নিজের একমাত্র তরুণ পুত্রকে হারিয়ে স্যর আর্থার কোনান ডয়েল বুঁদ হয়েছিলেন প্রেতচর্চা ও অতিপ্রাকৃত জগতে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 24, 2021 10:30 pm|    Updated: May 25, 2021 6:41 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 24, 2021 10:30 pm Updated: May 25, 2021 6:41 am

…হঠাৎই ঘরের নিস্তব্ধতাকে ভেদ করে ওপরের ঘরে একটি চেয়ার টানার শব্দ হল। চোখ খুলে দেখা গেল মিডিয়াম এভান পাওয়েল সেখানে নেই, কোথায় তিনি? তিনি কী তবে…ওপরের ঘরের দিকে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে গেলেন সকলেই। সস্ত্রীক কোনান ডয়েল সবার আগে। তাঁর পিছনে বাকিরা। একী! ঘরের মাঝখানে একটি চেয়ারে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বসে রয়েছেন মিস পাওয়েল। উদভ্রান্ত-ঘোলাটে তাঁর দৃষ্টি। সঙ্গে একটা গোঙানি। কিছু বলতে চাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। অস্ফুট কিন্তু বেশ পরিষ্কার সেই চেষ্টা। হঠাৎ সকলকে চমকে দিয়ে ভেসে এল একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর, ‘Jean, it is I’.

মিসেস ডয়েলকে উদ্দেশ্য করে বলা এই কণ্ঠ অনায়াসে চিনতে পারলেন সকলে, ডুকরে কেঁদে উঠে মিসেস ডয়েল বললেন, ‘It Is Kingsley’, কিংসলে এসেছে।

অভিভূত শোকাতুর পিতা এরপর প্রশ্ন করলেন, ‘Is that you boy?’

উত্তর এল, যেন বহু ব্যবধানের ওপার থেকে। শান্ত-ধীর কণ্ঠে ভেসে এলো ‘Father!’,

কয়েক মুহূর্তের নীরবতা, চোখে জল এসে গেল ডয়েলের, তারপরই সেই অতীন্দ্রিয় কণ্ঠ শোকাকুল পিতার উদ্দেশ্যে বলল, ‘forgive me, forgive me, please’

বন্ধু অলিভার লজ’কে সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা লিখতে গিয়ে ডয়েল জানিয়েছিলেন ওই কথার পরেই নিজের হাতের উপর তিনি অনুভব করেছিলেন মৃদু একটা চাপ, যেন আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে সে জানাচ্ছে, ‘চিন্তা করো না, আমি ভালো আছি’। ডয়েল যেন শুনতে পেলেন, ‘I am happy, I am happy…’

কোনান ডয়েলের প্রেতচর্চার শুরুটা হয়েছিল নিতান্ত কৌতূহলে, ১৮৮৯-এর শেষ দিকে। বইপত্র জুটিয়ে এই নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা করতে শুরু করেন তিনি। তখনও ব্যাপারটা তাঁর অবসেশন হয়ে ওঠেনি। দ্বিতীয়বার বিয়ের পরই অতিপ্রাকৃতে বিশ্বাস দৃঢ় হয়, সৌজন্যে দ্বিতীয় স্ত্রী জিন লেকি। অনেকেই বলেন জিনের উৎসাহ আর বিশ্বাসই ক্রমশ সঞ্চারিত হয় ডয়েলের মধ্যে। তাঁর বয়স তখন ষাটের কাছাকাছি, হয়ে উঠলেন প্রেততত্ত্বের প্রচারক, পৃষ্ঠপোষক এবং সংগঠকও। দিকে দিকে কোনান ডয়েল তখন স্পিরিচুয়ালিজম্‌ নিয়ে বক্তৃতা দেন। স্ত্রী জিন হন মিডিয়াম। যিনি আত্মা নামিয়ে পেনসিল হাতে লিখে ফেলেন পরলোকের বয়ান। সাসেক্সে তাদের বাড়ির অভ্যন্তের নাকি বাসা বেঁধেছিল ‘Phineas’ নামের একটি ভূত। মিসেস ডয়েল-এর সর্বক্ষণের সঙ্গী-পরামর্শদাতা এই বিদেহী আত্মাটি নাকি নানা বিপদ-আপদেও সাবধান করে দিত। কখন ট্রেন গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে আগাম জানিয়ে দিয়ে সে মিসেস ডয়েলকে বাধ্য করেছিল স্টেশন-মাস্টারের কাছে ছুটে গিয়ে ট্রেনের সময় বদলের জন্য।

অনেকের মতে এ’সবই মিসেস ডয়েল-এর উর্বর মস্তিষ্কের বায়ুদোষ, দুর্বল মনের হ্যালুসিনেশন। কিন্তু শার্লক হোমসের স্রষ্টার মনও কি দুর্বল ছিল?

শুনে নিন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল