কখনও শোনা গিয়েছে আজানের ধ্বনি কখনও বা নারীকণ্ঠের আর্ত চিৎকার, অসমাপ্ত ফুটি মসজিদ আজও রহস্যময়

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 7, 2021 10:46 pm|    Updated: May 8, 2021 11:03 am

Published by: Sankha Biswas Posted: May 7, 2021 10:46 pm Updated: May 8, 2021 11:03 am

১৭৪০ খ্রিস্টাব্দ। নবাব সরফরাজ খাঁ এই ফুটি মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নিলেন। সরফরাজ ছিলেন নবাব মুর্শিদকুলির দৌহিত্র। নবাব পদে আসীন হওয়ার পর নিজের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে বানাতে চেয়েছিলেন এই মসজিদ।
প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক নিয়োগ করেছিলেন সরফরাজ। নির্দেশ ছিল, কোথাও কোনও খামতি থাকা চলবে না। নবাবের নির্দেশ অমান্য করবে কার সাধ্যি? পুরোদমে কাজ শুরু হলেও বাধ সাধল অন্য জায়গায়। দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিখুঁতভাবে মসজিদ তৈরির নির্মাণযজ্ঞে ঝাঁপ দিয়েছিলেন যে-শ্রমিকরা, হঠাৎই শ্রমিকরা বন্ধ করে দিলেন কাজ, এবং নতুনভাবে কাজ শুরু করতেও অস্বীকার করলেন!
কারণ হিসেবে লোকমুখে শোনা যায়, নবাব হঠাৎ একদিন মসজিদ পরিদর্শনে যান। নবাবের নির্দেশে ডাকা হয় সকল শ্রমিকদের। সেই সময় এক অদ্ভুত ঘটনার কথা শোনা যায়। কাজ শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই একজন অতিরিক্ত শ্রমিক নাকি মসজিদ তৈরির সঙ্গে যুক্ত। তিনি কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন অথচ তাঁকে নাকি কেউ চেনে না! এই ঘটনার পর নবাব নিজের চেষ্টায় খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন সেই বিশেষ শ্রমিকের সম্পর্কে। অনেক চেষ্টা করেও কোনও সন্ধান মেলে না। এদিকে বিশেষ এক ব্যক্তির অস্তিত্ব যে রয়েছে এমন দাবিকে নস্যাৎও করা যাচ্ছে না। এই অদ্ভুত ঘটনার পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ভয়ের বাতাবরণ। কেউ আর কাজ করতে রাজি হন না। তাঁরা মনে করেন, নিশ্চয়ই কোনো অশরীরীর প্রভাব পড়েছে মসজিদের উপর। শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় মসজিদ নির্মাণের যাবতীয় কাজ। আশ্চর্যের বিষয়, কাজ বন্ধ হওয়ার পরেও মসজিদের আরও কিছুটা অংশ তৈরি হয়ে যায়! এর কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি কেউ। নবাবও আর মসজিদ নির্মাণ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। তারপর থেকেই নাকি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় নানা অস্বাভাবিক আচরণ ঘটতে দেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এমন কী কী দেখে ও শুনেছেন স্থানীয়রা যাতে ‘ভুতুড়ে মসজিদ’ নামকরণে বাধ্য হন?

শুনে নিন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল