বাজারে আসছে ডিআরডিও-র কোভিড প্রতিরোধক ২-ডিজি, সাধ্যের মধ্যে দাম জলে গুলে খাওয়া যাবে এই ওষুধ

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 17, 2021 4:04 pm|    Updated: May 17, 2021 4:04 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 17, 2021 4:04 pm Updated: May 17, 2021 4:04 pm

দিল্লিতে অবস্থিত, নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এলাইড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট মূলতঃ পারমাণবিক ওষুধ গবেষণা এবং পারমাণবিক দুর্ঘটনা ও বিস্ফোরণ পরবর্তী রেডিয়েশন নিয়ে কাজ করে। অনন্ত নারায়ণ ভট্ট ও তাঁর টিম, মলিকিউলার সেল বায়োলজি-র উপর গবেষণার ভিত্তিতে তৈরী করেন গ্লুকোজ মলিকিউল। যার মধ্যে হাইড্রোজেন দিয়ে ২-হাইড্রোক্সিল গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। বিজ্ঞানের ভাষায়, এই বায়ো-কেমিক্যাল গঠন একদিকে গ্লুকোজ-৬ ফসফেট তৈরী হতে বাধা দেয় তেমনই এই গ্লুকোজের গ্লাইকোলিসিস হয় না। ফলস্বরূপ আক্রান্ত কোষ আস্তে আস্তে নষ্ট হতে থাকে। সহজ ভাষায়, এই ড্রাগ আক্রান্ত কোষের বিভাজনকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং এক কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ফুসফুস-সহ নানা অঙ্গের ক্ষতির আশঙ্কা কমে যায় । তাই রোগীর অক্সিজেনের ঘাটতির পরিমাণ অনেকখানি কমে। এখানেই এই ওষুধের বড় কার্যকারিতা।

গত বছর মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ত্রিস্তরীয় পর্যায়ে দেশের মোট ১১টি হাসপাতালে ডি-অক্সি ডি-গ্লুকোজ বা ২ ডিজি-র উপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলেছে। দেখা গিয়েছে, কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ করে তুলতে দ্রুত কাজ করছে এই ওষুধ। শুধু তাই নয়, যাঁদের আলাদা করে অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করছে ডিআরডিও-র তৈরি এই ওষুধ। এই ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে এমন রোগীদের পরবর্তী সময়ে অধিকাংশের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। গত বছর ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, কর্নাটক এবং তামিলনাড়ু’র ২৭টি কোভিড হাসপাতালের ২২০ জন করোনা রোগীর উপর এই ওষুধ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে ৪২% পর্যন্ত অক্সিজেনের উপর উপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়েছে ড্রাগটি। এবং একজন রোগীরও মৃত্যু হয়নি। তবে অনেক গবেষক বলছেন, এই ওষুধের সাফল্যের হার বেশি ৬৫ উর্ধ মানুষদের মধ্যে। ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার, সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন ২০২০ সালের মে মাসে কোভিড -১৯ রোগীদের, ২-ডিজি দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্লিনিকাল পরীক্ষার অনুমতি দেয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে মার্চ ২০২১ এর মধ্যে তৃতীয় ক্লিনিকাল ট্রায়াল হয়েছিল, লখনৌতে অবস্থিত, অটল বিহারি বাজপেয়ী কোভিড হসপিটাল-এ। সেখানে ভর্তি কোভিড আক্রান্ত রোগীদের প্রত্যেককে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছে।

ওষুধ বাজারে আসার ক্ষেত্রে খানিক দেরি হওয়ার কারণ ছিল, চূড়ান্ত পর্যায়ের পর্যায়ের ট্রায়াল রিপোর্টটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হওয়া। এবং আমাদের মতো বৃহৎ জনসংখ্যার দেশ এবং এই মুহূর্তে আক্রান্তের সংখ্যা মাথায় রেখে প্রাথমিক ওষুধ উৎপাদনের মাত্রা হতে হত বিপুল। প্রাথমিকভাবে দশ হাজার ডোজের একটি  ব্যাচ ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে অপেক্ষা করছে। আগামী সোমবার বাজারে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এর মোড়ক খুলেছেন।

করোনা মোকাবিলায় এই গুঁড়ো ওষুধ জলের সঙ্গে গুলে পান করতে হবে। অনেকটা বহুল প্রচলিত ওআরএস মতো এর ব্যবহার। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, কম সময়ে গণহারে এটি উৎপাদন করা সম্ভব, উৎপাদনের খরচ অনেক কম। ফলে খুব অল্প সময়ে বহু রোগীর কাছে এই ওষুধ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

পৃথিবীর প্রতিটি প্রথম সারির দেশ, এইরকম সহজ, জলে গুলে খাওয়া যায় এমন প্রতিষেধক বানানোর চেষ্টা করছিল। ভারতই প্রথম সেই প্রচেষ্টায় সফল হল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চিকিৎসা-পদ্ধতিতে ওআরএসকে সামাজিক ভাবে, চিকিৎসকদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিলেন এক বাঙালি—দিলীপ মহলানবীশ। তাঁকে প্রায় আমরা কেউই হয় চিনিনা, না হলে মনে রাখিনি।

শুনুন…

লেখা: অম্লান দত্ত
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল