করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ব্ল্যাক ও হোয়াইট ফাঙ্গাস

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 23, 2021 4:57 pm|    Updated: May 23, 2021 4:57 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 23, 2021 4:57 pm Updated: May 23, 2021 4:57 pm

আবার এক নতুন মহামারির সামনে দাঁড়িয়ে ভারত। করোনা অতিমারি আবহেই কোভিড আক্রান্তদের শরীরে দেখা দিচ্ছে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ নামক এক প্রকার ছত্রাকের সংক্রমণ। যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘মিউকরমাইকোসিস’। এই ছত্রাক ইনফেকশন থেকে অন্ধত্ব, জটিল অসুখ এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস একটি বিরল ছত্রাকের সংক্রমণ। চারপাশের পরিবেশেই বাস, ভেজা জায়গাতেই বাঁচে। মাটি, গাছপালা, সার এবং ফলফলাদি ও শাকসবজিতে প্রাপ্ত মিউকরের সংস্পর্শের ফলে-এ সংক্রমণ ঘটে।

বাতাস থেকে শ্বাসের মাধ্যমে এই ছত্রাকের জীবাণু দেহে প্রবেশ করলে, সাইনাস বা ফুসফুসকে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে। মূলত দুর্বল শরীরেই বাসা বাঁধে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস৷ ফলে করোনা রোগীর শরীরে যখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, তখনই শরীরে আক্রমণ করে এই ফাঙ্গাল সংক্রমণ৷ এছাড়াও যাঁদের, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার বা এইডস  আছে, কিংবা কোনও রোগের কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম এই মিউকর থেকে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহামারি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, এই রোগকে বিরল ও গুরুতর সংক্রমণ বলে চিহ্নিত করেছে এর মধ্যেই।

এখনো অবধি মহারাষ্ট্রে, দেড় হাজারের বেশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের রোগী চিহ্নিত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯০ জনের। মধ্যপ্রদেশে ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৫০ জনের দেহে এই সংক্রমণ ধরা পড়েছে | পশ্চিমবঙ্গেও পাঁচজনের শরীরে এই রোগের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে-এ আক্রান্ত হয়ে , হরিদেবপুরের শম্পা চক্রবর্তী শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে মারা যান। তাঁর সাইনাস, চোয়াল, চোখ ও মস্তিষ্ক ভয়াবহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কালো ছত্রাকে। রাজস্থানে একশোর বেশি কেস ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণের। রাজস্থান , কর্ণাটক ,হরিয়ানা সরকার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে, অতিমারি আখ্যা দিয়েছে |

যে সমস্ত রোগীদের দেহে মধুমেহ অনিয়ন্ত্রিত, কিংবা স্টেরয়েড প্রয়োগ করা হয়, তাঁদের মিউকরমাইকোসিসের সম্ভাবনা বেশি। যে সকল রোগীর ক্যানসার বা জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী কোনও রোগের চিকিৎসা চলছে, তাঁদের দেহেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বাসা বাঁধতে পারে। চিন্তা সবথেকে বেশি করোনা রোগীদের নিয়ে, যে সকল করোনা রোগীর সংক্রমণ অত্যন্ত জটিল স্তরে পৌঁছে গিয়েছে, যাঁরা মাস্ক বা নাসাল ক্যানেলের মাধ্যমে অক্সিজেন সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটরে রয়েছেন, তাঁদের দেহেও মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়াও, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন, তাঁদের শরীরেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হানা দিতে পারে।

বাকিটা শুনুন…

লেখা: অম্লান দত্ত
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল