লাইমলাইটের আলো নেই, নিজেরাই আলো হয়ে দেশকে পথ দেখিয়েছে ভারতের এই চার কিশোরী

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 8, 2021 12:51 pm|    Updated: April 8, 2021 12:51 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 8, 2021 12:51 pm Updated: April 8, 2021 12:51 pm

‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতা।’ যেখানে স্ত্রীলোক পূজিতা হন, সেখানে দেবতারাও আনন্দ করেন।

১৮৯৪-এর ১০ মার্চ। শিকাগোর হেল পরিবার থেকে রামকৃষ্ণানন্দ’কে চিঠি লিখছেন বিবেকানন্দ। সেখানেই লিখছেন এই কথা। পাশ্চাত্যের বালিকা, কিশোরী, যুবতী– এককথায় পশ্চিমের নারীর প্রতি তাদের পরিবারের উদারপন্থী মনোভাব প্রসঙ্গে এমন কথাই ব্যক্ত করেন স্বামীজি। মনে করতেন, নারী জাগরণের শুভ সূচনা হওয়া উচিত একেবারে তৃণমূল স্তরে– পরিবারের বালিকা, কিশোরীদের অর্ধেক আকাশ প্রদানের মাধ্যমে। পুরুষের চোখে নারীর শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠা নয়, সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠাকে তিনি ‘সুন্দরের অন্বেষণ’ বলে মনে করতেন। তাই বারবার বলে যান, মুক্ত বিহঙ্গের মতো ছেড়ে দিতে হবে পরিবারের কিশোরী অথবা তরুণীটিকে, যাতে সে বৃহত্তর কর্মযজ্ঞে ঝাঁপানোর উদ্যম পায়।

ভারতের আনাচকানচে লুকিয়ে রয়েছে এমনই সব কিশোরী যাদের কাজ আমাদের বিস্ময়বিহ্বল করায়, অথচ প্রচারের আলো থেকে কয়েকশো হাত দূরে এরা। এদের নিয়ে স্টোরি, অ্যাঙ্কর স্টোরি হয় না সেভাবে। লাইমলাইটের কুসুম কুসুম আলো গিয়ে পড়ে না গায়ে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নজির তৈরি করার কাজটুকু এরা সাড়ে নিঃশব্দেই। শুনে নেব ভারতের এমনই চার কিশোরীর কথা যাদের কীর্তি সম্বন্ধে আমরা ততটাও ওয়াকিবহল নই, যতটা হওয়া উচিত ছিল। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, গুজরাত, – স্ত্রী-আচারের কঠোর সামাজিক জাঁতাকলের বাষ্পে মোড়া রাজ্যগুলিতে এরা প্রত্যেকে এনেছে মুক্তির পেলব মেঘ।

মধ্যপ্রদেশের বিস্ময় কিশোরী মুশারিফ খান দশ-বিশ-তিরিশটা নয়, মুখস্থ করে ফেলেছে ‘গীতা’র ৫০০-র অধিক শ্লোক!  হরিয়ানা জাহ্নবী পানওয়ার ইনস্পিরেশনাল স্পিচ দিয়েছে আইএএস অফিসারদের। শালিনী কুমারীর দৌলতে ভারত পেয়েছে অ্যাডজাস্টেবল ওয়াকার। প্রিয়াংশী সোমানি হয়ে উঠেছে দেশের গণিত জগতের নয়া ‘টাইকুন’।
মিডিয়ার লাইমলাইটের স্নেহদৃষ্টি এদের ওপর পড়েনি। এরা নিজেরাই নিজেদের আলো হয়ে আড়েবহরে বাড়িয়ে নিয়ে চলেছে নিজেদের কাজ। বাড়াচ্ছে দেশের প্রশস্তি। এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বিবেকানন্দের স্বপ্নের ভারতবর্ষকে।
তারপর? শুনুন…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল