অন্যান্য নেপো-কিডদের মতোই বাবিল চলে এলেন আলোচনার কেন্দ্রে। সবাই যেন খুঁজতে শুরু করল, বাবিল কতটা ‘ইরফান’ হতে পেরেছেন। সেই হিসাবে শুরু হল বিচার। একটু এদিক ওদিক হলেই সমালোচনা। এ কথা বলার অপক্ষা রাখে না, নেটদুনিয়ায় নেপো-কিড হিসেবে যারা পরিচিত, তাঁদের সম্পর্কে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু এটাই। নতুন ট্যালেন্ট হিসেবে তিনি কতটা যোগ্য সেসব নিয়ে ভাবনার প্রয়োজন নেই।
২০২০, দেশজুড়ে লকডাউন। একের এক মৃত্যুর খবর। হাহাকার, আতঙ্ক, দুঃখের পরিবেশ চারদিকে। একে একে চলে যাচ্ছেন প্রিয় মানুষেরা। ফুরিয়ে যাওয়ার সেই তালিকায় জুড়লেন ইরফান খান। অভিনেতার সংজ্ঞা লিখলে যে গুটিকয় ভারতীয়র নাম লেখা যায়, তাঁদের মধ্যে একজন, চলে গেলেন।
বছর দুই এভাবেই আরও কতশত নক্ষত্র পতন, হিসাব রাখা কঠিন। শান্ত হল পৃথিবী, নিউ নরম্যাল হল স্বাভাবিক। বিনোদন দুনিয়াও নতুন মুখ পেল। সামনের সারিতে উঠে এলেন এমন অনেকে, যাঁদের পরিচয় কাজ অপেক্ষা নাম দিয়ে হল। নিজের নয়, পরিবারের বা ইন্ডাস্ট্রিতে থাকা খুব কাছের কারও নাম দিয়ে। এঁরা ‘নেপো কিড’। গড় ধারণা, এঁদের ট্যালেন্ট নেই। হিসাবমতো এই দলের শরিক বাবিল খান। জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ইরফান খানের সুপুত্র। বাবিলের প্রাথমিক পরিচয় তাঁর নামেই। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টা একটু অন্যরকম ছিল।
বাবিলের প্রথম কাজ নিয়েও চর্চা হল। ইরফানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় না জেনেই কেউ কেউ বেশ প্রশংসা করলেন। সমালোচনাও হল, তাতেও ব্যক্তি বাবিলের। এরপর সবকিছু কেমন যেন পালটে যেতে শুরু করল। বাবিল ইরফানের সুপুত্র, একথা ছড়িয়ে পড়ল। নেটদুনিয়ার অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠল সেইটাই। বিষয়টা ক্রমে এতটাই মুখ্য হয়ে উঠল, যে অন্যান্য নেপো-কিডদের মতোই বাবিল চলে এলেন আলোচনার কেন্দ্রে। মনে রাখা ভালো, এক্ষেত্রে তাঁর কাজ নয়, আচরণ বা কথা-বার্তা নিয়েই শুরু হল আলোচনা। সবাই যেন খুঁজতে শুরু করল, বাবিল কতটা ‘ইরফান’ হতে পেরেছেন। সেই হিসাবে শুরু হল বিচার। একটু এদিক ওদিক হলেই সমালোচনা। কাজের নয়, বাবিলের ‘ইরফান’ হয়ে ওঠার ব্যর্থতা নিয়ে।
এ কথা বলার অপক্ষা রাখে না, নেটদুনিয়ায় নেপো-কিড হিসেবে যারা পরিচিত, তাঁদের সম্পর্কে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু এটাই। নতুন ট্যালেন্ট হিসেবে তিনি কতটা যোগ্য সেসব নিয়ে ভাবনার প্রয়োজন নেই। তুলনা টানা এবং সেই সুরে সমালোচনাই মুখ্য। পালটা নেপো-কিডরাও সরব হন। কেউ কেউ নিজের যুক্তি বোঝাতে পারেন, কেউ পারেন না। তখন আরও বেশি সমালোচনা। ব্যতিক্রম নন বাবিল খানও। সদ্য মুক্তি পেয়েছে বাবিল অভিনীত ‘লগআউট’। সেখানেও অভিনয় দক্ষতার চাইতে বাকি বিষয়গুলো মুখ্য করে তুলেছেন অনেকে। আর তাতেই বাবিলের আক্ষেপ, সমালোচনার ভয়ে নিজেকে বড় সচেতন করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বাবার খ্যাতির প্রসঙ্গটি সামনে রেখে অবলীলায় তাঁকে হেনস্থা করেছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। সে কারণেই বর্তমানে তিনি নিজেকে সংযত করে নিয়েছেন। ভিতরের মানুষটি অবিকৃত থাকলেও, ক্যামেরার সামনে তিনি অত্যন্ত ভেবেবুঝে আচরণ করেন। যদিও সবের প্রতিই ‘পজিটিভ’ দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে চান বাবিল। তিনি মনে করেন, এই খারাপ অভিজ্ঞতাগুলোই মানুষ হিসেবে শক্ত করেছে তাঁকে। নতুন কিছু শিখবার প্রতি আগ্রহী করেছে।
এমনিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কত কথাই না বলা হয়। ‘বুলি’, ‘হেনস্থা’, ‘শেমিং’ নিয়ে কারণে অকারণে জ্ঞান বিতরণ চলে। অথচ অপরদিকের মানুষটি যদি কোনও সেলিব্রিটি হন, তাহলেই যেন চোখ-কান বন্ধ করে মন্তব্য করা যায়। বর্তমান যুগ প্রযুক্তির, এখানে দর্শকও যেমন অতি সহজে উঠে আসেন সেলিব্রিটির কাছাকাছি, তেমনই সেলিব্রিটিও নেমে এসে বসেন সাধারণ দর্শকের পাশে। কিন্তু তাহলেই কি যে কোনও বিষয় নিয়ে তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করা যায়? নিজের ভালো লাগা খারাপ লাগার দায় চাপিয়ে দেওয়া যায়? যেভাবে নেপো-কিড বিষয়টা দেখা হয়, তাতে এতটুকু ইতিবাচক ইঙ্গিত নেই। হতেই পারে এঁরা প্রভাবশালী তকমার জোরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ পেয়েছেন, কিন্তু সত্যিকারের ট্যালেন্ট না থাকলে কতদিন টিকে থাকা সম্ভব হবে? দর্শকের যদি এতই আপত্তি থাকে, তাহলে নেপো-কিডদের কাজ অস্বীকার করলেই সমস্যা মিটে যায়। সিনেমা-নির্মাতা যদি দেখেন দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তাহলে লোকসান করে তো নেপো-কিডদের কাজ দেবেন না। সেক্ষেত্রে এই সামগ্রিক হয়ে যাওয়ার বিষয়টা থেকে সরে আসার সুযোগটুকু পাবেন বাবিলের মতো অভিনেতারা। বাবিল কতটা ইরফান হয়ে উঠলেন, সেই খোঁজ যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়, তাহলে বাবিল হয়তো আরও অনেকটা ইরফান হয়ে উঠবেন অদূর ভবিষ্যতে।