বিশ্বখ্যাত আলিপুর চিড়িয়াখানার নেপথ্যে ছিলেন এক বাঙালি, জানেন কি?

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 8, 2021 4:44 pm|    Updated: January 8, 2021 11:15 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: January 8, 2021 4:44 pm Updated: January 8, 2021 11:15 pm

‘তিন শতকের শহর তিন শতকের ধাঁধা, সুতানটির পারে নেমে এল সাহেবজাদা…’। কবীর সুমনের গানে সাহেবের কলকাতা শহর ধাঁধায় মোড়া; আর সেই ধাঁধায় আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়েছে বাঙালি। হুজুগে বাঙালি কল্লোলিনীর বুকে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। সে বছর–শুরুর দিন হোক বা বর্ষশেষ, ঘরের চার দেওয়ালে তার মন টেকানো অসাধ্যকর বাপার। যেনতেন প্রকারেণ ঘুরে সে আসবেই। বাঙালির শহরভ্রমণের তালিকায় আলিপুর জু, থুড়ি, চিড়িয়াখানা থাকবে না, তাও আবার এই শীতকালে––– তাও কি হয়?

প্রায় ১৯ হেক্টর জমিতে গড়ে ওঠা এই দর্শনীয় স্থান তো আর একদিনে তৈরি হয়নি। লেগেছে অনেক সময়, অনেক যত্ন ও অধ্যবসায়। তাকে বিশ্বমানের করে তোলার নেপথ্যে রয়ে গিয়েছেন এক বাঙালি। রামব্রহ্ম সান্যাল। আসুন, ইতিহাসের ধুলো ঘেঁটে ঘুরে আসা যাক চিড়িয়াখানা তৈরির সেই দিনগুলিতে।

১৮০০ খ্রিস্টাব্দ, ওয়েলেসলির আমল। আর্থার ওয়েলেসলি তদানীন্তন বাংলার গভর্নর জেনারেল, যদিও বাঙালির কাছে তিনি অধিক পরিচিত ‘লর্ড ওয়েলেসলি’ নামেই। সাহেবের ইচ্ছে হল জুওলজিক্যাল গার্ডেন বানাবেন। ইচ্ছে হলেও তক্ষুনি তক্ষুনি উপায় কিন্তু হল না। কেটে গেল দীর্ঘদিন। খোদ গভর্নরের হুকুমকে কি ফেলে রাখা যায়! তাঁর জীবদ্দশাতেই তাই বারাকপুরের বাগানবাড়িতে তৈরি হল ছোটখাটো একটা পশুশালা। আর্থার তাঁর দাদা রিচার্ড ওয়েলেসলির সঙ্গে ইংল্যান্ডে ফিরে গেলে সেই পশুশালা সামলানোর দায়িত্ব পড়ে ফ্রান্সিস বুকানন হ্যামিলটন নামে এক স্কটিশ চিকিৎসক ও প্রাণীতত্ত্ববিদের উপর। ১৮১০ সালে এই উদ্যান ভ্রমণে এলেন আরেক সাহেব। স্যার স্ট্যামফোর্ড রাফেল নামের সেই সাহেব প্রথম শিকার করলেন টাপির!

অনেক বছর পর, সালটা তখন ১৮৭৩, লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার রিচার্ড টেম্পল দিলেন চিড়িয়াখানা তৈরির প্রস্তাব। ব্যাপারটা যদিও এত সহজ ছিল না। ১৮৪১ সালের জুলাই মাসে ‘ক্যালকাটা জার্নাল অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রি’ পত্রিকায় প্রথম চিড়িয়াখানা নির্মাণের পক্ষে দাবি জানানো হয়। ১৮৬৭ এবং ১৮৭৩–এ যথাক্রমে জোসেফ বার্ট ও কার্ল লুইস নামের দুই ব্যক্তিও চিড়িয়াখানার প্রস্তাব দেন। জায়গার অভাবে সেই প্রস্তাব নাকি বাতিলও হয়। ১৮৭৫ সালে স্যার টেম্পল তৈরি করলেন এক কমিটি; তারপরেই জন্ম নিল কলকাতার আরেক দর্শনীয় স্থান, ‘আলিপুর চিড়িয়াখানা’ নামে যাকে এই প্রজন্মের কলকাতাবাসী একডাকে চেনে।

এত বড় ঘটনা আর কোনও রাজকীয় ব্যাপার নেই, তাও কি হয়?

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস ও সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল