ধর্মের আফিম খেয়ে নয়, স্বেচ্ছায় স্বামীর সঙ্গে সহমরণে যেত এই মেয়েরা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 19, 2021 8:45 pm|    Updated: March 19, 2021 8:45 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 19, 2021 8:45 pm Updated: March 19, 2021 8:45 pm

বাংলার বুকে সতীদাহ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল উনিশ শতকের গোড়া থেকেই। নবজাগরণের ঢেউ তখন একটু একটু করে লাগতে শুরু করেছে সবে, শ্রীরামপুরের কেরি সাহেবই প্রথম ব্যাপারটার গভীরতা অনুসন্ধান করতে লোকজন জুটিয়ে বার্ষিক পরিসংখ্যান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। পরিসংখ্যানের সেই খাতা খুললে দেখা যায়– প্রতি বছর গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি করে সতীদাহ ছিল নিতান্তই মামুলি ব্যাপার। কোনও কোনও বছর সংখ্যাটা হাজারের কাছে পৌঁছে যায়।

এখন কেউ যদি মনে করে থাকেন যে এই বিপুল সংখ্যক ‘আগুনখাকী’ মেয়েদের সকলকেই জোর করে কিংবা আফিম খাইয়ে চিতায় তোলা হয়েছে তাহলে কিন্তু আপনি ভুল করবেন। স্লিমান সাহেব লিখছেন, ১৮২৬ সালে তিনি নিজে একটি মেয়েকে অনেক বোঝানোর পরও মেয়েটিকে কিছুতেই টলানো গেল না। সাহেবকে মেয়েটি বলল– আমাকে বুঝিয়ে কী লাভ সাহেব, আমি আমার স্বামীর সঙ্গেই মরে রয়েছি। এই দেখুন, আমার নাড়ি পর্যন্ত চলছে না! পরীক্ষা করে সাহেব তো অবাক! সত্যিই মেয়েটির নাড়িতে কোনও স্পন্দন নেই! সাহেব তবু মেয়েটিকে একদিন পাহারায় আটকে রাখার নিদান দিলেন। আশা: মতিগতি যদি একটু বদলায়। কিন্তু সে চেষ্টাও বিফলে গেল। স্লিম্যান সাহেবের চোখের সামনেই সে মেয়ে পরের দিন ‘সতী’ হয়ে গেল। এমন ঘটনা সেকালের খবরের কাগজে খুঁজলে আরও মিলবে।

উইলিয়াম কেরি সাহেবের পরিসংখ্যান খাতার খুললে নজরে আসে আরও একটি চমকপ্রদ দিক। কোন বয়সের মেয়েরা বেশি সতী হচ্ছে তার হিসেব কষলে রীতিমতো শিহরিত হতে হয়। দেখা যায় বৃদ্ধা বা প্রৌঢ়ার বদলে নিজের ইচ্ছেয় সতী হওয়া মেয়েদের একটা বড় অংশই ছিল কিশোরী এবং তরুণী। এইসব ‘জেদি’ মেয়েদের সতী হওয়ার ‘জেদ’ এতটাই প্রবল ছিল যে শোনা যায় ক্লাইভ আর রাজা নবকৃষ্ণ যে-মেয়েটিকে চিতা থেকে তুলে আনেন, সে শেষ পর্যন্ত অনশন করে আত্মহত্যা করে। কলকাতার খবরের কাগজে ছাপা হয় সেই করুণ সংবাদ। নিজে যে মরতে চায় আইন কিংবা রাষ্ট্র তার কাছে সত্যিই নাচার!

আরও শুনুন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল