বাগদাদ থেকে বোম্বাই এসে এই মহিলা হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের ‘ভ্যাম্প’!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 25, 2021 12:13 pm|    Updated: February 25, 2021 12:16 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 25, 2021 12:13 pm Updated: February 25, 2021 12:16 pm

১৯৪৮ সালে সর্দার আখতারের পরিচালনায় ‘আন’ ছবিতে আত্মপ্রকাশ নাদিরার। মেহবুব সাহাব তাঁকে ১২০০ টাকা মাসিক বৃত্তিতে তাঁর স্টুডিয়োর শিল্পী হিসাবে চুক্তিবদ্ধ করান।  ফিল্ম কেরিয়ার শুরু করেছিলেন সেই সময়ের প্রখ্যাত স্টার দিলীপকুমারের বিপরীতে। তবে খ্যাতির শিখর থেকে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে নাদিরা নিজের নিয়তিকেই বারবার দায়ী করেছেন। ‘আন’ সেই সময়ের নিরিখে ছিল মারাত্মক সফল একটি ছবি। সেসময়ের সবচেয়ে খরচসাপেক্ষ ভারতীয় ছবি, বাজেট ছিল ৩০ লক্ষ। ২৮টি দেশে, ১৭টি ভাষায় ফিল্মটি রিলিজ করে।

শুরুর সেইসব দিন নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নাদিরা বলেছিলেন, ‘মেহবুব সাহাব যখন আমাকে নায়িকা হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন, অনেকেই তখন তাঁকে বলেছিলেন––– ধুর, এ ইহুদি-বাগদাদি মেয়েকে দিয়ে হবে না। মেহবুব বলেছিলেন––– যদি আমি নার্গিসকে নায়িকা বানিয়ে তুলতে পারি, তাহলে এই মেয়েকে কেন পারব না?’

এই ফিল্ম রাতারাতি নাদিরাকে স্টার করে তোলে।

মীনা কুমারীর মৃত্যুর সময় তাঁর মৃতদেহ ঢাকার কাপড়টুকু ছিল না। হাসপাতাল থেকে দুটো কাপড়ের টুকরো চেয়ে তাই দিয়ে তাঁর নশ্বর দেহখানি মোড়া হয়েছিল। সহকর্মী মীনার মৃত্যু অভিজ্ঞতার কথা তাঁকে ভীত-সন্ত্রস্ত করত। তিনি বারবার বলতেন, মৃত্যু আমার কাছে খুব এক শান্তির অভিজ্ঞতা বয়ে আনবে। কিন্তু মৃত্যুর আগে অন্তত আমি একটু কাজে ব্যস্ত থাকতে চাই। কাজ করতে করতে মৃত্যু আসুক এই চাই। কিন্তু নিয়মিত কাজ কোথায়! সে তো দূরদেশে হারিয়ে যাওয়া এক পাখি।

রাজ কাপুরের ছবি ‘শ্রী ৪২০’-এ কুহকিনীর চরিত্রে অভিনয়ই তাঁর কেরিয়ার-শেষের শুরু। তাঁকে আর কোনওদিনও কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য ভাবাই হয়নি। টাইপকাস্ট করে দেওয়া হয়। ব্যাপারটা এরকম হয়ে দাঁড়ায়, রাজের ছবিতে তিনি রূপের লাস্যে পুরুষ-হৃদয়ে আগুন জ্বালাবেন, ঝড় তুলবেন। পর্দায় সিগারেট ফুঁকবেন, বাঁকানো ভ্রূ-ভঙ্গিমা দিয়ে নায়কের হৃদয় ফালাফালা করবেন। ‘শ্রী ৪২০’-এ নজর কাড়লেও এরপর একে একে সব নেগেটিভ রোলের অফার আসতে থাকে। কয়েকটির পর বাকি সব নাদিরা পত্রপাঠ নাকচ করতে থাকেন। মুখ্য চরিত্র আগেই গিয়েছিল, এবার ভ্যাম্পের চরিত্রগুলিও হাতছাড়া হয়।

তারপর?

শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল