কলকাতা না হায়দরাবাদ? সেরার সেরা বিরিয়ানি কোনটা? এই বিতর্ক অতীত। আপাতত হার হয়েছে দু-পক্ষেরই। জনপ্রিয় অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার বিচারে সেরার সেরা শিরোপা পেয়েছে দিল্লি। কোন দোকানে জন্য মিলল স্বীকৃতি? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
আইপিএল থেকে বিরিয়ানি, কলকাতা বনাম হায়দরাবাদ বরাবরের ট্রেন্ডিং। এক্ষেত্রে অবশ্য বিরিয়ানির পাল্লা ভারী। আইপিএল বছরে একবার, বিরিয়ানি বারোমাস। তাই কলকাতা না হায়দরাবাদ, বিরিয়ানির গুণে সেরার সেরা কে সেই দ্বন্দ্ব লেগেই থাকে। সম্প্রতি বিতর্কে ইতি টেনেছে জনপ্রিয় অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ সুইগি। তাদের বিচারে সেরার সেরা বিরিয়ানির খেতাব নিয়ে গেছে দিল্লি। সুতরাং বিরিয়ানি-যুদ্ধে হার হয়েছে কলকাতা আর হায়দরাবাদের।
ছুটির দিনের খানাপিনা হোক কিংবা গেট টুগেদার, এক প্লেট বিরিয়ানি হলে কিচ্ছু চাই না। ভুরভুরে গন্ধ, ঝরঝরে চাল, তুলুতুলে মাংসের এই নবাবি খানাটি, যাকে বলে বাঙালির আপনজন। আর, সেই বিরিয়ানির স্বাদ বাড়িয়ে দেয় আলু। এটি ছাড়া বাঙালির বিরিয়ানির যেন স্বাদ খোলে না। রসনাতৃপ্তি তো অনেক দূরের কথা। কিন্তু মজার বিষয় হল, বাংলার বাইরে পা দিলেই দেখা যায়, বিরিয়ানির প্লেটে আলু ভ্যানিশ। এমন নয় যে, তাঁরা আলু দেন না। আর এখানেই যত দ্বন্দ্ব। এ বলে আমায় দখ তো, ও বলে এমায়। হায়দরাবাদ বিরিয়ানি যদি মশলায় বাজিমাত করে, তবে কলকাতা বিরিয়ানির ট্রাম্প কার্ড আলু। কেউ কেউ বলেন, বিরিয়ানিতে আলু ছিলই না কোনওদিন। থাকার কথা মাংসের, সেটি থাকে বহাল তবিয়তে। বরং এই আলু যোগকে বলা যায় বিরিয়ানির বাঙালিকরণ। তবে একটা কথা অস্বীকারের উপায় নেই, বিরিয়ানি নিয়ে যাবতীয় উন্মাদনা, তর্ক-বিতর্ক সব এই দুই শহরেররই।
সেই সুবাদে কলকাতা আর হায়দরাবাদকে বিরিয়ানিতুতো সহোদর বলা যায়। দুটো শহরের লোকই বিরিয়ানি বলতে পাগল। হায়দরাবাদের ‘কাচ্চি’ বিরিয়ানি আর কলকাতার মাটন বিরিয়ানি আলু ও ডিম-সহ– দুই শহরের রসনার সদরপথকে আসনাই দিয়ে মুড়ে রেখেছে। ডেগচি আর হাঁড়ি একটু বেঁকিয়ে বসিয়ে তাতে দম দেওয়া আর ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে রান্না, এই যদি হয় হায়দরাবাদি বিশেষত্ব; তাহলে কলকাতা তার মোলায়েম স্বাদ আর মশলার সূক্ষ্ম ব্যবহার দিয়ে মাতিয়ে দেয় বিরিয়ানির অন্দর। দোকানের কথা না বললেই নয়। মোড়ে মোরে দেখা মেলে লাল কাপড় মোড়া বড় বিরিয়ানির হাঁড়ি। ব্যস্ত রাস্তার ধারে হলে তো কথাই নেই! সন্ধ্যা হতে না হতেই হাঁড়ি শেষ। সুতরাং স্রেফ আলোচনা নয়, বিরিয়ানি খেতেও বড় ভালোবাসে কলকাতা বা হায়দরাবাদের মানুষজন। মাঝে মধ্যেই অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার তরফে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় কত কত প্যাকেট বিরিয়ানি অর্ডার করেছে শহরবাসী। তাতেও এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়। বিতর্কের দুই প্রান্তে সেই কলকাতা আর হায়দরাবাদ। এসব দেখেশুনে যদি এমনটা ভেবে নেওয়া হয় এই দুই শহরের মধ্যে কোনও একটি সেরার সেরা বিরিয়ানি তকমা পাবে, তাহলে ভুল হবে। কারণ সুইগির মতো ডেলিভারি সংস্থার বিচারে, সেই স্বীকৃতি পেয়েছে দিল্লি।
শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। চলতি বছরে সুইগির বিচারে বেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে দিল্লির বিকাগনে বিরিয়ানি (Bikkgane Biryani)। সেই সুবাদে দিল্লির বিরিয়ানিকেই সেরার সেরা বলা হচ্ছে। যদিও এক্ষেত্রে সুইগির তরফে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এই পুরস্কার স্রেফ খাবারের মান আর বিক্রির হার দেখে দেওয়া হয় না। রেস্তরাঁর মান, সেখানকার পরিবেশ, কর্মীদের দক্ষতা সবকিছু বিচার করে সেরার সেরা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আর সেই হিসাবে ২০২৫-এর সেরা হয়েছে দিল্লির ওই দোকান। শুধু বিরিয়ানি নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে পুরস্কার পেয়েছে দেশের বিভিন্ন রেস্তরাঁ। এইভাবে রেস্তরাঁগুলোকে উৎসাহিত করতে চান তাঁরা, এমনটা দাবি সুইগি কর্তৃপক্ষের। তবে এবারের সেরার সেরা রেস্তোরাঁ বিচার করতে গিয়ে আরও একটি দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলেছে সুইগি। সেরার সেরা বিরিয়ানির পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছে দিল্লি।