পেশা আর নেশা এক, এমন সৌভাগ্য সকলের হয় না। সেক্ষেত্রে কোনও একটা বিষয়কে ত্যাগ করতেই হয়। বেশিরভাগ গল্পেই বিষয়টা খানিকটা এরকম। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে। সিনেমা কিংবা গল্পে নয়, বাস্তবেও ব্যতিক্রম রয়েছে। ঠিক কেমন আসুন শুনে নেওয়া যাক।
একা অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল। একা অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পারেনি। শুধু কবিতা নয়, বাস্তবেও এমন কতশত অমলকান্তিকে খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা ডাক্তার, মাষ্টার কিংবা উকিল হলেও রোদ্দুর হতে পারেনি। কারণ সেদিনই জানলাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যেদিন জানলা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া রোদ্দুর তাকে টেনে নিয়ে যেতে চেয়েছিল বহুদূর।
তবে ওই যে, ব্যতিক্রম সব জায়গায় রয়েছে। সবসময় যে সেই ব্যতিক্রম নিয়ে সিনেমা তৈরি হবে এমনও নয়। বাস্তবেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন এমন অনেকে, যাঁরা রোদ্দুর বুকে নিয়েই ডাক্তার, উকিল কিংবা মাষ্টার হয়েছেন। পেশা যাই হোক, শখটাকে নেশায় পরিণত করে এঁরা বেঁচে আছেন। এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি রয়েছে যেখানে দেখা যাবে একজন বিখ্যাত উকিল নিজের পেশা ছেড়ে মাইক ধরেছেন। কিংবা পেইন্টব্রাশ ব্যাগে নিয়ে ঘুরছেন কোনও এক ধন্বন্তরি চিকিৎসক। এরা নিজের কাজ নিয়ে বেজায় খুশি। যেটুকু অসুখ সারিয়ে নেন শখ কিংবা নেশার মধ্যে দিয়ে। সারারাত চুটিয়ে অনুষ্ঠান করে পরেরদিন সফলভাবে অপারেশন করেছেন এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, সারাদিন গুলি বারুদ নিয়ে যাদের কাজ, শত্রুর খুলি উড়িয়ে দেওয়ার আগে যারা দু’বার ভাবেন না, সেই সেনা জওয়ান নিজের শখ নিয়ে ভাবছেন!
অবাক লাগলেও সত্যি। এই মুহূর্তে চর্চায় রয়েছেন এমনই দুজন। যারা পেশায় সেনা, নেশায় গ্রাফিক্স ডিজাইনার। কথা বলছি লেফটন্যান্ট কর্নেল হর্ষ গুপ্তা এবং হাবিলদার সুরিন্দর সিং সম্পর্কে। দুজনেই সেনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতদিন সময় সুযোগ মতো ছবি ডিজাইন করতেন। তবে কিছুদিন আগে একটা অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছেন। যা অসাধারণ বললেও ভুল হয় না। প্রথমে বিষয়টা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে জানাজানি হতেই হইচই শুরু হয়েছে। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক। যে বিষয়টা নিয়ে গোটা দেশজুড়ে চর্চা চলছে সেই ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সঙ্গে এঁদের নাম যেভাবে জড়িয়েছে, তা চর্চা হওয়ারই মতো। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই দুজনকে না কোনও সাংবাদিক বৈঠকে দেখা গিয়েছে, না কোনও অনুষ্ঠানে, তাহলে এঁদের সঙ্গে কীভাবে জুড়েছে সেনা অভিযানের নাম?
আসলে, অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পাশাপাশি আরও একটা বিষয় নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়। সেটা হল, এর লোগো। ইংরাজিতে বড় হরফে লেখা। মাঝের ‘O’ অক্ষরটির জায়গায় একটা সিঁদুরের কৌটো। পাশে কিছুটা সিঁদুর ছড়িয়ে রয়েছে। দেখা মনে হবে পেশাদারের কাজ। বড় কোনও অ্যাড এজেন্সিকে দিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে। কিন্তু সেটা একেবারেই না। এই লোগো ডিজাইন করেছেন ওই দুজন জওয়ান, যারা পেশায় সেনা হলেও ছবি আঁকতে বড় ভালোবাসেন। সেনার তরফেই পরবর্তীকালে এই দুজনের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়। সেই সঙ্গে এও বলা হয়, অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) কোনও সাধারণ সেনা অভিযান নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে গোটা দেশের সম্মান, আবেগ। তাই এর লোগো বাইরের কারও তৈরি হতে পারে না। যে কোনও পেশাদারি সংস্থাতেই এমন মানুষ দেখা যায়, যারা অন্য কিছুতে পারদর্শী। সেনাবাহিনীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া হয়তো কঠিন। কিন্তু নেই বললে ভুল হবে। সম্প্রতি যা প্রমাণ করে দেখানে এই দুই সেনা জওয়ান।