প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত পৃথিবীতে এডগার রাইস বারোজের ‘টারজান’ই মানুষকে দিয়েছিল আত্মশক্তিতে বলীয়ান হওয়ার পাঠ

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 29, 2021 7:35 pm|    Updated: May 30, 2021 1:28 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 29, 2021 7:35 pm Updated: May 30, 2021 1:28 pm

১৯১২ সালে এডগার রাইস বারোজ-এর প্রথম ফ্যান্টাসি স্টোরির বিশাল সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বারোজ ‘টারজান’-এর অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ লিখতে শুরু করেন আফ্রিকার প্রেক্ষাপটে। ওই বছরেই টারজানের চারটি সিরিজের বই বের হয় এ. সি. ম্যাকক্লারগ পাবলিশার্স থেকে। ‘টারজান অফ দ্য এপ্‌স’ প্রথম জনপ্রিয় গল্প যা প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে। তারপর আর বারোজকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘রিটার্ন অফ দ্য টারজান’, ‘টারজান: লর্ড অফ দ্য জাঙ্গল, ‘টারজান অ্যান্ড দ্য লস্ট এম্পায়ার’, ‘টারজান অ্যান্ড দা সিটি অফ গোল্ড’ ইত্যাদি পরপর মোট ২৬টি উপন্যাস লেখেন বারোজ, যার মধ্যে একটি অসমাপ্ত। বিশ্বের ৫৬টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে টারজানের গল্প। সবচেয়ে বড় কথা– এই যে আফ্রিকার জঙ্গলে লেখক টারজান চরিত্রটিকে নিয়ে গিয়ে ফেলেছিলেন, তিনি নিজে কিন্তু আগে কখনও আফ্রিকা যাননি, দেশটার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতেন না তেমন করে। শুধু বই পড়ে যেটুকু জানা, ওইটুকুই। কিন্তু তাতে টারজানের গল্পের আবেদন কোথাও কম হয়নি। কোথায় গিয়ে যেন মনে পড়ে যায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা!
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী হতাশা, ভয়, অর্থনৈতিক মন্দা মানুষের মনে নানারকম দ্বন্দ্ব আর নৈরাশ্যের জন্ম দেয়।  ঠিক সেই সময় এই শক্তিশালী পুরুষ চরিত্রটিকে কায়মনোবাক্যে গ্রহণ করেছিল পৃথিবীবাসী; যেন এরকমই কারও একজনের সন্ধানে ছিল তারা– যে তার অপরিসীম বাহুবলে অতি অনায়াসেই দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনে সিদ্ধহস্ত। অবচেতনে যেন নিজেদেরই প্রতিভূ হিসেবে দেখেছিল মানুষ টারজানকে। তাই আজন্ম জঙ্গলের পশুদের কাছে বেড়ে ওঠা টারজান যখন মনুষ্য সমাজে এসে তাদের মতো কথা বলা, আচরণ করা বা বই পড়া অবহেলায় শিখে নিতে পেরেছিল, মানুষ তখন দ্বিতীয়বার প্রশ্ন করেনি ‘কী করে সম্ভব?’ কারণ সেই সময় মানুষের কাছে সুপারহিরোর আর কোনও বিকল্প ছিল না। আজকে আমরা বহু সুপারহিরোকে দেখতে পাই। কিন্তু সে সময় টারজান ছিল নির্বিকল্প।
শুনে নিন…

লেখা: মৌমিতা সেন
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস ও সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল