বাগদাদি মিষ্টি কলিকেতা কৃষ্টি; নাহুম-এর কেক তৈরির রূপকথা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: December 27, 2020 8:46 pm|    Updated: December 27, 2020 8:48 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: December 27, 2020 8:46 pm Updated: December 27, 2020 8:48 pm

১৮৭০ সাল। বাগদাদ থেকে যে-ছেলেটি কলকাতায় এল তার নাম নাহুম ইস্রায়েল

কী আছে তোমার? কী দিতে পারো এই শহরকে? দেখছ তো চারধারে প্রাণের প্লাবন। শহরটা জাগছে। নবজাগরণের চিহ্ন ফুটে উঠেছে শহরের স্বভাবে, চরিত্রে, বাসনায়।

কী চায় কলকাতা?

চায় পুরাতনকে বিদায় জানাতে। চায় নতুন কিছু। জাগৃতির প্রথম আলোয় স্নান করছে কলকাতা।

আমি কলকাতার জন্য এনেছি নতুন স্বাদ, নতুন সুবাস, রসনার নব তৃপ্তি। এই স্বাদ আর গন্ধ কলকাতা আগে কখনও কোথাও পায়নি। নাহুম ইস্রায়েল মনে-মনে বলল।

ইহুদি কনফেক্শনারি-র বা মিঠাইশিল্পের বীজমন্ত্র জানে তরুণ নাহুম। সে বাগদাদের বিশাল ভিয়েন-ঘরে নিজে হাতে কাজ শিখেছে। বাগদাদের ইহুদি মিঠাইওয়ালার বংশে তার জন্ম। খুদেবেলা থেকে সে শুধু ইহুদি কেক আর মিঠাই খেয়েই বড় হয়নি, সে শিখেছে এই সব মিষ্টি বানানোর কায়দা-কৌশল-রেসিপি-ব্যাকরণ। কনফেক্শন-এর জিয়নকাঠি তার হাতে।

ইহুদি মিঠাই? যার মধ্যে বাগদাদের ভিয়েন-ঘরের স্বাদ!

১৫০ বছর আগের কলকাতা—যখন রবীন্দ্রনাথের বয়স নয় আর নরেনের মাত্র সাত—সেই সময়কার কলকাতা, কী করে জানবে সেই মিঠাই কেমন খেতে? তবে স্বয়ং রামকৃষ্ণদেবের যে-মিষ্টি খেয়ে ভারি আহ্লাদ হয়েছিল, সেই মিষ্টিও কম কিছু নয়। কলকাতার বাবুদের জিভে জল আসত ধনেখালির খইচুরের নামে। ধনেখালির শাড়ির মতোই বিখ্যাত ধনেখালির-খইচুর—যে মিষ্টিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করত প্রায় পঞ্চাশ রকমের উপাদান। সেই মিষ্টান্ন এখন আর কেউ বানাতে পারে না।

১৮৭০-এর কলকাতায় সদ্য-আগত তরতাজা নাহুম ইস্রায়েল যা ঘটালেন তা এই শহরের রসনা-সংস্কৃতিতে ছোটখাটো একটি বিপ্লব। তিনি বাড়িতে তৈরি করতে লাগলেন একেবারে নতুন সুবাস-স্বাদ-চাউনিবিন্যাসের পেস্ট্রি। এবং এই ম্যাজিক-মহিমা তিনি একটি বাক্সে পুরে বাড়ি-বাড়ি ফিরি করতে লাগলেন।

নাহুম অবিশ্যি বেশ ভয়ে-ভয়েই, মৃদু পদক্ষেপে, শুরু করলেন, এই শহরে তাঁর কেকের বাণিজ্য। তাঁর প্রধান বাধা ভাষা। ইংরেজি-বাংলা-হিন্দি—কোনও ভাষাই তিনি না-পারেন বলতে, না পারেন লিখতে। কিন্তু প্রাণে তাঁর প্রবল ইচ্ছে—কলকাতাকে ভিন্ন স্বাদের মিষ্টিমুখ করাবেন তিনি।

তারপর? শুনুন…

লেখা: রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামশ্রী সাহা, সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়

পোল