‘শূন্য এ-বুকে পাখি মোর আয়’ গানটি নিয়ে নজরুলের বিরুদ্ধে সুরচুরির অভিযোগ উঠেছিল খোদ ঠাকুরবাড়ি থেকে

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 25, 2021 4:23 pm|    Updated: May 25, 2021 4:23 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 25, 2021 4:23 pm Updated: May 25, 2021 4:23 pm

‘শূন্য এ-বুকে পাখি মোর আয়’ গানটি নিয়ে একসময় কত তর্ক-বিতর্ক, অভিযোগ ও দোষারোপের পালা চলেছে। বিশারদরা মনে করেন এই গানের সূত্রপাতে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯০১ সালে তাঁর লেখা ‘অল্প লইয়া থাকি, তাই মোর যাহা যাহা তাহা যায়’। সেই অনন্য ‘ছায়ানট’। অনেকের মতেই– ভাইপো নীতীন্দ্রনাথের অকালমৃত্যু ব্যাথিত করেছিল রবীন্দ্রনাথকে। তাঁরই উদ্দেশে লেখা হয় গানটি। আবার বেশ কিছু জনের ধারণা– প্রিয় পুত্র শমীন্দ্র, কবির আদরের ‘শমী’র মৃত্যুতেই এই গান রচনা। এ নিয়ে আগেও তর্ক-বিতর্ক ছিল, এখনও রয়েছে। কিন্তু সে সময় এই গান প্রবল আলোড়ন ফেলেছিল জনমানসে। গানের সুরমাধুর্যে আলোড়িত হয়েছিলেন স্বনামধন্য সংগীত বিশারদ জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামীও। তিনি শাস্ত্রীয় সংগীতের বিরাট পথিকৃৎ। গানটিকে আরও বেশি শাস্ত্রীয় ধাঁচ দেওয়ার সংকল্প নেন। তা আলাপ-বিস্তার সহযোগে পেশ করবেন বলে মনস্থ করেন। ঠিক করেন, নিজস্ব শৈলীতে গাওয়া সেই গানটি স্বয়ং গুরুদেবকে শুনিয়ে পরিবেশন করার অনুমতি চাইবেন। এক পরিচিতের মাধ্যমে সে সুযোগও এল। মন-প্রাণ ঢেলে গান গাইলেন জ্ঞান গোঁসাই। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের একটুও পছন্দ হয়নি। তাঁর মতে, গানটির অন্তর্নিহিত অসম্ভব যে বেদনা, হারানোকে ফিরে পাওয়ার যে আর্তি, জীবন দর্শন ও সর্বোপরি সুরের সেই স্থিতধী ভাব– শাস্ত্রীয় রাগদারীতে কোথায় যেন তা হারিয়ে গিয়েছে। ভাব ও সুরমাধুর্য বিঘ্নিত হয়েছে। ফলত গোঁসাইবাবুর প্রস্তাব নাকচ করলেন তিনি।

মনের দুঃখে নজরুলের কাছে এলেন গোঁসাইবাবু। আর্জি রাকলেন ঠিক ওইরকম একটা গান বানিয়ে দিতে হবে তাঁকে। কথায় ও সুরে যা রবি ঠাকুরের গানের চাইতে কোনও অংশে কম হবে। না। সেই গান গেয়ে গুরুদেবকে তাক লাগিয়ে দিতে চান গোঁসাইবাবু। হেসে ফেলেন নজরুল। বলেন– গুরুদেবের রচনার সমকক্ষ রচনা সৃষ্টির ক্ষমতা তাঁর কেন, এ দেশে কারওরই নেই। তিনি চিরপ্রণম্য, অপার এক সমুদ্র, যার তল মেলা ভার। কিন্তু গোঁসাইবাবু নাছোড়, ওমনিই একটা গান বেঁধে দিতে হবে তাঁকে, দিতেই হবে। অবশেষে রাজি হলেন নজরুল। চেয়ে নিলেন সময়।
শুনে নিন…

লেখা: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল