এই দুনিয়ায় মানুষ নাকি একাই চালাক! এমনটা গড় ধারণা। তাও সেই মানুষেরই। আসলে, অন্যকে বোকা বানিয়ে অনেকে ভাবেন তিনিই চালাক। আবার তাঁকে বোকা বানিয়ে আরেকজন ভাবেন একই কথা। কিন্তু এঁদের সবাইকে বোকা বানানোর ক্ষমতা রয়েছে অন্য কারও। আকারে মানুষের চেয়ে অনেকটা ছোট হলেও, বোকা বানানোয় এরাই ওস্তাদ। কাদের কথা বলছি? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
মানুষ সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী। একথা মেনে চলে মানুষ। একথার প্রচারও করে সেই মানুষ। তবু এক-একটা বাঁকে জীবন যে কখন বোকা বানিয়ে দেয়, ধরাই যায় না। আর সেইজন্যই, মানুষের দিনলিপিতে রয়ে গিয়েছে এমন একটা দিন, যা কেবল বোকাদের উদ্দেশে উৎসর্গ করা। মানুষ ভাবে এইসব তাদের নিজেদের জন্য। কিন্তু প্রকৃতির হিসাব তাই বলে না। মানুষ কেন মানুষকে বোকা বানাবে? সে দায়িত্ব অন্য কেউ নিতে পারে অনায়াসে। বেছে বেছে বোকাদের নয়, চালাকদেরও বোকা বানাতে পারে এরা।
তালিকার শুরুতেই রয়েছে টেক্সাস ইউনিকর্ন মেন্টিস। ফড়িং গোত্রের পতঙ্গ। আকারেও প্রায় সমান। বিশেষত্ব বলতে এদের গায়ের রং। ঘাস বা পাতার মধ্যে মিশে যেতে পারে এমন রং এদের। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই। যে কেউ বেকুব বনে যেতে পারে এই পতঙ্গকে দেখে। খুব ভালো করে লক্ষ না করলে বোঝাই যাবে না। বোকা বানাতে অনেকে অনেক কিছু সাজেন, মানুষের কাছে এদের পরিচয় বহুরূপী হিসেবে। কিন্তু মেন্টিসরা প্রাকৃতিক ভাবেই এমন। মথের দলও এই তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে। তবে ঘাস বা পাতা নয়, ধুলোর সঙ্গে মিশে থাকতে ওস্তাদ এই পতঙ্গ। শুকনো পাতার স্তুপেও অনায়াসে মিশে থাকতে পারে মথ। আবার এমন এক পতঙ্গ রয়েছে যাদের দেখতে হুবহু পাতার মতো। এরা লিফ বাগ হিসেবেই পরিচিত। তবে স্রেফ গায়ের রং দেখিয়ে বোকা বানানো নয়, আরও অনেক রকম কায়দা কানুন জানে পতঙ্গ দুনিয়ার ওস্তাদরা। এই যেমন হর্নেট ফ্লাই বা ইয়েলো স্পটেড ফলসহর্ন, এরা দেখতে হুবহু মৌমাছির মতো। অথচ হুল নেই। আক্রমণ করার ধরনও সেই এক, তাতে ভয় পাবেন অনেকেই। কিন্তু পতঙ্গের দল ভালো মতো জানে পুরোটাই ভাঁওতাবাজি। বোকা বানানোর দলে স্রেফ পতঙ্গ নয়, রয়েছে নানা ফুল। দূর থেকে যা দেখলে মনে হবে পাখি, অথচ ওড়ার ক্ষমতা নেই!
তালিকায় প্রথমেই রয়েছে, এক বিশেষ ধরনের অর্কিড ফুল। সকলের কাছে যা মথ অর্কিড নামে পরিচিত। কারণ, ফুলটিকে দেখতে হুবহু মথের মতো। মূলত অস্ট্রেলিয়া, চিন সহ ভারতের কিছু জায়গায় এই বিশেষ ফুলের দেখা মেলে। রয়েছে টিয়াপাখির মতো দেখতে এক ফুল। পাপড়ির রং সবুজ। সজ্জা এমনই, দেখে মনে হয় যেন যেন পাখির পালক আর লেজ। আর গাছের সঙ্গে ফুলটিকে ধরে রেখেছে যে বৃন্ত, সেটি মনে পড়িয়ে দেয় পাখির ঠোঁট সহ মাথার কথা। ঠোঁট সদৃশ বৃন্ত আর ডানার মতো পালকে দেখা যায় অল্প অল্প লালচে বেগুনি আভাও। সব মিলিয়ে রূপের অন্ত নেই এই আশ্চর্য ফুলটির। আর যদি একসঙ্গে একগুচ্ছ ফুল ফোটে? তবে তো কথাই নেই। দূর থেকে গাছের দিকে তাকালে মনে হয় যেন একঝাঁক পাখিই উড়ে এসে বসেছে গাছের ডালে। শুধু পাখি নয়, রয়েছে বানরের মতো দেখতে ‘মাঙ্কি ফ্লাওয়ার’। আকারে তেমন বড় না হলেও, ফুলটি বেশ আকর্ষনীয় তা বলাই বাহুল্য। এছাড়া রয়েছে ‘ফ্লাইং ডাক’। নামের মতোই ফুলের বহর। তালিকায় আরও কতশত অদ্ভুত দর্শন ফুল রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। সবই যে অনায়াসে মানুষকে বোকা বানাতে পারে এমনটাও সহজেই বলা যায়। তাই বোকা হওয়ার দিনে এই ফুল বা পতঙ্গদের নিয়ে আলোচনা না করলেই নয়।