ক্যানসার, কন্ট্রোভার্সি-কে কায়মনোবাক্যে হারিয়ে ল্যান্স প্রমাণ করেন শুধু ‘আর্ম’ নয়; তাঁর মনোভাবও ইস্পাতের মতো ‘স্ট্রং’

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 13, 2021 10:43 pm|    Updated: May 13, 2021 10:43 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 13, 2021 10:43 pm Updated: May 13, 2021 10:43 pm

’৯৫-এ আমেরিকার ‘তুর দুপন্ট’-এর খেতাব জিতে নিলেন ল্যান্স আর্মস্ট্রং। সেই বছরেরই জুলাই। সেই প্রথম তিনি ‘তুর দি ফ্রান্স’-এর ১৮টি স্টেজ পার করলেন। স্থান পেলেন ৩৬তম। এই সাফল্য উৎসর্গ করলেন সেই রেসেই মৃত বন্ধু এবং কলিগ ফাবিও কাসেরতেলিকে।

সেই সময় থেকেই ল্যান্স তাঁর শরীরে দুর্বলতা অনুভব করতে শুরু করলেন। প্রাকটিসে ছেদ পড়ল। আস্তে আস্তে যেন খয়ে যেতে শুরু করেছে তাঁর শরীর। মেডিক্যাল টেস্ট হল। ধরা পড়ল মারণব্যাধি ক্যানসার! প্রাণঘাতী টেস্টিকুলার ক্যানসার ততক্ষনে ছড়িয়ে পড়েছে পাকস্থলী থেকে ফুসফুস পর্যন্ত। চমকে উঠল সারা বিশ্ব। তবে কি সেরার সেরা হওয়ার পথে ভাগ্যই কাঁটা হয়ে দাঁড়াল? ল্যান্স বলেছিলেন, ‘জীবনের সেরা ফর্ম নিয়ে নামছি এই লড়াইয়ে!’  অত্যন্ত উচ্চমাত্রার কেমো আর সার্জারি তাঁর সোনার কেরিয়ারের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিল।
কিন্তু মিরাকল!
জীবনের ভেলোড্রমে স্টেজ থ্রি ক্যানসারকে হেলায় হারিয়ে দিলেন লড়াকু ল্যান্স। জিতে নিলেন ‘জীবন’। পৃথিবীর বুকে গড়ে দিলেন এক অনন্য নজির!
কিন্তু প্রশ্ন উঠল, এর পরও কি সাইকেলে চেপে হলুদ জার্সি আর কালো ট্র্যাক প্যান্টে দেখা যাবে তাঁকে?

হ্যাঁ! যোগ্য স্পোর্টসম্যান বটে! ’৯৮-এর মরশুমে ইউএস পোস্টাল সার্ভিস টিমের হয়ে আবারও তিনি ট্র্যাকে ফিরলেন! সারা পৃথিবীতে তখন তিনি আইকন। প্রফেশনাল সাইক্লিংয়ের সঙ্গেই জোরকদমে চলছে তাঁর ক্যানসার চিকিৎসার ফাউন্ডেশন ‘লিভ স্ট্রং’! মাঠে ফিরেই জিতে নিলেন ‘স্প্রিন্ট ফিফটি সিক্স কে’। সেই বছরেই অক্টোবরে ঘোষণা করা হলো আগামী ‘তুর দি ফ্রান্স’-এ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন ল্যান্স আর্মস্ট্রং! সেই স্বপ্নের ‘তুর দি ফ্রান্স’।

প্রশ্ন উঠল, ‘এও কি সম্ভব”? এই সম্মান কি শুধুই ক্যানসার জয়ের সংবর্ধনা! নাকি সত্যি এর যোগ্য ল্যান্স? সব জল্পনা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন তিনি। ধন্যি তাঁর অধ্যবসায়! ’৯৯-এ জিতে নিলেন তাঁর বহু কাঙ্ক্ষিত ‘তুর দি ফ্রান্স’-এর সম্মান! একেই বলে কামব্যাক! রিলের সুপারম্যানকে ফেলে রিয়েল লাইফ সুপারম্যানকে নিয়ে মেতে উঠল টেক্সাস-সহ গোটা যুক্তরাষ্ট্র। এ তো ছিল সবে শুরু! এরপর পরপর ছয় বার জিতে নিলেন ‘তুর দি ফ্রান্স’! কেরিয়ারের খাতায় নিরঙ্কুশ সম্রাটের সিলমোহর লাগিয়ে দিলেন তিনি। বিশ্বের সমস্ত স্পোর্টস পোর্টালে এবার প্রশ্ন ‘আর কতবার জিতবেন, ল্যান্স?’ ২০০৫-এ সপ্তম জয়ের পর ঠিক করেন এবার অবসরের পালা! কিন্তু সম্রাটের ক্ষণিকের বিশ্রাম হয়, অবসর হয় না। ২০০৭-এ নিভৃত বাস ভেঙে আবার ফিরলেন ট্র্যাকে! ‘তুর দি ফ্রান্স’-এ পেলেন তৃতীয় স্থান!
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল