গুরু দত্তর জীবন ও সিনেমায় ওয়াহিদা রহমানকে এনেছিল এক বদরাগী বলদ!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 11, 2021 10:27 pm|    Updated: May 11, 2021 10:27 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 11, 2021 10:27 pm Updated: May 11, 2021 10:27 pm

গুরু দত্ত-আবরাররা পরদিন গিয়েছেন সেকেন্দ্রাবাদে, মনু ভাইয়ের অফিসে। ভর দুপুর, ডাবের জলের সঙ্গে বিয়ার মিশিয়ে চুমুক দিতে দিতে গপ্পো চলছে। হঠাৎই দেখলেন, ধুলো উড়িয়ে একটি গাড়ি উলটোদিকের বাড়িতে এল। পিছন পিছন বস্তির একপাল কচিকাঁচা; ‘নায়িকা নায়িকা’ বলে ছুটতে ছুটতে আসছে। এক দীর্ঘাঙ্গী মহিলা সেসব এড়িয়ে, গাড়ি থেকে নেমে সটান ঢুকে পড়লেন উলটো বাড়ির মধ্যে। গুরু এইসবে বিশেষ আগ্রহ দেখান না। তিনি নিজেই স্টার। কে এল-গেল– তা জেনে তাঁর কী হবে!

আবরার মনুভাইকে জিজ্ঞেস করলেন– মেয়েটি কে?

–আরে দারুণ শিল্পী। দুর্দান্ত নাচেন। ক’মাস আগেই তেলেগু ফিল্ম ‘রোজুলু মারাই’ রিলিজ করে; সেখানে তো একেবারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন! লোকে সিনেমা দেখতে যত না গিয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি দেখতে গিয়েছে ওঁর নাচ।

–উনি হিন্দি বলতে পারেন?

–হ্যাঁ, ওঁর বাবা জেলাশাসক ছিলেন। ভারতের নানা জায়গায় থেকেছেন। দিব্যি হিন্দি বলতে পারেন।

আবরার গুরুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন– আমরা নতুন একটা মুখের খোঁজে আছি, গাইতে-নাচতে পারে, লাস্যময়ী, আবেদনে মাত করতে পারবে। এঁকে একবার দেখবে নাকি!
গুরু বললেন– আপত্তি আর কীসের! কীই বা রাজকার্য করছি এখানে! তাছাড়া দেদার সময়, করণীয় কিস্যু নেই। ডাকো, দেখি।
****

মহিলা বোম্বে এলেন। রাজ খোসলার তাঁকে বেশ পছন্দ। বললেন– ইন্ডাস্ট্রিতে সব নায়িকাদের নাম দেখুন, নার্গিস, মধুবালা, সায়রাবানু, মীনাকুমারী; আপনার এত বড় নাম, ‘ওয়াহিদা রহমান’, সেকেলে শোনাবে, চলবে না। নামের মধ্যেও একটা চটক, একফালি আবেদন থাকতে হবে। ওয়াহিদা শত যুক্তিতেও অনড়। কম কথা বলেন, কিন্তু অটল থাকেন, নাম তিনি কিছুতেই বদলাবেন না। গুরু দত্ত গোটা আলোচনায় উপস্থিত, কিন্তু নীরব শ্রোতা। নাম বদল নিয়ে হপ্তা খানেক আলোচনায় কোনও জট কাটল না। অতএব নাম একই রইল।

গুরু দত্ত পিকচার্সের সঙ্গে ওয়াহিদার তিন বছরের চুক্তি স্থির হল। কিন্তু চুক্তির আগে ওয়াহিদা শর্ত রাখলেন, যে পোশাকে তাঁর অস্বস্তি তা তিনি বিনা বাক্যে বাতিল করবেন।

এইবার নীরব গুরু দত্ত প্রথম বাক্যব্যয় করলেন। বললেন– আমি ওই ধরনের ফিল্ম বানাই না, আপনি আমার বানানো কোনও ছবি দেখেছেন?

ওয়াহিদা খানিক অপ্রস্তুতে পড়লেন, নীরবে নঞর্থক ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন।

গুরুর স্বর এবার একটু কঠিন।
তারপর?
শুনে নিন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক, শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল