হাল্লার রাজা নেই। তার সেনা-সামন্তও নেই। কিন্তু যুদ্ধ আছে। গল্পকথা নয় একেবারে সত্যিকারের যুদ্ধ। পরিণাম বীভৎস হবে জেনেও যুদ্ধের দাবি ওঠে। কিন্তু এই দলে সাধারণ মানুষ কতজন রয়েছেন? উত্তর খুঁজলেন পাক ইমাম। ঠিক কী জানালেন? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
ইটের জবাব পাথর দিয়ে দিতে হবে! এমনটা গড় দাবি। সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই তা স্পষ্ট হয়। তবে ইট বলতে এখানে বুলেটের কথা বলা হচ্ছে। তাই পাথরটা বোমা হলেও আপত্তি নেই। বরং তাতেই আনন্দ পাবেন কেউ কেউ। বিশেষ করে যারা ভারত-পাক যুদ্ধের(India-Pak Conflict) দাবিতে সরব হচ্ছেন, তারা তো বটেই।
আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই দুই মুলুকের প্রধান আলোচ্য বিষয়। নতুন কিছু নয় অবশ্য। স্বাধীনতার পর থেকে বহু যুদ্ধের সাক্ষী দুই প্রতিবেশী দেশ। সেসবের পরিণাম বীভৎস হয়েছে বইকি। তাও আবার উঠেছে যুদ্ধের(India-Pak Conflict) দাবি। কারণ অনেকেই করছেন ওটাই একমাত্র প্রতিশোধের উপায়। এর আগে সার্জিকাল স্ট্রাইকের মতো ঘটনা গোটা দেশ উৎসবের মতো উদযাপন করেছিল। সিনেমা হল হাততালিতে ভরেছিল। আরও কত কি! তাই এবারও এমন কিছু হোক, চাইছেন অনেকেই। যুদ্ধের(India-Pak Conflict) প্রভাব সুদূরপ্রসারী। স্রেফ একদিনে তা মিটে যাবে এমন বালাই নেই। কতশত নিরপরাধ প্রাণ হারাবেন বলাই বাহুল্য। তবু যুদ্ধ চাই, যুদ্ধ চাই রব উঠেছে। এই আবহে পাকিস্তানের লাল মসজিদে খানিক অন্যরকম ছবি ধরা পড়ল।
ইসলামাবাদের এই জনপ্রিয় মসজিদে প্রতিদিন ভালোই জমায়েত হয়। ইমাম আবদুল আজিজ হাজির নেতৃত্বে প্রার্থণা সারেন সকলে। রোজের এই নিয়মে ব্যতিক্রম থাকে না সেইভাবে। এদিনও প্রার্থনা চলছিল। কিন্তু তা শেষ হওয়ার পর ইমাম বিশেষ কিছু বক্তব্য রাখেন। তাতে এটুকু স্পষ্ট হয়, যে পাকিস্তান প্রশাসন সম্পর্কে রীতিমতো ক্ষোভ রয়েছে তাঁর। এখানেই প্রশ্ন উঠতে পারে, পাকিস্তানের ইমাম হয়ে সে দেশের প্রতি কীসের ক্ষোভ? সেক্ষেত্রে ফিরে দেখতে হয় কয়েকদিন আগের ঘটনায়। সেদিন প্রার্থনার আগে আচমকা হামলা হয় লাল মসজিদে। যা কোনও যুদ্ধের আঘাত নয়। নেপথ্যে কে, কী অভিপ্রায়, তা বিতর্কিত। কিন্তু এমন ঘটনা যে পাকিস্তানে স্বাভাবিক তা ইমামের কথায় স্পষ্ট হয়। যেহেতু ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে এত চর্চা চলছে, তাই মসজিদে আসা সকলকে ইমাম প্রশ্ন করেন, কতজন ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের(India-Pak Conflict) পক্ষে? অবাক করার মতো বিষয়, উপস্থিত কেউই হাত তুলে সমর্থন জানায়নি। তাতেই যেন বল পান ইমাম। গর্জে ওঠেন তাদের উপর চলা অন্যায় অত্যাচার নিয়ে। তিনি নিজেও যে যুদ্ধের(India-Pak Conflict) পক্ষে নন সে কথা সাফ জানিয়ে দেন। পাশাপাশি এও বলেন, পাকিস্তানের মুসলিমরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অন্তত ভারতের তুলনায়। তাঁর ইঙ্গিত ভারতে মুসলিমদের যে নজরেই দেখা হোক, পাকিস্তান যেভাবে মুসলিমদের উপর অত্যাচার চালায়, ভারতে তা হয় না। শুধু তাই নয়, আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়েও সরব হয়েছেন ইমাম। সে দেশে প্রায়শই সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ কিংবা ধর্মগুরুরা নিখোঁজ হয়ে যান। কে বা কারা সেই ঘটনার নেপথ্যে, তার তদন্তও হয় না ঠিকমতো। এই প্রসঙ্গ ধরেই ইমামের আক্ষেপ, ভারতে তো এমন কিছু হয় না!
আসলে, যুদ্ধ কতটা ভয়ানক তা একটু ভাবলেই টের পাওয়া যায়। রাশিয়া-ইউক্রেন কিংবা গাজা-প্যালেস্তাইনের মতো দেশের পরিণতি সকলেই দেখেছে। তাতেও নতুন করে যুদ্ধের ভাবনা অবাক করে। জঙ্গি হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকে শাস্তি পাক, এই দাবি ওঠা একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে যুদ্ধের(India-Pak Conflict) বীভৎস পরিনতির কথাও ভুললে চলবে না। ইমামের কথায় সেই আশঙ্কা স্পষ্ট। ধর্মকে সামনে রেখে যুদ্ধের বিষয়টাকে একেবারেই সমর্থন করেননি তিনি। আসলে যুদ্ধ হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসনের, তবে তাতে সাধারণ মানুষের সায় থাকবে? তা ভাবার প্রয়োজন মনে করে না উপর তলার মানুষজন। তাই মোটের উপর অনেকেই ধরে নেন, যুদ্ধ হোক এটাই সকলের দাবি। ভিন্নসুরে কথা বলা মানেই দেশদ্রোহ! কিন্তু এবার পাকিস্তানের ইমাম যুদ্ধের(India-Pak Conflict) বিপক্ষে সুর তুললেন। ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে বোঝালেন, যুদ্ধ বন্ধ হোক। তাতে এটুকু অন্তত স্পষ্ট হতেই পারে, সবাই যুদ্ধ চায় না। ভারত-পাকিস্তান দুই মুলুকেই এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যারা যুদ্ধ চান না।