আরব সাগর খুঁড়ে কেচ্ছা আর অজানা রোম্যান্সের রত্ন বের করে আনতেন তৎকালীন বম্বের গসিপ লিখিয়েরা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 8, 2021 11:17 pm|    Updated: May 9, 2021 5:36 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 8, 2021 11:17 pm Updated: May 9, 2021 5:36 pm

রাস্তায় দেবযানী তার শাড়ি আর বিশাল শরীর কোনওরকমে সামলে থপথপিয়ে ছুটছেন, আর এই দফায় তাঁকে ঘা কতক না দিয়ে কিছুতেই ছাড়বেন না এরকমই ‘রোখ’ নিয়ে দৌড়ে আসছেন ধর্মেন্দ্র। খবরটা পরের দিন মুম্বইয়ের সমস্ত কাগজের প্রথম পাতায় বেরিয়েছিল। ব্যাপারটা থানা-পুলিশ অবধিও গড়িয়েছিল। কিন্তু ধরম খামোকা কেন এত গরম হলেন? দেবযানীর অপরাধ অনেক। তিনি তাঁর কলাম-এ লিখেছিলেন, বাড়িতে বিবি আর বাইরে হেমা মালিনী থাকা সত্ত্বেও ধর্মেন্দ্রর দয়ার শরীর নাকি ইন্ডাস্ট্রির কোনও কামনার্ত, সেক্স-ইচ্ছুক নারীকেই ফেরায় না। নিজ ‘মর্দাঙ্গি’ সম্পর্কে এহেন সার্টিফিকেটও হয়তো ধর্মেন্দ্র তার জাঠ-পৌরুষে সয়ে নিতেন। কিন্তু দেবযানী ‘বাসি ইড্‌লি’ বলেছিলেন হেমা মালিনীকে।

প্রেমিকার এহেন অপমান তিনি সইবেন কী করে! ফলে ধর্মেন্দ্র ‘স্ট্রাইক্‌স ব্যাক’! আর রেসকোর্স রোডে সাতসকালে স্টান্টম্যান ছাড়াই অমন অ্যাকশন ড্রামা। তবে দেবযানীর এসব গা-সওয়া হয়ে গিয়েছিল। এক বয়স্ক, পড়তি নায়কের মেয়ে-ছোঁকছোঁক বাতিক নিয়ে একবার কী সব লিখেছিলেন। সেই সঙ্গে ভদ্রলোকের অভিনয় দক্ষতা নিয়েও বোধহয় ঠেস দিয়ে দু’-চারটে কথা বলেছিলেন। ব্যস, আর যায় কোথায়! জুহুর ‘সান অ্যান্ড স্যান্ড হোটেল’-এ একটা বলিউডি পার্টিতে ওই প্রৌঢ় তারকার দুই জোয়ান ছেলে আচমকাই ছুটে এসে দেবযানীর মাথায় বিয়ারের বোতল উপুড় করে দেয়। তারপর চার অক্ষরের বাছা-বাছা যেসব চৌখশ খিস্তি দেয়, দেবযানী জলভরা চোখে সে-খবর খুশবন্ত সিংকে বলেছিলেন। এবং খুশবন্তের যথারীতি মনে হয়েছিল, দেবযানী যতটা ব্যথিত হওয়ার ভান করছেন, আসলে। ততটা খারাপ তাঁর লাগেনি!

আলাস্কার বরফরাজ্যে সোনা খুঁজে ফেরা পাগল অভিযাত্রীদের মতোই তাঁদের ‘গসিপ’ খোঁজার অ্যাডভেঞ্চারের কখনও ‘দ্য এন্ড’ হয় না! তাই লোকজন মাথায় বিয়ার ঢেলে দেওয়ার পরেও দেবযানী কিন্তু উদ্যম হারাননি। ৮০-র গোড়ায় হায়দরাবাদে আসমা নামে মেয়েটির সঙ্গে বলিউডের ট্র্যাজেডি-রাজ ও রোম্যান্স যুবরাজ দিলীপ কুমারের গোপন বিয়ের গল্পটা তিনিই ‘ব্রেক’ করেছিলেন।

বলিউডের সত্যিকারের পুরস্কার আসরে কিন্তু আজও মঞ্চে অমিতাভের কোনও প্রসঙ্গ এলেই টিভি ক্যামেরা দর্শকদের ভিড়ে রেখাকে খুঁজেছে। তিনি কীভাবে ‘রিঅ্যাক্ট’ করছেন, মুখটা হাসি-হাসি, না গোমড়া মতো, না কি ইচ্ছে করে ‘অন্যমনস্ক’ ভাব দেখাচ্ছেন, তাই কাটাছেঁড়া চলেছে। একইভাবে রেখা যখন মঞ্চে উঠেছেন, গাঢ়-মোহক-আবেদনময় কণ্ঠে কিছু বলছেন, তখনও অমিতাভ-সহ গোটা বচ্চন বাড়ির প্রতিক্রিয়া চিনতে সমানে ছোঁক ছোঁক করে অনেকগুলো ভিডিও ক্যামেরা। কথা হচ্ছে, এটা কখন হয়, কীভাবে হয়, আর কেনই-বা হয়? সাড়ে তিন দশক আগে যে জুটি একসঙ্গে শেষ সিনেমা করেছে, তাদের নিয়ে এখনও এত কৌতূহল, এত গা-টেপাটেপি, চোখ মটকামটকি, গুনগুন, ফিসফিস, গুজবের আকাশে ভেসে টিকে থাকে কী করে?

৮৫ ভাগ কৃতিত্ব বলিউডের চিরকেলে গসিপ ইন্ডাস্ট্রির। ১০ ভাগ অবশ্যই অমিতাভ-রেখার। বছরের পর বছর ধরে তারা বিষয়টাকে স্বীকার ও করেননি, অস্বীকারও করেননি। শুধু ‘ভাবুন না, যা মন চায় ভেবে নিন’ গোছের একটা সৌজন্য প্রদর্শন করে এড়িয়ে গিয়েছেন। এবং ৫ ভাগ জয়া বচ্চনেরও। যিনি কখনও ‘সব ঝুট হ্যায়’ বলে আগ বাড়িয়ে তাল ঠোকেননি। আবার ‘ধিঙ্গি মেয়েমানুষটা আমার সোনার সংসারে আগুন দিল গো’ বলে কেঁদেকেটে গায়ে পড়ে ‘পাবলিক সিমপ্যাথি’ কুড়োতেও যাননি। বরং বরফ-কনকনে ‘ডিগনিটি’-র চওড়া ব্যাটে মিডিয়ার সমস্ত প্ররোচনাকে স্রেফ ‘বাপি বাড়ি যা’ করে ছেড়ে দিয়েছেন।

শুনুন…

লেখা: শান্তনু চক্রবর্তী
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল