও আসরি। জন্মসূত্রে এঁরা পাকিস্তানি। তবে বিয়ে হয়েছে ভারতে। ১৯৯৫ সালে ২ মাসের ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন আসরি বেগম। কিন্তু এখানে এসে তাঁর বিয়ে ঠিক হয় বিহারের আলমগির কুরেশির সঙ্গে। সময়মতো সেই বিয়ে সম্পন্নও হয়। তারপর থেকে এখানেই রয়ে গিয়েছেন আসরি। সন্তান হয়েছে, তাঁদেরও বড় হওয়া এ দেশেই। এর মাঝে ভারতের নাগরিকত্ব চেয়ে বহুবার আবেদন জানিয়েছেন আসরি। কিন্তু লাভের লাভ হয়নি। গৃহমন্ত্রক সরাসরি না বললেও তাঁর ভারতবাসকে পাকাপাকি স্বীকৃতি দেয়নি। তবে আসরির লাভ হয়নি বলা ভুল। কারণ প্রতিবারই তাঁর ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টা ওই লং টার্ম ভিসার মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই মুহূর্তে আসরির ভিসা ২০৩২ অবধি তাঁকে ভারতে থাকার অনুমতি দিচ্ছে। আর সেই জোরেই কাশ্মীরের ঘটনার পরও এ দেশে থাকতে পারছেন তিনি।
আসমার গল্পটাও খানিকটা এক। জন্মসূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক ইনিও। কিন্তু বিয়ে হয় বিহারের ভোজপুর জেলার ওয়াসির আহমেদের সঙ্গে। এরপর থেকে ভারতই তাঁর ঠিকানা। মাঝে ভিসার জন্য পাকিস্তান যেতে হয়েছে বহুবার। কিন্তু প্রত্যেকবার আরও বেশিদিন থাকার অনুমতি নিয়ে ভারতে ফিরেছেন আসমা। শেষমেশ ২০২২ সালে ভারত সরকারের বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে পাকিস্তান পাড়ি দেন আসমা। এর ছাড়পত্র অনুযায়ী তাঁর পুনরায় ভারত ফিরে আসায় কোনও বাধা ছিল না। এবার তিনি ফিরেছেন ২০২৮ অবধি ভারতে থাকার অনুমতি নিয়ে। কাজেই আরও কয়েক বছর আসমার ভারতে থাকা নিয়ে কারও আপত্তি চলবে না। ভোজপুরের পুলিশ আধিকারিকও সেই শর্তের কথা মনে করিয়েই, দুই মহিলার ভারতে থাকা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেননি। তবে একথাও সাফ জানিয়েছেন, এই দুজন ছাড়া আর কোনও পাকিস্তানির এই মুহূর্তে দেশে থাকার অনুমতি নেই।