পাখির মতো লম্বা ঠোঁটওয়ালা এই অদ্ভুতদর্শন ‘প্রাণী’ই প্লেগের চিকিৎসা করেছিল!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 24, 2021 10:50 am|    Updated: February 27, 2021 5:18 am

Published by: Sankha Biswas Posted: February 24, 2021 10:50 am Updated: February 27, 2021 5:18 am

‘বিউবনিক প্লেগ ডক্টর’দের পোশাক প্রথম আবিষ্কার করে চার্লস দেলোর্ম। ১৬৩০ সালে। ইনি ছিলেন ফ্রান্সের সম্রাট ত্রয়োদশ লুই ও মারি দি মেদিসি–পুত্র গ্যাস্তোঁ দখ্ঁঅলিঅঁ–র চিকিৎসক। নেপেলস–এ সর্বপ্রথম এর ব্যবহার শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা ইউরোপে।

ইউনিফর্মটি গোটাটাই বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি। আলখাল্লার মতো দীর্ঘ কালো কোটটি তৈরি হত হাল্কা মোমজাতীয় সুগন্ধি ফেবরিক দিয়ে। জীবাণু যাতে আটকে না–থাকতে পারে এবং যাতে তা সহজেই ধুয়ে ফেলা যায়। কাক–মুখোশটির দু’চোখের জায়গায় থাকত গ্লাস আই ওপেনিং। আর মুখোশে থাকত দীর্ঘাকৃতির দু’টি ঠোঁট। প্রায় পায়ের পাতাসমান! ঠোঁটের ভিতরে থাকত জড়িবুটি, ঔষধি আর একটি স্ট্র। রোগ প্রতিরোধক হিসাবে, বলাই বাহুল্য। চিকিৎসকদের মাথায় ও হাতে থাকত ছাগলের চামড়া নির্মিত হ্যাট ও গ্লাভ্‌স। জাদুকাঠি–সদৃশ একটি ছড়িও হাতে রাখতেন তাঁরা। রোগীর গায়ে হাত না ছোঁয়ানোর জন্য এই ব্যবস্থা।

সবচেয়ে অদ্ভুতদর্শন ছিল কিন্তু ওই মুখোশই। বিশেষত তার দীর্ঘাকার ঠোঁট। অথচ এতেই সংগৃহীত থাকত সঞ্জীবনী।

তা কী কী থাকত ঠোঁটের মধ্যে?

জুনিপার বেরি, অ্যামবার্জিস, ল্যাবডানম, স্টোরাক্স, গোলাপকুচি, পুদিনাকুচি, দারচিনি, লবঙ্গ, মধু–সহ ৫৫ রকম উপাদান। যেসব ভেষজ ও রাসায়নিক উপাদান মূলত ক্বাথ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দেলোর্ম ঠোঁটটি দীর্ঘাকৃতি বানিয়েছিলেন ইচ্ছে করেই। উদ্দেশ্য ছিল: নাক বা শ্বাসনালী পর্যন্ত যাওয়ার আগেই ৫৫টি ভেষজ মিশ্রণের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে যাতে জীবাণুগুলি ক্ষয়ে যায়। ঠোঁটটির নাসিকা সংলগ্ন অঞ্চলে শ্বাস নেওয়ার জন্য দুটো ছোট ছিদ্র রাখা হত। অধিকাংশ চিকিৎসক সেসময় ‘মিয়াসমা’ তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। প্লেগবাহী জীবাণুর নাম তাঁরা তখনও জানতেন না। তবে বিশ্বাস ছিল, দূষিত বিষবাষ্প প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে বয়ে আনতে পারে প্লেগের জীবাণু। কমিয়ে দিতে পারে দেহের জলীয় উপাদান। প্রভাব ফেলতে পারে মস্তিষ্কেও। প্রতিরোধক হিসাবে মাস্কে এইসব গচ্ছিত রাখতেন। বিশ্বাস করতেন, কাকমুখোশ তাঁদের জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করবে, সর্বতভাবে।

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল