বর্ণেই কলঙ্কিত জেন্টলম্যানস গেমসের পরিচয়

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 14, 2021 6:28 pm|    Updated: January 14, 2021 6:28 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: January 14, 2021 6:28 pm Updated: January 14, 2021 6:28 pm

১৯৩৬। আগস্ট মাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে বাকি বছর তিনেক। চলছে একাদশতম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক। উদ্যোক্তা: হিটলার–শাসিত নাৎসি জার্মানি। ইহুদি ও কালো মানুষদের অলিম্পিকে অংশগ্রহণের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর চেষ্টা করেন হিটলার। কেন? না তাঁদের শরীরে ‘আর্য’ রক্ত বইছে না। তাই তাঁরা ‘নোংরা’। ‘কলুষিত’। ‘মনুষ্য সভ্যতার অপমান’। শৌর্য ও বীরত্বময় কোনও কিছুতে থাকার অধিকার রাখেন না তাঁরা।

‘আর্য’দের হারিয়ে পদক জেতা তো দূরের কথা, সেই ধৃষ্টতাটুকু দেখানোর অধিকার পর্যন্ত তাঁদের নেই! বাকি দেশগুলোর তরফে প্রতিবাদ আসায় হিটলার সেই নিষেধাজ্ঞা কায়েম করতে পারেননি। তবে গোটা জার্মানি কিন্তু মোড়া ছিল নাৎসি পতাকা ও চিহ্নে। স্টেডিয়ামগুলোতেও সদর্পে উড়ছে সেগুলো। দর্শকাসনে উপস্থিত কয়েক লক্ষ মানুষের ৯৯% কট্টর ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গবিদ্বেষী। ডানহাত তুলে সমবেত কণ্ঠে ‘হাইল হিটলার’ মন্ত্রে জার্মান রক্তকে উদ্দীপ্ত করতেন তাঁরা। ইহুদি–কৃষ্ণাঙ্গদের দিকে নিরন্তর বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য ছুড়তেন। তাঁদের উদ্দেশে ভেসে আসত অশ্লীল–অশ্রাব্য শব্দ–বাক্য–অঙ্গভঙ্গির ফুলঝুরি। মধ্যমা দেখানো ছিল জলভাত। শোনা যায়, অনার্য বা কৃষ্ণাঙ্গ নারী অলিম্পিয়ানদের পুরুষাঙ্গও দেখানো হয়েছিল নাকি!

 আর কদিন আগেই সিডনি টেস্টে যশপ্রীত বুমরা ও মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে যা ঘটল, যে ন্যক্কারজনক ঘটনার শিকার হতে হল তাঁদের, ক্রীড়াজগতে তা নতুন কিছু নয়। গ্যালারির র‌্যান্ডউইক স্ট্যান্ড থেকে দুই ভারতীয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ধেয়ে আসে বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য। দর্শকাসন থেকে। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তোলপাড় ক্রিকেটবিশ্ব। আইসিসির কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। সঠিক তদন্ত ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে চাপ দিয়েছে বিসিসিআই–ও। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আগামী দিনগুলিতে মাঠে দর্শক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। সিরাজ এবং ভারতীয় দলের কাছে অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চান ডেভিড ওয়ার্নার।

স্লেজিংয়ের জন্য সারা বিশ্বে কুখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট। তাঁদের বর্ণবৈষম্যের বাউন্সারে বারবার জখম হতে হয় অন্যান্য ক্রিকেটারদের। নিকৃষ্টতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ তাঁরা। আসুন, শুনে নেওয়া যাক সেরকমই কয়েকটি ঘটনা। আসুন শুনে নি…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক ও শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল