কালো বিড়াল কি সত্যিই অপয়া নাকি সৌভাগ্যের প্রতীক! দুনিয়া জুড়ে রয়েছে নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কাহিনি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 10, 2021 9:28 pm|    Updated: March 10, 2021 9:28 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 10, 2021 9:28 pm Updated: March 10, 2021 9:28 pm

পোপ নবম গ্রেগরি ঘোষণা করলেন কালো বিড়াল নাকি ‘স্যাটান’ অর্থাৎ শয়তানের মর্ত্যলোকের অবতার। শোনা যায় ইউরোপে প্লেগ মহামারীর রূপ ধারণ করলে প্রচুর কালো বিড়াল স্রেফ পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়েছিল। কারণ তাদের কপালে জুটে ছিল ডাইনিদের বাহন এবং দুর্ভোগের আহ্বায়ক এই মর্যাদাও! যদিও এই কান্ডের প্রধান হোতা ইঁদুর শিকারি বিড়াল হত্যায় প্লেগ আরো ছড়িয়ে পড়েছিল বলে শোনা যায়। হায় রে মানুষ। ডাইনি তকমা লেগে যাওয়ায় প্রায় অচ্ছুৎ হয়ে উঠলো কালো বিড়াল।

‘সালিম উইচ ট্রায়াল’ সারা পৃথিবীর বুকে কালো দাগ কেটে গেলেও তার পর থেকেই কালো বিড়াল হয়ে উঠলো ‘হ্যালোউইন’ এর অন্যতম মুখ্য চরিত্র। আজও ব্রিটেন এবং আমেরিকায় বার্ষিক ‘ব্ল্যাক ক্যাট অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’ পালন হলেও এই প্রাচীন সংস্কারে লৌকিকতার গন্ধ আজও থেকে গেছে। তবে সারা পৃথিবীর গল্প ঘেঁটে দেখলে একটু অবাকই হতে হয়। অনেক দেশেই কিন্তু কালো বিড়ালকে শুভ লক্ষণ বা সৌভাগ্যের প্রতীক ধরা হয়! যেমন ধরুন জার্মানির কথা! সেখানে বিড়াল বাম দিক থেকে ডান দিকে পথ কেটে গেলে অত্যন্ত শুভ মানা হলেও ডান দিক থেকে বাম দিকে গেলে ভয়ঙ্কর অমঙ্গলের ইশারা! কালো বিড়ালের সাথে ডাইনি পরম্পরার যোগসূত্র অবশ্য বেশ আদিম। দেবী ডায়না ছিলেন রোমান শিকারের দেবী। ডায়না পরবর্তী কালে ডাইনিদের দেবীতে রূপান্তরিত হন। তাঁর অনুগামীরা কালো বিড়ালের অনুকরণে পোশাক ব্যবহার করা শুরু করেন। সেই থেকে ধরে নেওয়া হতে লাগল, কালো বিড়াল ডাইনিদের অনুচর এবং তারা নানা রূপ ধারণ করতে পারে।

প্রাচীন মিশরে আবার ঘরে ঘরে পোষ্য থাকতো এই কালো বিড়াল। তারা ছিল দেবী বাস্তেট এর প্রতীক। উক্ত দেবীর কালো বিড়ালের সাথে গভীর যোগসূত্র থাকায়, বিড়ালকে তাঁর প্রতিভূ বলে তাদের পুজো করা হত বলে শোনা যায়।

সতেরো বা আঠেরো শতাব্দীতে স্কটল্যান্ড-এর নাবিকদের মধ্যেও এই কালো বিড়াল নিয়ে নানান কুসংস্কার প্রচলিত ছিল। তাঁরা তাদের সমুদ্র যাত্রায় সঙ্গে রাখত কালো বিড়াল; তবে দুর্ভাগ্যের বদলে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে। যদি কোনো জাহাজ থেকে বিড়াল বাবাজি গোঁসা করে নেমে যেতেন তাহলে নাকি জাহাজ-ডুবি অবধারিত। তাই বহাল তবিয়তে তাদেরকে রাখার জন্য খাতির খিদমতের কমতি ছিল না, থাকত একেবারে রাজার হালে। এমনকি নাবিকদের ঘরেও তাদের পত্নীরা শুভযাত্রা কামনা করে পোষ্য রাখতেন মা ষষ্ঠীর বাহনদের! স্কটল্যান্ডের বড়লোকেরা আবার আভিজাত্যের শো অফ করতে ঘরে রাখতেন কালো বিড়াল। আর্থিক প্রাচুর্যের পরিচয় দিতে মধ্য ইংল্যান্ড এমনকি স্ক্যান্ডেনভিয়ার নানা জায়গায় পোষ্য রাখা হত তাদের।

শুনুন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শুভাশিস চক্রবর্তী

পোল