গ্রাহাম বেলের আবিষ্কারের মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই কলকাতা প্রথম শুনে ফেলেছিল টেলিফোনের ক্রিং ক্রিং

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 17, 2021 2:00 pm|    Updated: March 17, 2021 2:00 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 17, 2021 2:00 pm Updated: March 17, 2021 2:00 pm

তখনও শহরে গ্যাসের বাতি জ্বলে আর তারই মাঝে হাতে গোনা কয়েকটি বাড়ি থেকে ভেসে আসে সেই ধ্বনি– ক্রিং ক্রিং…

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে টেলিফোনের প্রথম যুগের গ্রাহক ছিল মাত্র পঞ্চাশ জন। সেই তালিকায় বাঙালি ছিল একজনই: ‘শিবকৃষ্ণ দাঁ এন্ড কোং’-এর তৎকালীন মালিকপক্ষ। আর ১৮৮২ সালে সেই গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪ জনে। ব্যক্তিগতভাবে যে বাঙালি প্রথম টেলিফোন ব্যবহার করেন, তিনি হলেন বাবু সাগরলাল দত্ত। পেশায় তিনিও ছিলেন এক ব্যবসায়ী। কলুটোলার কাছে ১৪ নম্বর গোপালচন্দ্র লেনে ছিল তাঁর বাড়ি।

কলকাতায় প্রথম টেলিফোন গাইডটি বেরিয়েছিল ১৮৮২ সালেই। তখন অবশ্য সেই ঢাউস চেহারাটা হয়নি, তার পৃষ্ঠাসংখ্যা তখন ছিল মাত্র এক। ১৯২৪ সালের টেলিফোন ডিরেক্টরি খুলে আপনি যদি ডায়াল করে অপারেটরকে বলতেন ‘পুট মি অন বড়বাজার নাইন্টিন ফর্টি ফাইভ’, উলটোদিকে হয়তো শুনতে পেতেন রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠ। আর দক্ষিণ সিক্স এইট্টিন চাইলে ফোন ধরতেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস।

ওই বছরই, অর্থাৎ ১৮৮২ সালেই প্রকাশ পেয়েছিল ‘এরিকসন মডেল’-এর টেলিফোন ক্যাটালগ। সে অদ্ভুত-অদ্ভুত সব টেলিফোন! কোনওটা ল্যাজঝোলা, কোনওটা মুকুটপরা, কোনওটার রিসিভার আবার হাতির শুঁড়ের মতো দেখতে। বিচিত্র বাহারি সেইসব টেলিফোন ছিল আভিজাত্যের পরিচয়বাহী, বৈঠকখানার মধ্যমণি সেইসব টেলিফোন যখন ঝংকার তুলে বাজত, গমগম করে উঠত চারপাশ, ছোটাছুটি পরে যেত বাড়িময়।

এরই মধ্যে জানা গেল ‘ওরিয়েন্টাল টেলিফোন কোম্পানি’ গঙ্গার নিচ দিয়ে লাইন পাতছে হাওড়া পর্যন্ত, টেলিফোন এবার ছড়িয়ে পড়বে বাংলার সর্বত্র– ঘটা করে সে খবর ছাপা হল ১৮৮৩-তে, এক জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিকে। এই খবর পেয়ে বাজার ধরতে সাগর পাড় থেকে ছুটে এল ‘ক্রসলি টেলিফোন কোম্পানি’। শুধু কলকাতা নয়, গোটা বাংলায় টেলিফোন কানেকশন ছড়িয়ে দিতে এইবার তৈরি হল ‘বেঙ্গল টেলিফোন কোম্পানি লিমিটেড’। তারা বিজ্ঞাপন দিয়ে জানাল যে– ব্যবসায়ী, ব্রোকার, আইনজীবীরা গ্রাহক হলে তাঁদের দিতে হবে ৩০০ টাকা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের ২০০ টাকা আর সাধারণ গ্রাহকদের বাড়ির কানেকশনে ১০০ টাকা। কানেকশনের সঙ্গেই তারা দেবে ‘বেল ব্ল্যাক’, ‘গোয়ার বেল’, ‘এডিসন গোয়ার বেল’—এর মতো টেলিফোনের মডেলগুলি। মোট কথা, টেলিফোন ব্যবস্থার প্রসার আর প্রচারে নেমে পড়ল বিলিতি কোম্পানিগুলি।

তারপর? শুনে নিন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল