বদলে যাবে দেশের মানচিত্র। এমনই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। কী করলে বিপদ এড়ানো সম্ভব? চিন্তায় ঘুম উড়েছে অনেকেরই। ঠিক কেমন বিপদ? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
বদলে যেতে পারে মানচিত্র। পালটে যেতে পারে দেশের পরিস্থিতি। ইঙ্গিত তেমনই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব বেশি দেরি নেই। এমন কিছুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা সত্যি হলে, বদলে যাবে পৃথিবীর মানচিত্র। দেশভাগ বললেও ভুল হয় না। তবে দেশভাগ বলতে যে বেদনার স্মৃতি বোঝায়, এক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক সেরকম নয়। সুতরাং একে অন্যরকম দেশভাগ বলাই ভালো।
দেশভাগের স্মৃতি ভোলার নয়। স্বাধীনতার আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকা বেদনার এই অধ্যায় এখনও কুড়ে কুড়ে খায় অনেককে। তালিকা মোটেও ছোট নয়। এখনও সে প্রসঙ্গ ফিরে ফিরে আসে বইকি। বিশেষ করে দুই দেশের কূটনৈতিক সমর্কে টানাপোড়েন চললে, দেশভাগের কথাই মনে পড়ে। চাইলেই হয়তো তা আটকানো যেত। তাতে আর কিছু হোক না হোক, কিছু মানুষ প্রাণে বাঁচতেন। কিছু পরিবার এক হয়ে থাকতে পারত। জমি-বাড়ি ছেড়ে অসহায়ের মতো পালিয়ে আসতে হত না অনেককে। তবে এখানে যে দেশভাগের ইঙ্গিত মিলছে, তা চাইলেও হয়তো এড়ানো সম্ভব নয়। কারণ বিষয়টা মানুষের নিয়ন্ত্রণেই নেই। কী ভাবছেন এই শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এমন কিছু আদৌ রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় মানুষের পক্ষে?

আলবাত রয়েছে। প্রকৃতির তাণ্ডব রোধের ক্ষমতা তার নেই। লাখ লাখ খরচ করে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝড়ানো সম্ভব, কিন্তু বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। আর সেই কারণেই ভূমিকম্প, সুনামি, সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতি বছর প্রাণ কাড়ছে হাজার হাজার মানুষের। মানচিত্র বদলের বিষয়টাও এড়ানো অসম্ভব এই প্রকৃতির কারণেই। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, টেকটনিক প্লেটের জায়গা বদলের কারণে পৃথিবীর মানচিত্রে বেশ কিছু অদলবদল ঘটতে পারে। বলে রাখা ভালো এই টেকটনিক প্লেটের উপরেই ভূখণ্ডের অবস্থান। তাই এর সরণে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ থেকে সুনামি, এমনই অনেক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ এই টেকটনিক প্লেটের সরে যাওয়া। তবে তা মারাত্মক পর্যায় গেলেই মানচিত্রে বদলের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ভূ-গবেষকদের মতে, সমস্যায় পড়তে পারে ভারত। অর্থাৎ এই টেকটনিক প্লেট সরে যাওয়ার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেটি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্পষ্ট করে বললে ভারত ভূখণ্ড যে প্লেটের উপর রয়েছে, তা সরে যাওয়া বা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাই করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, এমনটা হলে ভারতের কিছুটা অংশ উধাও হয়ে যাবে। ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যাবে শয়ে শয়ে শহর গ্রাম। প্রাণহানীর হিসাব না করাই ভালো।
তবে সবটাই অনুমানের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে। মনে করা হচ্ছে, হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে যে প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তার ফলেই এই টেকটনিক প্লেটের সরণ। প্রায় ৬ কোটি বছর আগে এমনই কিছু ঘটেছিল বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই সময় ইউরেশিয়া প্লেটের সঙ্গে ইন্ডিয়ান প্লেট জুড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল। নিঃসন্দেহে তা ভয়ঙ্কর। আবারও এমন কিছু হলে তার প্রভাব হয়তো আরও মারাত্মক হবে। যদিও বিষয়টা নিয়ে গবেষনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ঠিক কতদিনের মধ্যে এমন বিপদ ঘটতে পারে, নিশ্চিত করে সে কথাও বলা হয়নি। স্রেফ ইঙ্গিত মিলেছে। আলাদা হয়ে সতর্ক হওয়ার অবকাশও প্রায় নেই এক্ষেত্রে। তবে বিষয়টা চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ভারত-কাশ্মীর কূটনৈতিক জটিলতার কারণে। অনেকেই মনে করছেন, আবারও দেশভাগের অন্ধকার দিন ফিরছে। টেকটনিক প্লেট সরে যাওয়ার ঘটনা যে তার চেয়েও ভয়ঙ্কর তা অনায়াসে বলা যায়। কিন্তু এই মুহূর্তে বিষয়টা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার হয়তো কিছু নেই।