বোলপুর, শান্তিনিকেতনের উটসব বলতেই মনে পরে যায় বসন্ত উৎসবের কথা। প্রথমবার শান্তিনিকেতনে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরেই সেই উৎসবের হয় শুভ সূচনা। কিন্তু জানেন কী যে জায়গার বসন্ত উৎসব ঘিরে মানুষের মনে এতো উন্মাদনা, সেই জায়গার জমি কেনা হয়েছিল ১লা মার্চেই?
দোল আর বসন্ত উৎসব বুঝি সমার্থক? হালে এই তুলনা করাই যায়। তবে একসময়, বসন্তে রঙের ছোঁয়া থাকলেও উৎসবের আমেজ থাকত না। দোলের সঙ্গে সবিশেষ যোগ ছিল স্রেফ ভগবান কৃষ্ণের। রং নিয়ে মাতামাতি, রঙিন খেলায় মেতে ওঠার দিন– সবই কৃষ্ণপ্রেমে মিলেমিশে একাকার হত। আলাদা করে ‘বসন্ত উৎসব’ বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। প্রথমবার শান্তিনিকেতনে তা শুরু করলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নাচে-গানে আবির খেলার অন্যরকম বসন্ত যাপন। আশ্চর্যের বিষয় এমনই এক বসন্তকালেই নাকি কেনা হয়েছিল শান্তিনিকেতনের জমি। কাকতালীয় মনে হলেও, এ সমাপতন অদ্ভুত বলাই যায়।
:আরও শুনুন:
গোড়ার শান্তিনিকেতনে ছাত্র নেই, বিদেশি অধ্যাপকের ক্লাসে ছাত্র হয়ে বসলেন খোদ রবীন্দ্রনাথ
সময়টা ১৮৬৩। বোলপুরে কিছু জমি কেনার কথা ভাবলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। আশ্রম তৈরির উদ্দেশে কলকাতা থেকে এতটা দূরে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। সেইমতো মার্চের পয়লা তারিখে লিজ নিলেন ২০ একর জমি। সঙ্গে দু’টি ছাতিম গাছ। বার্ষিক ৫ টাকা হিসাবে রায়পুরের তালুকদারের কাছ থেকে এই জমি তিনি নিয়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একটি গেস্টহাউস, আশ্রম। নাম দেন শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রনাথ সেখানে পা রাখলেন মাত্র ১২ বছর বয়সে। এরপর থেকে অবশ্য যাতায়াত ছিল। একটা সময়ের পর শান্তিনিকেতনের যাবতীয় দায়িত্ব এসে পড়ল তাঁরই কাঁধে। নিয়মিত যাতায়াত শুরু হল, দীর্ঘদিন কাটিয়েওছেন সেখানে। প্রতিষ্ঠা করলেন পাঠভবন, বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠান। শান্তিনিকেতনের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ল গোটা বিশ্বে। শুধু পড়াশোনা নয়, জীবন যাপনের ধরন, শেখার পদ্ধতি– সবেতেই নতুন কিছু। মুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা। জগৎ চিনতে শেখা। এখানে যেন সবই তথাকথিত পরিচিত দুনিয়ার চেনা ছকের বাইরে। সেখানে বসন্ত যাপন যে অন্যরকম হবে, তা বলাই যায়।
:আরও শুনুন:
অসুস্থ ছাত্রের চিকিৎসায় চাই অর্থ, শিল্পই আশ্রয়, জন্ম নিল শান্তিনিকেতনের নন্দনমেলা
কবিগুরুর হাতেই নাচে-গানে-কবিতায় বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার উৎসব আয়োজিত হল। নাম হল ‘বসন্ত উৎসব’। দোলের সময় সংস্কৃতিপ্রেমী বাঙালির অন্যতম পছন্দের ডেস্টিনেশন হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতন স্রেফ এই কারণে। যদিও তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে। কবিগুরুর ঐতিহ্যময় স্মৃতি সত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এসেছে বিচ্যুতি! তা নিয়ে নানা সময় বিতর্কও হয়েছে। শেষমেশ বসন্ত উৎসব বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। তবে এত কিছু হয়তো হতই না, যদি এমনই বসন্ত দিনে শান্তিনিকেতনের জন্য জমি কেনা না হত। তাই বসন্ত উৎসব শুধু নয়, বসন্তের সঙ্গে শান্তিনিকেতনকে মনে করার এটিও একটি কারণ।