কলকাতার একটি রেস্তরাঁ ও একটি কালজয়ী বাংলা গানের জন্মবৃত্তান্ত

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 20, 2021 11:01 pm|    Updated: April 20, 2021 11:01 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 20, 2021 11:01 pm Updated: April 20, 2021 11:01 pm

এবার সেই গায়িকা গীতিকারকে একটু নিভৃতে ডেকে নিলেন। নিচু স্বরে বললেন: ‘মনে আছে তো? আমি কিন্তু রেকর্ড করে ফিরবো। সবাই জানে আমি গ্র্যান্ড হোটেলে আছি। আসলে, আমি আছি ভূপেনদার টালিগঞ্জের গল্ফ ক্লাবের ফ্ল্যাটে। কাল সকালেই চলে আসুন।’ ভূপেন’দা অর্থাৎ বিখ্যাত গায়ক সুরকার ভূপেন হাজারিকা। আবার দ্বিগুণ উৎসাহে উৎসাহিত হয়ে উঠলেন গীতিকার। কিন্তু কালই তো গায়িকার বম্বে ফিরে যাওয়ার কথা। তাহলে? সেই সমস্যার সমাধানও হলো।

আসল ঘটনা হলো যে গায়িকা আরো কিছুদিন থাকবেন কলকাতায়। কিন্তু থাকবেন গোপনে যাতে বেশি কেউ তাঁকে বিরক্ত না করতে পারে। উনি একটা সম্ভাব্য রেকর্ডিংয়ের ডেট ও বলে দিলেন গীতিকারকে। হিসেব করে দেখা গেল সময় তবুও কম। দুটো গান হবে এবং দুটো গানের সুর করবেন ভূপেন হাজারিকা। পরেরদিন সকালে মিটিং হলো। গীতিকারের উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। গায়িকা স্বয়ং তার নাম রেকমেন্ড করেছেন রেকর্ড কোম্পানি কে। রেকর্ড কোম্পানির পি.কে.সেন চাইছিলেন পবিত্র বাবুকে দিয়ে গান লেখাতে। কিন্তু, ভারতবিখ্যাত কিংবদন্তি গায়িকা নিজে এই গীতিকারের নাম প্রস্তাব করেছেন। তিনি প্রথম পুজোর বাংলা গান গাইতে চলেছেন। গীতিকারের জীবনে এ একদম আক্ষরিক অর্থেই একটি ‘golden chance’।

কিন্তু এবার একটি অন্য সংকট উপস্থিত হলো। দুদিন পরেই গীতিকার এবং ভূপেন বাবুর মিটিং। সেই মিটিংয়ে জানা গেল, ভূপেন হাজারিকা সেই মুহূর্তে ভীষণ ব্যস্ত। উনি বললেন নতুন কোন গান সুর করার সময় ওঁর নেই। আর কোনো রেডি গানও নেই। কাজেই ‘প্রজেক্ট’টি আদৌ হবে কীনা সে নিয়েই সংশয় তৈরি হয়ে গেল। গীতিকার মরিয়া হয়ে বললেন: ‘দাদা, মনে করে দেখুন আমার একটা গান আপনি সুর করেছিলেন কিছুদিন আগে। গানটা হলো –‘মনে রেখো ওগো আধো চাঁদ’।

ভূপেন হাজারিকা একটু ভ্রু কুঁচকে চিন্তা করলেন। গানটা তাঁর মনেও পড়লো। কিন্তু সুর সম্পূর্ণ ভুলে গেছেন। গীতিকার তখন মরিয়া। উনি বলে উঠলেন : ‘দাদা, ওটা আপনার পক্ষে কোনও ব্যাপার না। একটু হারমোনিয়াম নিয়ে বসলেই হয়ে যাবে।’

কিন্তু বিধি যেন সত্যিই বাম। ভূপেন বাবু তাঁর এই ফ্ল্যাটের হারমোনিয়ামটি সার্ভিসিং করাতে দিয়েছেন।

মরিয়া গীতিকার তখন ভূপেন হাজারিকা’কে ধরে নিয়ে গেলেন কাছেই ভবানীপুরে তাঁর বড়দির বাড়িতে। ওখানে একটি হারমোনিয়াম আছে। সেই হারমোনিয়ামে সুধীরলাল চক্রবর্তী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়-এর মত ব্যক্তিত্বরা সুর করেছেন। তাছাড়া, ভবানীপুরের এই বাড়িতেই বড় উঠোনে ব্যাডমিন্টন খেলা হত। খেলতে আসতেন স্বয়ং মহানায়ক উত্তমকুমার। ভূপেনবাবুও বেশ কয়েকবার এসেছেন। সেখানে গিয়ে ওই হারমোনিয়াম বাজিয়ে ওই ভুলে যাওয়া সুরকে আবার নতুন করে সাজিয়ে নিলেন ভূপেনবাবু। একটি গান হল। কিন্তু আজ আর একটুও সময় নেই। ভূপেন হাজারিকার জনতা পিকচার্সের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।

তারপর? শুনুন…

লেখা: অনুরাগ মিত্র
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল