ভারতের লৌকিক ও প্রান্তিক জীবনে রামচন্দ্র দেখা দিয়েছেন বাল্মিকীর মূল রামায়ণের চেয়ে একেবারে অন্য ধাঁচে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 21, 2021 9:58 pm|    Updated: May 22, 2021 8:46 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 21, 2021 9:58 pm Updated: May 22, 2021 8:46 pm

ভারতের আদি বাসিন্দাদের মধ্যে রামায়ণ–এর কাহিনির প্রচলন দীর্ঘদিনের। মুন্ডা, ভিল, সাঁওতাল, মিজো, খাসি, বির‌হড় প্রভৃতি জনজাতির মধ্যে রামায়ণ বহু শতক ধরে প্রচলিত। সেই রামকথার সুলুক সন্ধানে বের হলে কিন্তু রামমাহাত্ম্যের বংশ-কৌলিন্যে খানিক ভাটা পড়তে পারে। আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত রামকাহিনি মূল জনপ্রিয় রামকাহিনির সঙ্গে কিছুটা এক হলেও অনেকাংশেই আলাদা। রামকথার উৎস বিষয়ে অনেক গবেষক জানিয়েছেন– চারণকবি নারদের কাছ থেকে নাকি বাল্মিকী রামায়ণের কাহিনি শুনেছিলেন! গবেষকরা এও বলেছেন, রামায়ণ রচনা করার কথা স্থির করার পর বাল্মিকী তাঁর শিষ্যদের বলেন ভারতবর্ষের নানা প্রদেশে ভ্রমণ করে আসতে। যেখানেই রামকথা কেন্দ্রিক কোনও উপাদান পাওয়া যাবে তা সংগ্রহ করতে। এই সংগ্রহের ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই রামায়ণের কাহিনিতে প্রবেশ করল বিভিন্ন লৌকিক উপাদান।
জাতকে রামায়ণের যে প্রসঙ্গ রয়েছে তাতে সীতা রামের সহোদরা! দশরথের বড়ছেলে রামপণ্ডিত এবং ছোট মেয়ে সীতা। তিন বছর পর বন থেকে ফিরলে রাম ও সীতার বিবাহ হয়! রামকাহিনির লৌকিক বৈচিত্র্য এভাবেই সারা ভারতজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।
অসমিয়া মহিলাদের নেশা এবং পেশা তাঁত বোনা। তাঁদের রামায়ণের সীতাও তাই বয়নশিল্পে পটু। আদি বাসিন্দা’রা অনেকে মনে করেন, রামচন্দ্র নাকি রাবণকে হত্যাই করতে পারেননি! তাহলে? সেই বিশাল সমুদ্র লঙ্ঘন করে, সোনার লঙ্কা ছারখার করে শেষে কিনা রাবণের ছায়াকে হত্যা করেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র! রাবণবধের পালা অনেক আদিবাসীদের কাছে নাকি ব্রহ্মহত্যার পাপের সমান! আদিবাসী রামায়ণের বয়ান এভাবেই বদলে বদলে গিয়েছে স্থানভেদে। রাম, সীতা, দশরথ, রাবণ সেখানে অনেকক্ষেত্রেই মহাকাব্যিক চরিত্র হয়ে ওঠেননি; বরং হয়ে উঠেছেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটির মানুষজনের নিকটাত্মীয়।
মধ্যপ্রদেশের গোন্দ জাতির মধ্যে পরিচিত এমনই এক রামায়ণ হল ‘গোন্দ রামায়ণ’। তাঁরা যেমন মুখে-মুখে রামায়ণ পড়েন, শোনেন; তেমনই আবার পড়তে-পড়তে বা শুনতে-শুনতে ছবিও আঁকেন! মণিপুরে ঢোল-করতাল-খোল বাজিয়ে পালিত ‘খোংজম পরব’। এটি মূলত খোংজমে ১৮৯১-তে ব্রিটিশবিরোধী যে-যুদ্ধ করেছিলেন মণিপুরের বীর সৈনিকরা, তারই নাট্যরূপ। সেই বীরগাথার সঙ্গেই জুড়ে গিয়েছে রামায়ণের একাধিক বীরগাথা। একরমভাবে গল্প বলার ঢঙে উপস্থাপন করা হয় রামায়ণের কাহিনিকে। এর প্রচলিত নাম ‘ওয়ারি-লিবা’।
 
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রামের বিভিন্ন প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। এবং প্রত্যেকেই লৌকিক রঙে পুষ্ট।
 
কেমন সেসব রামকথা?
 
শুনে নিন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল