গল্প: রঙ্কিনী দেবীর খড়্গ – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: shono_admin |    Posted: October 13, 2020 6:45 pm|    Updated: November 10, 2020 12:19 pm

Published by: shono_admin Posted: October 13, 2020 6:45 pm Updated: November 10, 2020 12:19 pm

Bengali Horror Story Podcast

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখা অলৌকিক রোমাঞ্চকর গল্প রঙ্কিনী দেবীর খড়্গ।

সেই গল্পের নির্বাচিত অংশ।

বলা আবশ্যক বাসায় আমি থাকি। স্কুলের চাকর রাখহরি আমার রাঁধে, এ কয়দিন স্কুলের ছুটি ছিল, রাখহরিকে আমি সঙ্গে করিয়া লইয়া গিয়াছিলাম। বাহিরের দরজার তালা খুলিয়াই রাখহরি বলিয়া উঠিল, ‘এ বাবু, এ কীসের রক্ত! দেখুন…’

প্রায় চমকিয়া উঠিলাম।

তাই বটে। বাহিরের দরজায় চৌকাঠের ঠিক ভিতর দিক হইতেই রক্তের ধারা উঠোন বাহিয়া জেন চলিয়াছে। এক্তানা ধারা নয়, ফোঁটা ফোঁটা রক্তের একটা অবিছিন্ন সারি। একেবারে টাটকা রক্ত– এইমাত্র সদ্য যেন কাহারও মুণ্ড কাটিয়া লইয়া যাওয়া হইয়াছে।

আমি তো অবাক। কীসের রক্তের ধারা এ! কোথা হইতেই বা আসিল, আজ দু-দিন ত বাসা বন্ধ ছিল–বাড়ির ভিতরের উঠোনে রক্তের দাগ আসে কোথা হইতে–তাহার উপর সদ্য তাজা রক্ত!

রক্তের ধারাটা গিয়াছে দেখা গেল সিঁড়ির নিচের চোরাকুঠুরির দিকে। ছোট্ট ঘর, ভীষণ অন্ধকার ঘর এবং যত রাজ্যের ভাঙাচোরা পুরোনো মালে ভরতি বলিয়া আমি কোনোদিন চোরকুঠুরি খুলি নাই। চোরকুঠুরির দরজা পার হইয়া বন্ধ ঘরের মধ্যে রক্তের ধারাটার গতি দেখিয়া ব্যাপার কিছু বুঝিতে পারিলাম না। কতকাল; ধরিয়া ঘরটা বাহির হইতে তালা বন্ধ, যদি বিড়ালের ব্যাপারই হয়, বিড়াল ঢুকিতেও তো ছিদ্রপথ দরকার হয়।

চোরকুঠুরির তালা লোহার শিকের চাড় দিয়া খোলা হইল। আলো জ্বালিয়া দেখা গেল ঘরটায় পুরোনো ভাঙা, তোবড়ানো টিনের বাক্স, পুরনো ছেঁড়া গদি, খাটের পায়া, মরিচাধরা সড়কি, ভাঙা টিন, শাবল প্রভৃতি ঠাসা বোঝাই। ঘরের মেঝেতে সোজা রক্তের দাগ এক কোণের দিকে গিয়াছে—রাখহরি খুঁজিতে খুঁজিতে হঠাৎ চিৎকার করিয়া বলিয়া উঠিল, ‘এ কী বাবু! এতে কী ক্রে এমনধারা রক্ত লাগল…’

তারপর সে কী একটা জিনিস হাতে তুলিয়া ধরিয়া বলিল, ‘দেখুন কাণ্ডটা বাবু…’জিনিসটাকে হাতে লইয়া সে বাহিরে আসিতে তাহার হাতের দিকে চাহিয়া আমি চমকিয়া উঠিলাম।

লেখা: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস, অরিত্র মুখোপাধ্যায়, অনীশ ভট্টাচার্য
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল