পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়া রকেটের ধ্বংসস্তূপ নিয়ে নির্বিকার চিন; ভাবখানা এমন, ‘ও তো হতেই পারে’

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 11, 2021 7:24 pm|    Updated: May 12, 2021 8:14 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 11, 2021 7:24 pm Updated: May 12, 2021 8:14 pm

চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল চিনের ‘ওয়েনচ্যাং স্পেস লঞ্চ সেন্টার’ থেকে উৎক্ষিপ্ত হয় রকেটটি। লক্ষ্য ছিল: মহাকাশে চিনের স্থায়ী মহাকাশযান বা স্পেস স্টেশন স্থাপন করা। চিন নিজেকে বিশ্বে তৃতীয় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল কোর মডিউল-সহ এই মহাকাশযান কক্ষপথে পাঠিয়ে। কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হল না। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহাকাশযান প্রায় ৯৫০ টনের রকেটটি বায়ুমণ্ডলের সান্নিধ্যে এসে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তারই অবশিষ্ট অংশ এসে পড়ে ভারত মহাসাগরে, মালদ্বীপের পশ্চিমে। এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

চিনের আগে সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোর মডিউল স্পেস স্টেশন কক্ষপথে পাঠাতে সক্ষম হয়। এই মুহূর্তে কক্ষপথে ওই একটিমাত্র আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন রয়েছে। চিন নিজেদের স্বতন্ত্র স্পেস স্টেশন কক্ষপথে স্থাপন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় প্রয়াসেও সঙ্গী হল ব্যর্থতার মলিন সুর। এর আগে, ২০২০-তে চিনর আরও একটি রকেট একইভাবে চুরমার হয়ে ভেঙে পড়েছিল পশ্চিম আফ্রিকার আইভরি কোস্টে।

ভাববেন না, সাম্প্রতিক ঘটনাটির জেরে সমালোচিত হতে হয়নি লালফৌজের দেশকে। ‘নাসা’র অ্যাডমিনিস্ট্রেটর সেনেটর বিল নেলসন এর তীব্র সমালোচনা করেন। বলেন– চিন এক্ষেত্রে নিজের দায়িত্বজ্ঞানের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আরও বলেন–যে সমস্ত দেশ স্পেস স্টেশন স্থাপনের উদ্দেশে রকেট বা মহাকাশযান স্পেসে পাঠাচ্ছে তাদের অবশ্যই এই ক্ষেপণাস্ত্রের দুর্ঘটনার ঝুঁকি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে এবং এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনার জন্য পৃথিবীর কোনও মানুষ বা তাদের জায়গা-জমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিতেও সমানভাবে দৃষ্টিপাত করতে হবে।  সহমত পোষণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স সেক্রেটারি লয়েড অস্টিন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মহাকাশচারী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পদার্থবিদরা বলছেন–অনিয়ন্ত্রিত এই রকেটের ভগ্নাংশ, যাতে প্রচুর ধারালো বস্তু থাকে, সেগুলোর দ্বারা পৃথিবীর মাটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মানুষের কথা তো ছেড়েই দেওয়া হল না হয়। তাই মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার হচ্ছে। গতবছর আইভরি কোস্টে এই ভগ্নাংশ এসে পড়ায় অনেক গ্রামে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকী, মানুষও আহত হয় প্রচুর। এই ঘটনার পর থেকে উপকূলবর্তী দেশগুলোর বাসিন্দারা শঙ্কিতও উদ্বিগ্ন।
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: মৌমিতা সেন
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল