বাবার রাগ আর ‘নাকা চেকিং’ পেরিয়ে ভয়-ভয় প্র্যাকটিস; ‘এশিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ ভারতকে এবছরের প্রথম সোনা এনে দিলেন পূজা রানি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: June 1, 2021 7:02 pm|    Updated: June 1, 2021 7:02 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: June 1, 2021 7:02 pm Updated: June 1, 2021 7:02 pm

হরিয়ানার পূজা রানির হাত ধরেই ‘এশিয়ান বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ সোনা পেল আমাদের দেশ। সংশ্লিষ্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এবছর ভারতের এটাই প্রথম সোনা। রবিবার ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে পূজা ৫-০ ব্যবধানে দুরমুশ করে দেন উজবেকিস্তানের মভলুদা মভলোনোভাকে।
 
হরিয়ানা জন্ম দিয়েছে ভারতের একাধিক ক্রীড়ানক্ষত্রের– কপিলদেব থেকে বীরেন্দ্র শেহবাগ, সানিয়া নেহওয়াল থেকে বিজেন্দ্র সিং, গীতা ফোগট থেকে সাক্ষী মালিক–ক্রিকেট থেকে কুস্তি, শুটিং থেকে ভলিবল, ব্যাডমিন্টন থেকে হকি– কে নেই সেখানে!
হরিয়ানার ভিওয়ানির পূজাও স্বপ্ন দেখতেন বক্সার হওয়ার। তাঁর স্বপ্নের অনুকূলে ছিল তাঁর উচ্চতা। এই দুইয়ের মিশেল দূর থেকে লক্ষ করেছিলেন এক মহিলা। তাঁর স্বামী বক্সিং কোচ। পূজাকে সেই মহিলাই প্রথম পরামর্শ দেন বক্সিং রিংয়ে নামার। মাথায় কিলবিল করা বক্সিংয়ের পোকাগুলো যেন হালে পানি পেল! কিন্তু বাবা যে পরিপন্থী! তায় আবার জাঁদরেল পুলিশ অফিসার। তিনি ঘুণাক্ষরে চান না মেয়ে বক্সিংয়ে নামুক। অন্য যেকোনও খেলায় অংশগ্রহণের অনুমতি মিললেও বক্সিংয়ের ক্ষেত্রে বাবার রেড সিগন্যাল যেন একটু বেশিই গাঢ়। কারণ তা ‘ছেলেদের খেলা’, ‘হিংস্রতার খেলা’, ‘রক্তের খেলা’। কদাপি মেয়েদের জন্য নয়। বিশেষত, তাঁর নরম স্বভাবের আপনভোলা মেয়ের জন্য তো আরওই না! চোট লাগলে খারাপ হয়ে যেতে পারে মেয়ের মুখ। ঘটতে পারে অঙ্গপ্রত্যঙ্গহানিও।
অতঃকিম্‌, বাবাকে না-জানিয়েই ২০০৯ সালে ভিওয়ানির ‘হাওয়া সিং অ্যাকাডেমি’তে ভর্তি হয়ে গেলেন পূজা। সেই মহিলার স্বামী তথা কোচ সঞ্জয় কুমার সিংয়ের আন্ডারে। সে বছর আবার কলেজও শুরু হয়েছে পূজার। পড়াশোনার পাশাপাশি বক্সিং চলছে জানলে বাবা দক্ষযজ্ঞ বাঁধাবেন! তাই বাবাকে জানানো তো দূর কি বাত, কোচিং ক্লাসে চোট পেলে যাতে বাড়ি ফিরে মুখ দেখাতে না-হয়, সে কারণে পূজা রাত কাটাতেন বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি। আজ এর বাড়ি, কাল তার বাড়ি। কিন্তু ওই যে, ‘লাখ ছুপায়ে সত্য নহি ছুপতা’; ক্লাস জয়েনের অনতিবিলম্বেই বাবা জানতে পেরে গেলেন মেয়ের কারনামা। এবং প্রত্যাশিতভাবেই বন্ধ করে দিলেন ‘হাওয়া সিং অ্যাকাডেমি’তে যাওয়া। ততদিনে পূজা ইন্টার কলেজ বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে নাম লিখিয়ে দিয়েছেন। সেখানে না-যেতে পারলে তো কেলেঙ্কারি! কোনও বক্সার ‘ভয়ে’ রিংয়ে নামেনি– এর থেকে লজ্জার আর কীই বা হতে পারে! তাই বাবার কাছে কাতর অনুনয়-বিনয় করেন মেয়ে, ‘এই ম্যাচটা খেলে আসি। পরের বার থেকে যাব না।’ 
 
তারপর?
 
শুনে নিন…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল