আমাদের মাস্টারমশাই শঙ্খ ঘোষ; একটি প্রতিকৃতি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 22, 2021 12:41 am|    Updated: April 22, 2021 11:33 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 22, 2021 12:41 am Updated: April 22, 2021 11:33 am

শঙ্খ ঘোষের প্রয়াণ বাংলা সাহিত্যের এক যুগাবসান। দীর্ঘ অধ্যাপনার জীবনে তাঁর অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে রয়েছেন সারা পৃথিবীজুড়ে। অনেকেই স্বনামধন্য নিজ নিজ ক্ষেত্রে অনেকেই আবার সময়ের অন্তরালে নিজেদের গোপন করলেও, মন থেকে মুছে দিতে পারেননি প্রিয় মাস্টারমশাই-এর কথা। থেকে থেকেই সেইসব স্মৃতি অভিজ্ঞতা জীবনবোধ তাঁদের মনে পড়ে, সঙ্গ দেয়, ছুঁয়ে থাকে।

তাঁর ক্লাসে বসে শিক্ষক হিসেবে তাঁর পাঠ গ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছে এমন দু-জন মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতা একান্ত আলাপচারিতায় জানিয়েছেন। বিধাননগর গভর্নমেন্ট স্কুলের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক দুর্গা দত্ত এবং প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক বিজয় দে জানিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা।

কেমন ছিলেন শিক্ষক হিসেবে শঙ্খবাবু? স্বল্পভাষী এই মানুষটির ক্লাস মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতেন তাঁর ছাত্রছাত্রীরা। শাসন তো দূর অস্ত, সেভাবে বকেননি কাউকে, সে ক্লাসে হোক বা ক্লাসের বাইরে। তাঁর পড়ানো কেবল সিলেবাসের পড়ানো ছিল না, বৃহৎ যাপনের পাঠ হয়ে উঠত তাঁর এক একটি ক্লাস! সেভাবে কাউকে প্রশ্ন করতেন না বরং প্রশ্ন তৈরি করা শেখাতেন। রবীন্দ্র-সাহিত্যের ক্লাস ছিল আলাদা আকর্ষণ, সেই ক্লাসে পাঠ নেওয়ার অভিজ্ঞতা সবটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নাকি? তবুও স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে ‘রক্তকরবী’ বা ‘চতুরঙ্গ’-এর প্রসঙ্গ। ক্লাসে কোনও দিনও নিজের কবিতা পাঠ করেননি, তবে সিলেবাসে থাকা সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, জীবনানন্দ বা রবীন্দ্রনাথের কবিতা পাঠ করেছেন বহুবার। তাঁর কণ্ঠস্বরে কবিতা শোনার মুহূর্তগুলি অমলিন হয়ে থাকে স্মৃতিতে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে লিটল্ ম্যাগাজিনের একটি প্রদর্শনীতে তাঁর উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

হাসতেন না বিশেষ, বিরক্ত হলে মুখের ভাবে আসতো পরিবর্তন। তবে খুব খুশী হলে মুখের রেখায় বদলে যাওয়া উজ্জ্বলতা জানান দিত। জীবনকে কেমন করে দেখতে হবে, কেমন করে বাঁচবে মানুষ, চারপাশের সমাজ, মানুষকে জানার শিক্ষাই বারবার দিয়েছেন ক্লাসে। তাঁর লেখা, কবিতা বা প্রবন্ধের মধ্যেও সেই শিক্ষকতার ছবি ফুটে ওঠে বারবার। ক্লাস বাঙ্ক করায় একবার ক্লাস নিতে আসেননি। তাঁর ঘরে তাঁকে ডাকতে গেলে বলেন, ক্লাস করানোর তো প্রয়োজন নেই! কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের অনুরোধে আবার নরম হয়ে তাঁদের পড়াতে এসেছিলেন। ছাত্র ছাত্রীর মেধা নির্বিশেষে তিনি ছিলেন পক্ষপাতহীন, তাঁর উপস্থিতিও ছিল অদ্ভুত স্নেহশীল এবং দরদী…

এমনই জানা, না জানা নানান কথা উঠে এসেছে এই দুজনের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায়।

শুনুন…

লেখা: বিতান দে
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল