১৩৫ বছর ধরে স্বাধীনতার অমোঘ চিহ্ন রূপে দাঁড়িয়ে থাকা আমেরিকার ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’র জন্ম আদতে ফ্রান্সে

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 27, 2021 6:33 pm|    Updated: May 28, 2021 12:16 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 27, 2021 6:33 pm Updated: May 28, 2021 12:16 pm

স্ট্যাচু অফ লিবার্টির পূর্ববর্তী নাম ছিল ‘লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্য ওয়ার্ল্ড’। বিশ্বখ্যাত এই স্মৃতিসৌধের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করছে। মূর্তির কথা জানতে হলে আপনাকে ফিরে যেতে হবে আমেরিকান বিপ্লবের সময়কালে। গ্রেট ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক অত্যাচারের বিরুদ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপ্লবে ফ্রান্স ছিল আমেরিকার মিত্রশক্তি। ১৭৭৬-এর ৪ জুলাই স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১৮৬৫-তে ফরাসি রাজনৈতিকবোদ্ধা এবং দাসপ্রথা-বিরোধী কর্মী এডওয়ার্ড ডি লাবুলায়ি প্রস্তাব রাখেন– আমেরিকার জন্য স্বাধীনতার প্রতিনিধিত্বকারী একটি মূর্তি তৈরি করা উচিত। তিনি এও বলেন যে, এই স্মৃতিসৌধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্সের সঙ্গে আমেরিকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সম্মান করবে।  ভেবেছিলেন, এই মূর্তি নির্মাণ করে আমেরিকাকে উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নেপোলিয়ন দ্য থার্ড-এর অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন। একেবারে এক ঢিলে দুই পাখি মারার প্রয়াস আর কী!

সেই সময় ঘটল আরেক ঘটনা। ফরাসি ভাস্কর অগাস্ট বার্থল্ডি, ডি লাবুলায়ির ধারণাকে সমর্থন করলেন এবং ১৮৭০ সালে তিনি শুরু করলেন এই মূর্তির নকশা আঁকা। যেটি ছিল কিনা ‘লিবার্টি এনলাইটেনিং দ্য ওয়ার্ল্ড’। বার্থল্ডি মূর্তির নকশা করার সময় ১৮৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেন। সেসময় মূর্তি বসানোর জায়গা হিসেবে বেছে নেন বেডলয়-এর দ্বীপ। দ্বীপটি খানিক ছোট হলেও নিউ ইয়র্ক হারবারে প্রবেশকারী প্রতিটি জাহাজের কাছে দৃশ্যমান ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই বার্থল্ডি এটিকে ‘আমেরিকার প্রবেশদ্বার’ হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। তা নকশার চিত্রাঙ্কন তো হল, ভ্রমণ করে মূর্তি বসানোর জায়গাও স্থির হল। এবার নির্মাণের কাজ তো শুরু করতে হবে নাকি?

সেটি শুরু হল বার্থল্ডির আমেরিকা ভ্রমণের আরও পাঁচ বছর পর, ১৮৭৬ সালে। বার্থল্ডির নির্দেশে ফরাসি কারিগররা ফ্রান্সে মূর্তি নির্মাণ শুরু করেন। মূর্তির যে-বাহুতে টর্চটি রয়েছে সেটির নির্মাণ শেষ হওয়ার পর ঘটে আরেকটা ঘটনা। ‘ফিলাডেলফিয়া ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোজিশন’-এ প্সেটিকে প্রদর্শন করানো হয়। ১৮৭৮ সালে মাথা এবং কাঁধটি সম্পন্ন হওয়ার পরে তা প্রদর্শিত হল ‘প্যারিস ইউনিভার্সাল এক্সপোজিশন’-এ প্রদর্শন করানো হয়। মূর্তি তৈরি শেষ হতে সময় লাগে প্রায় চার বছর। অর্থাৎ ১৮৮১ এবং ১৮৮৪ সালের মধ্যে প্যারিসে এটি তৈরির কাজ প্রায় সমাপ্ত হয় এবং সব অঙ্গগুলোকে একত্রিত করা হয়।

এখন নির্মাণ করা তো হল, আমেরিকার বেডলয়তে সেটিকে আনা হবে কীভাবে?
শুনে নিন…

লেখা: দেবসেনাপতি ও সোহাগ
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল