জেলে থাকা আসামীরা হামেশাই নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়াচ্ছেন, কেউ বা বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। মনোবিদদের পরামর্শ, খাওয়া-ঘুমের মতোই যৌনতাকেও প্রাথমিক চাহিদা হিসেবে গণ্য করা হোক। আর তাই কয়েদখানার ভিতরেই তৈরি হয়েছে বিশেষ এক ঘর, যেখানে যেকোনও কয়েদি ঘণ্টা দুই সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
দীর্ঘদিন যৌনতার অভাবেও নাকি শরীর অসুস্থ হয়। এমন দাবি খোদ চিকিৎসকদের। সমস্যা বলতে মানসিক অস্বস্তি, এমনকি নিজেকে শেষ করে দেওয়া ইচ্ছাও হতে পারে। বিষয়টার গুরুত্ব বুঝে অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালির জেল কর্তৃপক্ষ। সংশোধানাগারেই খোলা হয়েছে বিশেষ এক ঘর। সেখানে চাইলেই যৌনতায় লিপ্ত হতে পারেন কয়েদিরা। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি।
স্বপ্নের মতন সুন্দর শহর ইতালি। রাস্তাঘাট, খাবারদাবার সবই নজরকাড়া। ভিনদেশের সৌন্দর্য সামনে থেকে দেখার অবকাশ মেলে কম, তাই ভরসা সোশাল মিডিয়া। তাতে যেটা দেখানো হয় না, তা হল মনোরম দৃশ্যের আড়ালে থাকা অন্ধকার দিকটা। শোনা যাচ্ছে ইদানীং ইতিলাতে অপরাধের সংখ্যা মাত্রা ছাড়িয়েছে। হিসাব বলছে বর্তমানে সাদার্ন ইউরোপের এই ছোট্ট দেশটিতে মোট ৬২,০০০ অপরাধী জেলবন্দি। দেশের যত জেলখানা রয়েছে, তার মিলিত ধারণক্ষমতার চাইতেও ২১ শতাংশ বেশি! আর এতেই এক বড়রকমের বিপত্তির মুখে পড়তে হয়েছে ইতালিকে। জেলে থাকা আসামীরা হামেশাই নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়াচ্ছেন। কখনও তা এতটাই মারাত্মক হয়ে উঠছে, যে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে জেল কর্তৃপক্ষ। সমস্যাটা আরও বাড়ছে যখন কিছু কয়েদি আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন।
এই অবস্থার নিস্পত্তি ঘটাতেই অভিনব ফন্দি এঁটেছে সেন্ট্রাল আম্ব্রিয়া এলাকার এক সংশোধানাগার। এমনিতে জেলের ভিতর স্বামী, স্ত্রী বা পার্টনারের সঙ্গে স্বাভাবিক মেলামেশার অধিকার থাকে না। খুব বেশি হলে দূর থেকে একবার দেখা করা কিংবা টেলিফোনে গলার স্বরটুকু শোনা। তাও কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারিতে। ফলে একা থাকার হতাশা আরও গ্রাস করে কয়েদিদের। তার থেকেই নিজেকে শেষ করে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন কেউ কেউ। এক্ষেত্রে মনোবিদদের পরামর্শ, খাওয়া-ঘুমের মতোই যৌনতাকেও প্রাথমিক চাহিদা হিসেবে গণ্য করা হোক। তাতেই অনেক সমস্যা মিটবে। যৌনজীবন অব্যহত থাকলে ডিপ্রেশন বা বদমেজাজের হাত থেকেও সহজেই মুক্তি মিলবে বলে বিশ্বাস চিকিৎসকদের। আর তাই কয়েদখানার ভিতরেই তৈরি হয়েছে বিশেষ এক ঘর। যেখানে আবেদনের ভিত্তিতে যেকোনও কয়েদি ঘণ্টা দুই সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। তবে যার-তার সঙ্গে নয়, কেবলমাত্র জেলের বাইরে থাকা তাঁর সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে। সেই ঘরে থাকছে কেবলমাত্র একটি বিছানা এবং শৌচালয়। তাছাড়া, ঘরটির দরজা বন্ধ করা যাবে না কোনও অবস্থাতেই, জারি হয়েছে এমন নিয়মও।
কিন্তু এতেই কি সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে? আম্ব্রিয়ার ‘প্রিজনার’স রাইটস’ কর্মী গ্যিউসেপ্পে ক্যাফোরায়ো বলছেন, এর সমস্তটাই এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। সফলতা পেলে ব্যবস্থাটিকে আরও সাজিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু দাগী কোনও আসামি যদি বারবার জেলের বাইরে থাকা তাঁর সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীর সঙ্গে দেখা করবার সুযোগ পান, তাহলে কি আরও কোনও অসামাজিক কাজ করবার সম্ভাবনা রয়েই যাচ্ছে না? বাইরের সঙ্গীটি নিজের সঙ্গে করে কোনও জিনিস আনলে হয়তো তা চেকিং-এ আটকে যাবে। কিন্তু তথ্যের আদানপ্রদান রুখে দেওয়া যাবে কি? ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস্ এবং স্যুইডেন-এর বেশ কিছু জেলখানা বহুদিন ধরেই এমন পরিষেবা দিয়ে থাকে সেখানকার বাসিন্দাদের। ইতালির ক্ষেত্রে তা কতটা কার্যকরী হয়, তাই এখন দেখার অপেক্ষা!