‘কোভিড ১৯’ এর বিভিন্ন টেস্টে ফলস পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? তা নিয়ে চলছে দর কষাকষি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 12, 2021 1:19 pm|    Updated: May 12, 2021 1:20 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 12, 2021 1:19 pm Updated: May 12, 2021 1:20 pm

এই নতুন অসুখের আশঙ্কায় অনেক লোক টেস্ট করালেন। ধরা যাক, আপনার রেজাল্ট এল পজিটিভ। যদি প্রশ্ন করি, তাহলে আপনার এই অসুখ থাকার সম্ভাবনা কত? এই প্রশ্নের উত্তরে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের বেশির ভাগ ছাত্র এবং ডাক্তার বলেছিলেন শতকরা পঁচানব্বই ভাগ। পুরোপুরি না হলেও মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে বলা ক যায় আপনার অসুখ হয়েছে। এই নিয়ে একটি লেখা বেরিয়েছিল। চিকিৎসাবিদ্যার জগতে বিখ্যাত জার্নাল ‘নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’-এ, ১৯৭৮ সালে।

কিন্তু যদি বলি উত্তরটা ভুল? মারাত্মক রকমের ভুল! ঠিক উত্তর হল: শতকরা মাত্র দুই ভাগ! অন্যদিকে ঘুরিয়ে বলা যায়, যাদের টেস্ট পজিটিভ হয়েছে তাদের মধ্যে শতকরা ৯৮ জনেরই অসুখ নেই। আঁতকে উঠছেন তো?

হিসাবটা কিন্তু খুব সহজ। ধরা যাক, এক হাজার লোক জড়ো করা হল। এদের মধ্যে শুধু একজনের অসুখ থাকার কথা। বাকি ৯৯৯ জনের অসুখ নেই। এবার আমরা জানি যে, অসুখ নেই এমন শতকরা পাঁচজনের এই টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট আসবে। ৯৯৯ জনের পাঁচ শতাংশ হল ৪৯.৯৫, মানে ৫০ জন (মানুষের তো আর ভগ্নাংশ হয় না!)। এর অর্থ, মোট একান্ন জনের টেস্ট পজিটিভ আসবে। সেই দুর্ভাগা লোকটিকেও যোগ করছি, যার অসুখ হয়েছে। কিন্তু, এদের মধ্যে মাত্র একজনেরই অসুখ হয়েছে। অর্থাৎ, টেস্টে পজিটিভ এলে অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা হবে গিয়ে একান্নতে এক, অথবা শতকরা প্রায় দুই ভাগ!

সোজাসাপটা হিসাব। তাহলে, বেশিরভাগ ডাক্তারির ছাত্র এবং শিক্ষক ভুল করলেন কেন? সম্ভাবনার এই অঙ্কটি কিন্তু দ্বাদশ ক্লাসেই শেখানো হয়। আমাদের দেশেও। কিন্তু, জিজ্ঞেস করে দেখুন, এখনও ওই একই ভুল উত্তর পাবেন। কারণ, আমরা চট করে ওই পাঁচ শতাংশের কথা ভেবে মনে করি যে টেস্টে পজিটিভ এলে পঁচানব্বই শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে অসুখ থাকার। খতিয়ে ভাবতে চাই না। আর অনেকসময় এমনভাবে খবর পেশ করা হয় যাতে আমরা ভয় পেয়ে আগেই খারাপ দিকগুলো ভাবতে শুরু করি। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, যদি এই অসুখ হাজারে একজনের না হয়ে দু’হাজারে একজনের হত, তাহলে এই সম্ভাবনা কমে গিয়ে হত শতকরা একভাগ।

এই অঙ্কটি প্রথম করে দেখিয়েছিলেন ? ইংল্যান্ডের এক পাদ্রি। নাম, রেভারেন্ড থমাস বেইজ। আঠেরো শতকের মাঝামাঝি। এদেশে তখন মির কাশিমের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ বাধে। এই সময়ে, ১৭৬৩ সালে, রেভারেন্ড বেইজের মৃত্যুর পর তার লেখা একটি প্রবন্ধ পড়ে শোনানো হয় লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটিতে। সেখানে সম্ভাবনার অঙ্কগুলোকে অন্যদিক দিয়ে দেখার চেষ্টা লক্ষ করা যায়। এর আগে সম্ভাবনা তত্ত্ব ছিল অনেকটা মোটা দাগের।

লেখা: বিমান নাথ
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল