R K Laxman: কীভাবে জন্ম হয়েছিল Common Man-এর?

  • Published by: Saroj Darbar
  • Posted on: July 17, 2021 12:50 pm
  • Updated: July 17, 2021 12:58 pm

চটুল হাস্যরস নয় বরং তীব্র সমালোচনা থাকত তাঁর তুলিকলায়। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু নিজের ব্যঙ্গচিত্র চেয়ে নিয়েছিলেন তাঁর কাছে। তিনি আর কে হতে পারেন! স্বয়ং আর কে লক্ষ্মণ! তাঁর অমর সৃষ্টি ‘কমন ম্যান’। আম জনতার প্রতিনিধি। সেই কমন ম্যান-এর জন্ম কীভাবে হয়েছিল জানেন?

ভোট হোক অথবা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। বাজেট হোক কিংবা সবজি বা গ্যাসের দাম বাড়া – সবসময় কপাল পোড়ে আমজনতার। খবরের কাগজে হেডলাইন হয়। টিভি চ্যানেলে বিতর্ক বসে। বিরোধী পক্ষ যখনই যাঁরা থাকেন, তাঁরা গলা ফুলিয়ে মিছিলে মিটিং-এ বলেন, ‘সরকার সাধারণ মানুষের কথা ভাবছে না।’ কে এই সাধারণ মানুষ! কোনও বিশেষ চরিত্র! বয়স কত! ধর্ম-বর্ণ বা লিঙ্গ কী! ভোটের সময় যারা নেহাত সংখ্যা। তারাই আমজনতা, ইংরেজিতে ‘কমন ম্যান’। এই জনতার আসলে নেই কোনও জাতি-ধর্ম-বর্ণ। আমজনতার সমস্যা, সবসময়ই এক, একই ধরনের। এটাই বোধহয় ছিল আর.কে. লক্ষ্মণের ‘কমন ম্যান’-এর জন্মের প্রথম ধাপ।
প্রথাগত আঁকা শিখতে গিয়ে প্রত্যাখাত হয়েছিলেন মুম্বইয়ের জে.জে স্কুল অফ আর্টসে। সে সময়ের কলেজের অধ্যক্ষ বলেছিলেন, ‘এখানে ভর্তি হতে যে যোগ্যতা লাগে, সেই যোগ্যতার ছিটেফোঁটা তাঁর নেই’। প্রথাগত পড়াশোনা শুরু করলেন। দাদা, সাহিত্যিক আর. কে. নারায়ণ-এর সাহায্য পেলেন। দাদার বিখ্যাত গল্প ‘মালগুড়ি ডে’জ’-এর সঙ্গে ছবি এঁকে হাত পাকাতে লাগলেন। স্থানীয় সংবাদপত্রেও রাজনৈতিক কার্টুন আঁকতে শুরু করলেন। প্রথম জীবনে মুম্বইয়ের একটি সংবাদপত্রে সহকর্মী হিসেবে সঙ্গ পেয়েছিলেন শিবসেনা প্রধান বাল ঠাকরের। তারপর একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে বেশ বেশি মাইনেতেই কার্টুনিস্ট হিসেবে যোগদান।
শুরুতেই যদিও তিনি কমন ম্যান আঁকেননি। নিজের লেখাতেই তিনি জানিয়েছেন, ‘ভারতের মতো বিশাল দেশের বহুধা বিস্তৃতি এবং ঐক্য বোঝাতে তিনি শুরুতে প্রচুর ক্যারেকটার আঁকতেন।’ জনতার ভিড়ে দেখাতেন মানুষের বিচিত্র-বৈচিত্র্য। তারপর জনতা সরিয়ে ক্রমশ বৃত্ত ছোট করতে থাকেন। একজন বিশেষ কাউকে খুঁজছিলেন যাকে কেন্দ্র করে দেখানো যায় সমগ্র কার্টুনকে। যাকে দেখে মনে হবে, ‘এ আমাদেরই লোক’। আমাদের সুখ দুঃখের সাথি। সমগ্র দেশের সবকিছু নির্বিশেষে মানুষের সাধারণ প্রতিনিধি। সাধারণ মানুষ, যারা রোদে পোড়েন, জলে ভেজেন। লোকাল ট্রেনের হাতল ধরে ঝোলেন। বাসের ধারে একটা সিট পেলে, মন খুশি হয়ে যায়। বাজারে বা কন্ডাক্টরের সঙ্গে ভাড়া বা দাম নিয়ে দরাদরি করেন, তাঁদের মানুষ, তাঁদের একজন।
লক্ষ্মণের ভাবনায় আসে, এক অবয়ব। টুইলের শার্ট, ধুতি, পায়ে ক্যানভাসের জুতো। খ্যাংরা গোঁফ। টাকমাথায় এক গোছা সাদা চুল। হাতে ছাতা। গায়ে চেকচেক কাপড়ের কোট। আমাদের আশেপাশের সাধারণ মধ্যবিত্তর চেহারা হয় যেমন। আমাদের আশেপাশের ভিড়ের মধ্যের এক চরিত্র। সেই মানুষকে লক্ষ্মণ আনলেন, তাঁর কার্টুনে। যে কোনও ঘটনায় তিনি শরিক। প্রায় নীরবে দেখতে থাকেন শুধু। সবকিছুরই সাক্ষী, কিন্তু থাকেন একেবারেই চুপ।
কমন ম্যান সবখানেই আছেন। গ্রামের সমস্যা। আমলা বা মন্ত্রী সকাশে, বদ ব্যবসায়ীর দুর্নীতির সাক্ষী হয়ে, অর্থনীতির বিশেষজ্ঞের মতামতে, অধিকারের জন্য আন্দোলনরত ছাত্র অথবা ধর্মঘটী শ্রমিক-দের সঙ্গে, স্বমহিমায় সবখানেই তাঁর অবাধ বিচরণ। আর এই অবাধ বিচরণের জন্য সমস্ত মুন্সিয়ানা প্রাপ্য আরকে-র।
ক্রমেই জনতার দরবারে চূড়ান্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘কমন ম্যান’-এর কার্টুন। হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের জাতীয় প্রতীক।

আরও শুনুন: টুক করে পাঠিয়ে তো দেন Emoji, মানে না জানলে কিন্তু পুরোটাই Emotional Atyachar!

এমন কার্টুন তৈরির ক্ষেত্রে স্টাইল বা বিষয় নির্বাচনে লক্ষ্মণ কি কাউকে পথিকৃৎ মানতেন?
শিল্পী নিজে সাক্ষাৎকারে দু একবার বলেছেন, শিল্প-আলোচকরা বলেছেন, ব্রিটেনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কার্টুনিস্ট ডেভিড লো-র কাজ থেকে অনুপ্রাণিত ছিল তাঁর ধরন। যদিও লো-র কাজে থাকত যৎসামান্য ডিটেইল। লক্ষ্মণের কাজে অত্যন্ত যত্নে তৈরি অজস্র ডিটেইল তাঁর কাজকে সরলতা ও তীব্রতা দুই-ই দিত সমানভাবে।

প্রায় পাঁচ দশক ধরে এইভাবে তিনি আপামর ভারতবাসীর ড্রয়িংরুমে শরিক হয়েছিলেন। কখনও কাউকেই রেয়াত করেননি। যে কোনও বিষয়েই মতবাদ নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের বারবার পেনসিল এবং তুলির আঁচড়ে বিদ্ধ করেছেন। নেহাত হাস্যরস নয়, বরং সেখানে থাকত কঠোর সমালোচনা থাকত। খানিকটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার মতো করেই। সেইসব নেতা মন্ত্রীরা চটে থাকবেন এ খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু উলটপুরাণ হয়েছে অনেকবারই।
১৯৬২ সাল। সদ্য শেষ হয়েছে চিন ভারত যুদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে বিঁধে এঁকে চলেছেন, একের পর এক কার্টুন। একদিন সকালে আচমকা বেজে উঠল টেলিফোন। ফোন ধরে নিজের বিস্ময়কে কাটাতে পারছিলেন না আর কে। যাকে সকাল বিকেল তুলোধোনা করছেন, সেই মানুষ, দেশের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তাকে ফোন করেছেন! নিশ্চয় তাহলে কিছু কড়া কথা শোনাবেন। তিনিও জবাব দেওয়ার জন্য মনে মনে প্রস্তুত। আরও অবাক করে দিয়ে জওহরলাল বললেন, ‘আজ সকালে আপনার আঁকা আমার কার্টুনটা বড্ড ভাল লেগেছে। আপনার আঁকা আসল ছবিটা কি আমাকে দেওয়া যাবে! আমি ওটা ফ্রেমবন্দি করে নিজের কাছে রাখতে চাই।’
এই সৌজন্য আরকে-কে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছিলেন। শিল্পী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিজের আঁকা ছবি পাঠালেও। কার্টুনিস্ট হিসেবে তিনি থেকে গিয়েছিলেন সমান ক্ষুরধার।
তিনি কমন ম্যানের প্রতিনিধি। মুম্বইয়ের ওরলি সি লিঙ্কে তাঁর সৃষ্টি কমন ম্যানের প্রতিকৃতির আদলে তৈরি হয়েছে ভাস্কর্য। সাধারণ মানুষের ব্যস্ত চলাচলের নীরব সাক্ষী, দাঁড়িয়ে আছে, সঙ্গ দিচ্ছে সাধারণ মানুষের দিনযাপন আর চিন্তার।

 

আরও শুনুন
Bangla Podcast: a tiger becomes single father after the tigress died

অরণ্যে আশ্চর্য! ‘Single Father’ হয়ে বাচ্চাদের সামলাচ্ছে বাঘ

বাঘিনির অবর্তমানে, বাঘ তার সন্তানদের দেখভাল করে সযত্নে বড় করে তুলছে। এমন আশ্চর্য ঘটনার গল্প শুনে নিন লিংকে ক্লিক করে। 

Team সংবাদ প্রতিদিন শোনো

Fifth ocean of the world

World Map: বদলে যেতে পারে পৃথিবীর মানচিত্র, কেন জানেন?

বিশ্বের মানচিত্রে যোগ হল নতুন এক মহাসাগর। কী নাম তার? নয়া এই মহাসাগরের বিশেষত্বই বা কী?

Team সংবাদ প্রতিদিন শোনো

Covid Vaccines For Children Likely By September, Says AIIMS Chief

সেপ্টেম্বরেই শুরু বাচ্চাদের Vaccination, ইঙ্গিত AIIMS প্রধানের

ঠিক কী বলছেন AIIMS প্রধান? শুনে নিন প্লে-বাটন ক্লিক করে।

Team সংবাদ প্রতিদিন শোনো

মিস করবেন না!
News Bulletin: Current News for the day of 18 July 2021

18 জুলাই 2021: বিশেষ বিশেষ খবর– বাড়ছে ATM মারফত লেনদেনের খরচ

বাড়ছে ATM মারফত লেনদেনের খরচ। গুজরাটেও 'দিদি' ম্যাজিক। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নয়া স্ট্র্যাটেজি। আফগানিস্তানে ভারতীয়দের সম্পত্তি ধ্বংসের নির্দেশ পাক গুপ্তচর সংস্থার। শুনে নিন আজকের বিশেষ বিশেষ খবর।

Team সংবাদ প্রতিদিন শোনো

Short Audio Story: Kolkata is called city of lottery | Sangbad Pratidin Shono

Kolkata : কলকাতা নাকি লটারির শহর! কেন জানেন?

কলকাতা শহরের বহু বিশিষ্ট জিনিসের নেপথ্যেই আছে লটারি থেকে পাওয়া অর্থ। কীভাবে কলকাতা হয়ে উঠল লটারির শহর?

Team সংবাদ প্রতিদিন শোনো

Bengali Theatre in Lockdown period | Sangbad Pratidin Shono

অতিমারী পেরিয়ে কী হতে চলেছে বাংলা থিয়েটারের ভবিষ্যৎ?

কোভিডের দরুন দুবছরে বারবার থমকে দাঁড়িয়েছে থিয়েটার জগৎ। কী ভাবছেন নাটকের জগতের লোকজন?

Team সংবাদ প্রতিদিন শোনো

spiritual talk on Sangbad Pratidin

Spiritual: শাস্ত্রমতে কখন সত্যের থেকে মিথ্যে হয়ে ওঠে শ্রেয়?

সত্য এবং অহিংসা জীবের শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কিন্তু কখন আসে এমন মুহূর্ত, যখন সত্যের থেকে মিথ্যে হয়ে ওঠে শ্রেয়?

Team সংবাদ প্রতিদিন শোনো