পোষা বেড়ালের বাচ্চা হওয়ায় কুড়ি হাজার টাকা খরচ করে গোটা শহরকে খাইয়েছিলেন ‘বাঈজিরানি’ গওহরজান

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 27, 2021 2:37 pm|    Updated: February 27, 2021 2:37 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 27, 2021 2:37 pm Updated: February 27, 2021 2:37 pm

আঠারো শতকের ভারতের ‘বাঈজিরানি’ গওহরজান সেকালের গুণী ও রূপসী বাঈজিদের মধ্যে ছিলেন সেরা।

গওহরজানের বাবা রবার্ট উইলিয়াম ইওয়ার্ড ছিলেন আর্মেনিয়ান ইহুদী। মা এডেলাইন ভিক্টোরিয়া হেমিং ছিলেন অপরূপা সুন্দরী, ছিলেন ব্রিটিশ ও ভারতীয় সংকর। মায়ের বর্ণ ও রূপ পেয়েছিলেন ইলিনি এঞ্জিলিনা, যাকে সবাই গওহরজান নামেই চেনেন।

গহরজানের জন্ম ১৮৭৩ সালে, আজমগড়ে। বয়স যখন দুই, তখন বাবা রবার্টের সাথে মা এডেলাইন ভিক্টোরিয়ার বিচ্ছেদ ঘটে। মানসিক ভাবে ভিক্টোরিয়া নাকি কোনোদিনই এডওয়ার্ডের সাথে মিলতেই পারেননি। তার রূপের আগুনে ততদিনে অন্তত শ-খানেক পতঙ্গ পুড়ে মরেছে। ১৮৭৯ সাল। ভিক্টোরিয়া বাড়ির এক পরিচারকের সঙ্গে গৃহত্যাগ করেন। অতঃপর ধর্মান্তরিত হয়ে তাঁর নাম হয় মালকাজান গোয়াওয়ালি। তখন তিনি থাকতেন বেনারসে।

১৮৮৩ সালে দশ বছরের মেয়েকে নিয়ে মালকাজান পাকাপাকি ভাবে বেনারস ছেড়ে পা রাখেন কলকাতায়। সেখান থেকে তিনি বাবু দুলিয়াচাঁদের অতিথি হয়ে দমদমে বাসা নেন। পরে মালকাজান বার বার ঠিকানা পাল্টে নানা কোঠিতে থেকেছেন। গানের আসরের সঙ্গে সমানতালে চলেছে রইস আদমিদের সঙ্গে শরীরীখেলা। জন্ম থেকে গওহরজান ঘুমপাড়ানি সুর বা মায়ের আদরের বদলে সঙ্গ পেয়েছেন মদের গেলাশ, সারেঙ্গির ধুন আর ঘুঙুরের আওয়াজের। মালকাজান নিজের মতো করে মেয়েকে গড়ে তোলার জন্য ঢের পরিশ্রম করেছিলেন। নাচ-গান শিখিয়েছেন। শরীরী খেলার জন্য রইস বাবুদের নজরে না পড়ে যায়, তার জন্য যথাসম্ভব আগলে রেখেছেন।

নাচ গানের পাশাপাশি নানা ভাষা শিখেছিলেন গওহর। বাংলা-হিন্দির পাশাপাশি জানতেন উর্দু, ফারসি ইংরেজি। দেবনাগরী লিখতেও ছিলেন সমান স্বছন্দ।

গওহরজান তৎকালীন নামী উস্তাদ ভাইয়াসাহেবের কাছে খেয়াল ও ঠুংরি শেখেন। ধ্রুপদ শেখেন শ্রী জাল বাই-এর কাছে। পঞ্চকোট মহারাজার গায়ক বামাচরন ভট্টাচার্যের কাছে শিখেছিলেন বাংলা গান। আবার তাঁর গুরু কাশির শিবপ্রসাদ মিশ্রের কাছে ঠুংরি ও খেয়ালে উচ্চতর তালিম নেন। ইংরেজি গান শিখেছেন কলকাতার সুদক্ষ অ্যাংলো ইন্ডিয়ান গায়কদের কাছে। মারাঠি ভাষার ক্ষেত্রেও ছিলেন সমান স্বছন্দ। অসামান্য মারাঠি ভজন গাইতে পারতেন। কলকাতার গোয়াবাগানে শ্রীরমেশচন্দ্র দাসবাবাজীর কাছে শিখেছিলেন বাংলা কীর্তনের পালা। তবলায় নির্ভুল ঠেকা দিতেন। বদরুউদ্দিন টোকাওয়ালার কাছে ঠেকার তালিম নিয়েছিলেন।

ছোট এঞ্জেলিনাকে শহর কলকাতার অনেকেই দেখেছেন। দেখেছেন গুটি থেকে প্রজাপতি হতে। যারা গওহরের বড় হয়ে ওঠা দেখেছেন, অন্য কোনও বাই-এর দিকে তাঁরা তাকাতেই পারেনি।

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: কোরক সামন্ত ও শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল