ভারতের অন্যতম আলোচিত আন্তঃধর্মীয় বিয়ে, কেমন ছিল ষোড়শী স্ত্রীর সঙ্গে চল্লিশের জিন্নার দাম্পত্য?

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 12, 2021 5:13 pm|    Updated: February 15, 2021 8:21 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 12, 2021 5:13 pm Updated: February 15, 2021 8:21 pm

আইনি ক্ষেত্রে মুসলিমদের–অমুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে বিরাট কোনও বিরোধ না থাকলেও মহম্মদ আলি জিন্না নিজের ব্যক্তিগত ধর্মীয় মনোভাবের কারণে চাইতেন স্ত্রী মুসলিম হোক। আসলে, বেশ কিছু প্রগতিশীল মুসলিমের মতো জিন্নাও ইসলামের বিশেষ কোনও শ্রেণিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। রুটি শুধু ইসলাম গ্রহণ করুন, কোনও বিশেষ ভেদের দরকার নেই, এটুকুই চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইসলামি সুপ্রিম কাউন্সিল সেই প্রস্তাব মানতে নারাজ ছিল। এদিকে রুটি নিজেও অত্যন্ত আলোকপ্রাপ্ত মহিলা। ধর্মান্তরকরণ নিয়ে তাঁকে বিশেষ জোর করাও উচিত নয়। তাই জিন্না তৎকালীন প্রখ্যাত সাংবাদিক সৈয়দ আবদুল্লা বরেলভি মারফত নানা ইসলামি বই রুটিকে পড়তে দেন। যদিও নিশ্চিত করে দেন, শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন রুটিই। সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী এবং ধর্মীয় বক্তা মৌলানা নাজির আহমেদ খউজানদি ১৮ এপ্রিল, ১৯১৮–এ, বোম্বের জামিয়া মসজিদে রুটিকে সুন্নি মতে ইসলাম গ্রহণ করান। তাঁর নাম পরিবর্তনের দরকার ছিল না, কারণ ‘রত্তন’ নামটি গুজরাতি মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল ভালমতোই। কিন্তু মৌলানার পরামর্শ মেনেই আরও খানিক ইসলামি শুনতে লাগে এমন নাম বাছার সিদ্ধান্ত হয়। রুটির নতুন নাম হয় ‘মরিয়ম’। আজীবন সরকারি নথি এবং অন্যান্য কাগজপত্রে অবশ্য তিনি ‘রত্তনবাই’ নামটিই ব্যবহার করেছিলেন।

বিয়ের পর তাঁদের দু’জনের নামে কুৎসিত সব ব্যক্তিগত আক্রমণ চলছে––– খবরের কাগজ, সভা থেকে মাইকে, এমনকী, লিফলেটও বিলি হচ্ছে দেদার। সংবাদপত্রগুলি এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আগ্নেয়গিরি উগরাতে থাকে। ফারসি মালিকানাধীন খবরের কাগজগুলির সঙ্গে উর্দু খবরের কাগজগুলি একেবারে বেয়াড়া বিল্লির মতো খামচাখামচি শুরু করে। ১৯১৮–র ১৯ এপ্রিল ফারসি কাগজ ‘কাইসার-এ-হিন্দ’ এবং ‘জাম-এ-জামশেদ’ এই বিয়ের দিনকে ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’ বলে ঘোষণা করে। রত্তনবাইয়ের ইসলাম ধর্মান্তকরণের জন্য শুধু জিন্নাকেই নয়, কাঠগড়ায় তোলা হয় গোটা মুসলিম সমাজকেই। লাহোরের উর্দু খবরের কাগজ ‘প্যায়সা আখবার’ও তাঁদের বিরুদ্ধে সব হুমকিমূলক প্রতিবেদন লিখতে শুরু করে। এও বলা হতে থাকে যে, বাপের বয়সি একটা লোক ওরকম এক সুন্দরী রমণীকে পায় কী করে! যদি সঠিক নির্বাচন প্রক্রিয়া থাকত, কোনদিনও মিস্টার জিন্না প্রার্থী হতে পারতেন না।

ফারসি রিলিজিয়াস কাউন্সিল অথবা পঞ্চায়েত থেকেও এই বিয়ের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। ১৯১৮-র ২৬ মে ফারসি সমাজের তৎকালীন প্রধান পুরোহিত রুটি এবং জিন্নার নাম না–করে, ফারসি নারীর ইসলামি যুবকের সঙ্গে বিয়ে এবং ধর্মান্তকরণ নিয়ে ফতোয়া দেন। রুটিকে ফারসি সমাজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সমাজের কোনও অনুষ্ঠানে, কোনও দেবস্থানে তিনি পা রাখতে পারবেন না। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে অন্যান্য ফারসিদেরও সমাজচ্যুত হতে হবে––– এই মর্মে ফতোয়া ঘোষিত হয়। এইভাবেই সামাজিক বহিষ্কারের মাধ্যমে রুটিকে তাঁর পরিবারতুতো ভাইবোন এমনকী বন্ধুবান্ধবদের থেকেও আলাদা করে দেওয়া হয়। তৎকালীন বোম্বেতে এমন ঘটনা আর ঘটেনি।

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল