এডভার্ড মুঙ্খ-এর ‘স্ক্রিম’, তীব্র ভয় ও উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করা আমাদের চূড়ান্ত আত্মপ্রতিকৃতি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: April 30, 2021 10:36 pm|    Updated: May 1, 2021 10:57 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: April 30, 2021 10:36 pm Updated: May 1, 2021 10:57 pm

‘স্ক্রিম’ ছবিটির অন্তত চারটে সংস্করণ আছে বলেই জানা যায়। কিন্তু যেটি সবচেয়ে বহুল প্রচারিত, সেটির সৃষ্টি ১৮৯৫ নাগাদ। ২০১২ সালের একটি নিলামে মাত্র বারো মিনিটের মধ্যেই একশ কুড়ি মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা পঁচাত্তর মিলিয়ন পাউন্ড দামে নিউ ইয়র্কে এই ছবি বিক্রি হয়েছিল। উনিশ শতকের আগে আঁকা কোনও ছবির এত দামে বিক্রি হওয়ার ঘটনা শিল্পের ইতিহাসে বেশ কিছু মাইলফলক তৈরি করেছিল।

তেল রঙে আঁকা মূল ছবিটি কিন্তু আছে নরওয়ের রাজধানী ওসলো শহরের মিউজিয়মে। যেটি বিক্রি হয়েছিল, সেটি প্যাস্টেলের আঁচড়ে তৈরি।

মুঙ্খ-এর জন্ম ১৮৬৩-তে। শৈশব থেকেই মুঙ্খ’কে ঘিরে ছিল অসুস্থতা, দুর্বলতা, বংশানুক্রিমক ভয়ের এক মানসিক স্থিতি। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কমই। ক্রমশ বোহেমিয়ান জীবন কাটছিল। ভাগ্যলিপির বিধানে দেখা হল, নিহিলিস্ট হান্স হেনরিক জ্যেগার-এর সঙ্গে। তিনিই মুঙ্খ’কে পরামর্শ দিলেন নিজের অনুভূতি এবং মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যেন আঁকাতে ফুটিয়ে তোলেন। এইভাবেই ক্রমশ ক্যানভাসে তাঁর ভাবনার আগুন—নুড়িপাথর ক্রমশ ছড়িয়ে যেতে থাকে। বার্লিনে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লক্ষ্যে যখন এসেছিলেন, তার তিন বছর পর এই ছবি আঁকা।

তাঁর কাব্যধর্মী চিত্রমালার সারি, ‘দ্য ফ্রিজ অফ লাইফ’, যেখানে তিনি অবয়ব দিচ্ছিলেন নিজের ভেতর সঞ্জাত উঁচুতারে বাঁধা অনভুতিমালা’কে। সেখানে অবশ্যম্ভাবী বিষয় হয়ে আসছিল, ভালবাসা, মৃত্যু, ঈশ্বর, যৌনতা।

১৮৯৩-তে আঁকা স্ক্রিমের প্রথম ছবি, যদিও সেটি জনসমক্ষে তিনি এনেছিলেন আরও দু বছর পর। সেটি ওই অনুভূতিমালা চক্রের বাইশটি উপাদানের একটি।

স্ক্রিমের পূর্বসূত্র রয়েছে তাঁরই আঁকা ‘৯২ সালের ‘সিক মুড অ্যাট সানসেট’ ছবিতে। এবং ঠিক পরবর্তী বছর আঁকা ‘অ্যাংজাইটি’ ছবিতেও।

বাইশে জানুয়ারি, ১৮৯২ মুঙ্খ তাঁর ডায়েরি’তে লিখছেন:

একদিন সন্ধে নামার মুখে আমি একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম, শহর ছাড়িয়ে একটু বাইরের দিকে, খাঁড়ির ধারে। আমি খুব ক্লান্ত-অবসন্ন-অসুস্থ বোধ করলাম। থেমে গেলাম, খাঁড়ির দিকে ঝুঁকে দেখছিলাম—সূর্য ডুবছে, চারিদিকে ক্লান্ত নীরবতা, আকাশের মেঘদল রক্তে রাঙা হয়ে উঠছিল। আমার মনে হল প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে কোনও এক মর্মন্তুদ নীরব চিৎকার ধীরে কোথাও প্রবাহিত হয়ে চলেছে; আমার মনে হল সেই নীরব আর্ত চিৎকার আমার মধ্যে অনুরণিত হচ্ছে। এইভাবেই এই ছবির জন্ম।

শুনুন, তারপর…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল