জন্মেছিলেন প্যারিতে, ছিলেন অসামান্যা চিত্রশিল্পী ও ভারতপ্রেমী, শার্লট স্টুয়ার্ট-এর সম্মানার্থে তৈরি হয়েছিল লেডিকিনি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 2, 2021 8:58 pm|    Updated: March 4, 2021 6:03 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 2, 2021 8:58 pm Updated: March 4, 2021 6:03 pm

খাওয়ার পর শেষপাতে অথবা মিষ্টির দোকানে প্রস্তুত গরমা গরম লেডিকেনি-র স্বাদ মুগ্ধ করেনি এমন মিষ্টান্নরসিক খুঁজে পাওয়া ভার। সেই মিষ্টির সাথে জুড়ে আছে এক বিদেশিনী  শার্লট স্টুয়ার্ট-এর নাম। অনেকেই সদ্য শুরু হওয়া এই গল্পের শুরুতেই হোঁচট খেলেন নিশ্চয়! ভাবছেন, ‘লেডি ক্যানিং এর নাম হতে লেডিকিনি’ এই ছড়া শুনেছেন শৈশবে। তাহলে এই শার্লট স্টুয়ার্ট এলেন কোথা থেকে!

তাহলে গপ্পের শুরু থেকেই শুরু করা যাক।

শার্লট স্টুয়ার্ট-এর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা প্যারিতে। তাঁর বাবা ছিলেন প্যারিতে নিযুক্ত ইংল্যান্ডের রাজদূত। মেয়েটির বয়স যখন সতেরো, তখন সপরিবারে প্যারি থেকে ইংল্যান্ডে চলে আসে। সেখানে আলাপ হয় প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মিস্টার জর্জ ক্যানিং-এর পুত্র চার্লসের সাথে। সাক্ষাৎ থেকে প্রেম। তাঁরা বিয়ে করতে চাইলেও দুই পরিবারের মধ্যে ছিল পূর্বতন রেষারেষি। কিন্তু ‘মিয়া বিবি রাজী তো কেয়া করেগা কাজী!’ অতয়েব তাদের জেদের কাছে পরিবারকে হার মানতে হয়। ১৮৩৫ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এই যুগল।

এর প্রায় বছর কুড়ি পর, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রস্তাব গৃহীত হয়, চার্লস ক্যানিংকে লর্ড ডালহৌসির পর, ভারতের গভর্নর জেনারেল করা হোক। সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। সস্ত্রীক চার্লস থুড়ি লর্ড এন্ড লেডি ক্যানিং-এর ভারত আগমন ঘটে, ১৮৫৬ সালে।

ভারত বিষয়ে বিশদে জানার তাগিদ স্বামী স্ত্রী উভয়েরই ছিল। এই দেশে এসে তাঁরা উঠলেন কলকাতার ‘গভর্নমেন্ট হৌস’-এ। ছুটি কাটাতে বা কাজের অবসর পেলেই তাঁরা ছুটে যেতেন, গঙ্গার ধারে ব্যারাকপুরে সুমধুর লাটহাউসের বাগানবাড়িতে। লেডি ক্যানিং-এর ছিল অসম্ভব বাগান তৈরির শখ। ব্যারাকপুরের জঙ্গুলে অবস্থান তাঁর ভাল লাগত। তাঁর মনে হত এখানে দিব্যি একটা ‘পাম হাউস’ বানিয়ে তোলা যায়। সঙ্গে তাঁর শখ ছিল জলরঙে ছবি আঁকার। মনের সুখে অবসর সময়ে তাঁর কল্পনা আর দৃষ্টি দিয়ে যা দেখেন, তার মিশেল ফুটিয়ে তুলতেন ক্যানভাস জুড়ে।

বছর ঘুরতে না ঘুরতেই, দেশে এল নিদারুণ মিউটিনি। সিপাহী বিদ্রোহ। সেই সময়ে লর্ড ক্যানিং-এর ভূমিকা ভারতীয়দের কাছে প্রভূত সমালোচিত হলেও, ক্যুইন ভিক্টোরিয়ার থেকে তিনি প্রভূত সমর্থন লাভ করেন।

লর্ড ক্যানিং এবং লেডি ক্যানিং যৌথভাবে এদেশের অধিবাসীদের উপর একটি দীর্ঘ সমীক্ষা করেছিলেন। ১৮৫৭ থেকে ১৮৬৮ সাল পর্যন্ত সেই দীর্ঘ সমীক্ষা ‘পিপল অব ইন্ডিয়া’ শিরোনামে বই আকারে আটটি খণ্ডে প্রকাশ পায়।

সিপাহী বিদ্রোহের ঠিক পরের বছর লর্ড ক্যানিং ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় হিসাবে দায়িত্ব পান। লেডি ক্যানিং হন, ভারতের প্রহম ভাইসরেইনি।

এখনকার তারকাদের মতোই সে যুগে ক্যানিং দম্পতির দিন-যাপন এবং কীর্তিকলাপ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠত। দুজনেই ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ এবং সহমর্মিতা পোষণ করতেন। লর্ড ক্যানিং মাতলা নদীর তীরে আধুনিক বন্দর গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। নদীতীরে তাঁদের বাসের জন্য গড়ে উঠেছিল বাংলো। সেই আঠারো শতকের ব্যাঘ্র শ্বাপদসংকুল সুন্দরবনের জঙ্গলে তাঁরা জনজাতির উন্নতি এবং ‘পোর্ট ক্যানিং’-এর স্বপ্নপূরণের জন্য যথাসাধ্য প্রাণপাত করেন। সেসময়ের ঘন জঙ্গল কেটে তৈরি করেছিলেন দফতর। কর্মীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য নিজে গিয়ে প্রায়ই সেখানে থাকতেন।

শুনুন তারপর…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল