গোঁফ দিয়ে যায় চেনা! কবিতার কথা নয়, এ যেন বাস্তব সত্যি। এ দেশেই রয়েছেন এমন কয়েকজন যাঁদের যাবতীয় জনপ্রিয়তার নেপথ্যে স্রেফ ‘গোঁফ’। কাদের কথা বলছি? তাঁদের গোঁফের বিশেষত্বটাই বা কী? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
টানা একমাস গোঁফ কামানো চলবে না। এমনটাই রীতি। মোটের উপর সকলেই তা মেনে চলেন। তবে ভারতে নয়, এমন চল রয়েছে মার্কিন মুলুকে। নিয়ম অনুযায়ী, গোটা মার্চ মাস গোঁফ কামানো চলে না। কিন্তু এসব নিয়ম না মেনেও গোঁফের জোরে জগত মাত করেছেন, এমন ভারতীয়র সংখ্যা অনেক।
কথায় বলে, গোঁফ পুরুষের অহংকার! এঁদের দেখলে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। শুধু গোঁফ না কেটে বড় করাই নয়, তার রীতিমতো যত্নও করেন এঁরা। কারণ এই গোঁফ দিয়েই একটা আস্ত গাড়ি টানতে পারেন এঁদের কেউ কেউ। আবার ভারী পাথর গোঁফে ঝুলিয়ে অনায়াসে কয়েক মাইল পেরোতে পারেন। চোখে ধুলো দেওয়া ভেলকিবাজী নয়, এমন ক্ষমতা সত্যই রয়েছে কয়েকজন ভারতীয় গোঁফুরের।
:আরও শুনুন:
দাড়ি-গোঁফ রাখা চলবে না, সংস্থার ‘আজব’ ফরমানে চাকরি হারালেন শতাধিক শিখ কর্মী
তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন, রমেশ চাঁদ কুশয়া। তাঁর গোঁফের দৈর্ঘ্য সাড়ে সাত ফুট। অবাক করার মতো হলেও এমনটাই সত্যি। তবে রমেশের চাইতেও বড় গোঁফের মালিক এ দেশে রয়েছেন। তিনি রাম সিং চৌহান। গোঁফের দৈর্ঘ্য ১৮ ফিট। শুধু তাই নয়, গোঁফ দিয়ে নানা রকমের কায়দা করে দেখাতে পারেন ইনি। কায়দার কথা বললে ফুল চাঁদের কথা না বললেই নয়। রাজস্থানের এই ব্যক্তি গোঁফের জোরে আস্ত একটা গাড়ি টেনে নিয়ে যেতে পারেন। আকারেও গোঁফজোড়া বেশ লম্বা। কাজেই গাড়ির সামনে তা বেঁধে রাখতে সমস্যা নেই। আর একবার শক্ত করে বেঁধে দিলেই সামনে দিকে সেই গাড়ি টেনে নিয়ে যাবেন ফুল চাঁদ। প্রতিবছর পুষ্করে যে বিখ্যাত মেলা হয়, সেখানে এই গোঁফওয়ালার দেখা মেলে। গোঁফের কারণেই তাঁর যাবতীয় পরিচিতি, সেটা আশেপাশের ভিড় দেখলেই বোঝা যায়।
:আরও শুনুন:
পাত্রের গোঁফ-দাড়ি থাকলে বিয়েই বাতিল, আজব নিয়ম রাজস্থানের গ্রামে
তালিকা এখানেই শেষ নয়। গোঁফের উপর মোমবাতি জ্বালিয়ে কেরামতি দেখাতে পারেন রাজেন্দ্র তিওয়ারি। তাঁর ক্ষেত্রে গোঁফ আহামরি লম্বা নয়, তবে রীতিমতো ঘন। তাই অনায়াসে তার মধ্যে মোমবাতি ঢুকিয়ে রাখা যায়। সেই নাচ করলেও মোমবাতি পড়ে না। রীতিমতো স্টেজে উঠে এমন ভেলকি দেখিয়ে ফেরেন রাজেন্দ্র। অন্য অনেকে যা ভাবতেও পারেন না, তাঁর ক্ষেত্রে সেই কাজ অনেকটাই সহজ। আবার সেনাবাহিনীতেও গোঁফের গুণে নিজেকে আলাদা করেন কিছু জওয়ান। মূলত ভারত-পাক বর্ডারে এঁদের দেখা মেলে। লম্বা মোটা গোঁফ উঁচিয়ে শত্রদেশকে হুঁশিয়ারি দিতে এঁরা ওস্তাদ। সুতরাং এদেশে গোঁফ নিয়ে আলাদা কোনও নিয়ম বা রীতির চল না থাকলেও, গোঁফ নিয়ে মাতামাতি নেহাতই কম নেই। গোঁফের কদর করেন এমন পুরুষের সংখ্যাও অনেক। তাতে সত্যি সত্যিই গর্ব করার মতো কিছু রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন বিতর্কিত। তবে এদেশের কবিদের গোঁফ নিয়ে লেখা কবিতাগুলো যে সাথর্ক তা বলাই যায়!