পৃথিবীর ইতিহাসের এক দুর্ধর্ষ-রোমাঞ্চকর ট্রেন ডাকাতির ইতিবৃত্ত

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 28, 2021 9:44 pm|    Updated: May 28, 2021 11:41 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 28, 2021 9:44 pm Updated: May 28, 2021 11:41 pm

রাত তখন তিনটে। গ্লাসগো থেকে ইউস্টনগামী একটি ব্রিটিশ মেইল ট্রেন হঠাৎ জনহীন প্রান্তরের মধ্যে থমকে গেল। কী ব্যাপার! এখানে তো থামার কথা নয়। তাহলে কি সিগন্যাল নেই? দূরের লাল সিগন্যালটা দেখে, কেমন যেন খটকা লাগছিল, চালক জ্যাক মিলসের। কিছুক্ষণ আগেই ট্রেন লেইটন বুজার্ড অতিক্রম করেছে। সামনে পড়বে সিয়ারস ক্রসিং। তার আগে তো সিগন্যাল লাল হওয়ার কথা নয়। আচমকা কী এমন হল! ব্যাপারখানা খতিয়ে দেখতে সহকারী ডেভিড হুইটবিকে পাঠালেন, ‘দেখো তো কী হয়েছে’।

ট্রেন থেকে নামলেন ডেভিড। সিগন্যালটার কাছে গিয়ে দেখলেন, আসল সিগন্যাল লাইটটি সবুজ হয়েই জ্বলছে, কিন্তু সেটা কেউ ঢেকে দিয়েছে চামড়ার মোটা দস্তানা দিয়ে। তার সামনে ঝুলছে একটি লাল লাইট, সেটাই ব্যাটারির সাহায্যে নিখুঁতভাবে জ্বলছে। বুঝতে বাকি রইল না, তাঁদের জন্য ফাঁদ পাতা হয়েছে। দ্রুত-পায়ে ট্রেনের দিকে ফিরবেন বলে পিছনে ঘুরতেই কোমরে একটা আগ্নেয়াস্ত্রের ছোঁয়া পেলেন ডেভিড। চাপা-হাড়হিম করা গলায় শুনতে পেলেন, ‘খবরদার! চিৎকার করেছ কি মরেছ।’ এদিকে চালক জ্যাক মিলস কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল লোক হুড়মুড় করে উঠে এলেন তাঁর কেবিনে, প্রত্যেকের মুখই মুখোশে ঢাকা, ‘একী! কে তোমরা, কী চাও!’ কথা শেষ হতে না হতেই পেছন থেকে একটা লোহার ডান্ডার বাড়ি পড়ল তাঁর মাথায়! মুহূর্তেই ব্ল্যাকআউট। সহকারী ডেভিড তখন হতভম্ব হয়ে মাটিতে বসে, তাঁর হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ট্রেন এখন ‘দ্য গ্রেট ট্রেন রবারি’র বিখ্যাত ডাকাতদের কবজায়।

সংখ্যায় তারা পনেরোজন, প্রত্যেকেই কমবেশি হাত-মকশো করেছে ছিঁচকে চুরি কিংবা চোরাচালানের মতো অপরাধে। বড় কিছু করার বাসনায় এই তরুণদের তখন অপ্রতিরোধ্য প্রেরণা—নিখুঁত রেইকি, ডিটেইল পরিকল্পনা, দায়িত্বভাগ করে অ্যাকশন, আর পারফেক্ট সোর্স অফ ইনফরমেনশন। এইসবে ভর করে তারা তখন নেমে পড়েছে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রেন ডাকাতিটির রূপায়নে। তখনও অবশ্য এইসব রেকর্ড ইত্যাদি বিষয়ে তারা কিছুই জানত না। তারা কেবল জানত এই মেইল ট্রেনটির প্রথম দুটি কামরা ভরে যেসব পোস্টাল পার্সেল আর রেজিস্ট্রি মানি-অর্ডার যাচ্ছে তার পরিমাণ অন্য সময়ের তুলনায় অনেক-অনেক বেশি। বিশেষ কারণে সেই সপ্তাহের শেষ কয়েকটা দিন বন্ধ থাকবে স্কটল্যান্ডের সমস্ত ব্য্যঙ্ক। কাজেই মোটা দাঁও মারার এই হল সুযোগ। স্বাভাবিকভাবেই এই ইনফরমেশনটি ডাকাতদলটি পেয়েছিল পোস্টাল ডিপার্টমেন্টেরই জনৈক কর্মীর মাধ্যমেই।

 

তারপর? শুনুন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল