ছোট বেলায় বাবার কাছে বসে এমন তবলা বাজাতেন মনে হত কেউ তবলায় ফুঁ দিচ্ছে, ‘তবলা নওয়াজ’ তাফু খানের জীবনের গল্প

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 22, 2021 7:32 pm|    Updated: May 8, 2021 11:07 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 22, 2021 7:32 pm Updated: May 8, 2021 11:07 am

লাহোর। সাতের দশক। পঞ্জাব ঘরানার ‘খলিফা’ উস্তাদ মিঁয়া কাদের বক্সের স্মরণসভা। হাজির রয়েছেন তাঁর বিখ্যাত সব ‘শাগির্দ’রা। সে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিখ্যাত তবলিয়া আল্লারাখা খান সাহাব, উস্তাদ শৌকত হুসেন খান সহ বহু গুণীজন। রয়েছেন ‘গজল সম্রাট’ গুলাম আলি খান’ও। কাদের বক্সের স্মরণে তবলা পেশ করতে ভারত থেকে লাহোর এসেছেন আল্লারাখা। প্রথম পর্বে বাজাবেন তাফু। কাদের বক্সের নবীনতম শাগির্দ তিনি। সেদিন পঞ্জাব ঘরানার বিশ্রুত সব পেশকার, টুকরা পরিবেশন করেছিলেন তাফু খান। সেইসব কাজ শুনে চমকে উঠেছিলেন আল্লারাখা। বলেছিলেন, এইসব ‘নায়াব’ চিজ করিম ইলাহি, মিঁয়া ফকির বক্সের সম্পদ। শতাব্দী প্রাচীন সেই সব ‘চিজ’ শুনতে পাওয়া বিরল। সেই অনুষ্ঠানে তাফুর বাজনা শুনে নিজের অনুষ্ঠান পাঁচ ঘন্টা পিছিয়ে দেন আল্লারাখা। তাফুর হাতে অসাধারণ কাজ শুনে লাফিয়ে স্টেজে উঠে তার কপালে চুমু খেয়েছিলেন গুলাম আলি।

বাবার কাছেই তবলায় প্রথমবার তালিম পান তাফু। তার বাবা আদর করে ডাকতেন তাফু বলে। এক সাক্ষাৎকারে তাফু জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় বাবার কাছে বসে এমন বাজাতেন তা মনে হতো যেন ‘কোই তবলে পে ফুঁক মার রাখা হ্যায়’… সেই থেকেই তার ডাকনাম হয় ‘তাফু’। পরবর্তীকালে সারা বিশ্ব তাফু নামটাকেই মনে রেখেছে, আলতাফ নাম রয়ে গেছে উহ্যই। বাবার কাছে শেখা শেষ হলেন তিনি গাণ্ডা বাঁধেন পঞ্জাব ঘরানার প্রবাদ পুরুষ, ‘খলিফা’ মিঁয়া কাদের বক্সের কাছে। তাফুর হাতের ধার দেখে চমকে গিয়েছিলেন কাদের বক্স। প্রিয় ছাত্রকে উজাড় করে দিয়েছিলেন তাঁর ঝুলি। অসম্ভব শ্রুতিধর ছিলেন তাফু। উস্তাদ যা কিছু শেখাতেন মুহুর্তে তা তুলে ফেলতে পারতেন তিনি। তার শরীরে বইছে বাপ দাদাদের রক্ত। খুব অল্প সময়ে পঞ্জাব ঘরানার বহু চমকপ্রদ বোল আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন।

শুধু তবলাই নয়, একাধিক যন্ত্র সঙ্গীতে পারদর্শীতা অর্জন করেছিলেন আলতাফ হুসেন ‘তাফু’। ঢোল, নাল, বঙ্গো, কঙ্গো, পাখোয়াজ, হারমোনিয়াম প্রায় সব বাদ্যযন্ত্রই বাজাতে পারতেন তিনি। এমনই তার প্রতিভা, সুর ও তালের ‘পকড়’ যে খুব অল্প সময়ে জায়গা করে নেন লাহোর ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে, তরুণ সুরকার হিসেবে। এরপর আর তাকে পিছু ফিরতে হয়নি। পঁচাত্তর বছরের জীবদ্দশায় প্রায় তিনশোর বেশি সিনেমায় সুর দেন তিনি। সুরারোপনের সেই ভূমিকা থেকে আজও সরে আসেননি তিনি।

 

লেখা: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
পাঠ: অনুরণ সেনগুপ্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল