ভাবধারার মতোই কাস্ত্রো-মারাদোনার মৃত্যুদিনও এক! কেমন ছিল ফিদেল ও ‘ফিদেলেস্তা’র রসায়ন?

Published by: Sankha Biswas |    Posted: November 26, 2020 8:15 pm|    Updated: November 27, 2020 5:16 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: November 26, 2020 8:15 pm Updated: November 27, 2020 5:16 pm

পঁচিশে নভেম্বর। রাত্রিবেলা। দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা এই মাটির পৃথিবী থেকে চিরকালীন বিদায় নিলেন। আর নিয়তির কি অদ্ভুত সমাপতন, ঠিক চার বছর আগেই এই দিনই মারা যান তাঁর বন্ধু, ত্রাতা ফিদেল আলেহান্দ্রো কাস্ত্রো। বিপ্লবী ও রাষ্ট্রনায়ক কাস্ত্রোকে নিজের ‘দ্বিতীয় পিতা’ মানতেন মারাদোনা।

দিয়েগো তখন হাভানার এক নেশামুক্তি কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছিলেন। আর্জেন্তিনার সমস্ত নেশামুক্তি কেন্দ্র মারাদোনার চিকিৎসা করতে অস্বীকার করেছিল। তখনই কাস্ত্রো কিউবার দরজা তাঁর জন্য সাদরে খুলে দিয়েছিলেন। কিউবার রাজধানী হাভানার ‘লা পেদ্রেরা’ ক্লিনিকে তাঁর সেই রিহ্যাব জনিত চিকিৎসা হয়েছিল। মারাদোনার কথায়, ‘যখন আমার জন্য, সমস্ত রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর্জেন্তিনার কোনও ক্লিনিক আমাকে নিতে চাইছে না কারণ তারা কেউই চায় না তাদের কাছে, তাদের হাতে মারাদোনার মৃত্যু হোক, ঠিক তখনই ফিদেল কাস্ত্রো আমার জন্য তাঁর দরজা খুলে দেন। তিনি আমাকে নতুন জীবন দান করেছিলেন। আমি যে বেঁচে যাই, সে শুধু ঈশ্বরের দয়া আর এই মানুষটির বদান্যতায়।’

রিহ্যাবের সেই দিনগুলিতে খুব সকাল সকালই ব্যাস্ত রাষ্ট্রনায়ক পৌঁছে যেতেন মারাদোনার কাছে। কখনও রাত দুটো আড়াইটায় ফোন করতেন। তাঁদের মধ্যে এক জমাটি আড্ডা হত। রাজনীতি থেকে খেলার দুনিয়া, বিশ্বের হাল–হকিকত হয়ে আড্ডার বল গড়িয়ে যেত ব্যাক্তিজীবনের গল্পের দিকে। যৌবনে বেসবল আর বাস্কেটবল ছিল কাস্ত্রোর প্রিয় দুই খেলা। কিন্তু সেই সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও প্রিয় দিয়েগোর আবদারে ফিদেল ফুটবলে পা ছোঁয়াতেন। দিয়েগো তাঁর মনোরঞ্জনের জন্য ফুটবলে নানা কসরত দেখাতেন। ফিদেল দিয়েগোকে নেশামুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করতেন।

চিরকাল প্রথম বিশ্বের প্রভুত্ব আর আগ্রাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন। তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনীতি নিয়ে ছিলেন সদা সতর্ক। হয়তো চর্চার কারণে, হয়তো স্বদেশ-প্রীতির জন্য, হতেও পারে, ইংরেজি ভাষার সীমাহীন প্রাবল্যের প্রতি অবহেলায়, তিনি আজীবন ভাঙা ভাঙা ইংরেজি আর দোভাষী দিয়ে কাজ চালিয়ে গেলেন। ‘সঠিক-ইংরেজি’ বলার ধার ধরলেন না। আর একথা ভুললে চলবে না, তাঁর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে, সেই বিতর্কিত গোলের নাম, ‘হ্যান্ড অফ গড’ দিয়েছিল, তাবৎ ইংরেজিভাষীরা।

কাস্ত্রোও দিয়েগোর সম্বন্ধে বলতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘দিয়েগো আমার এক অসমবয়সি কিন্তু অসামান্য বন্ধু। অত্যন্ত সজ্জন এক মানুষ। আর কী যে অসামান্য খেলোয়াড় একথা আমার বলার অপেক্ষা রাখে না। সে কিউবার সাথে তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, একথা আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের এবং গর্বের, আর এই সম্পর্কে তার কোনও জাগতিক বস্তুগত লাভ নেই, পুরোটাই বিশুদ্ধ আবেগ ও ভালবাসার বিচ্ছুরণ।’

আসলে দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা এমনই। উচ্চ আকাশের। আবার মাটিরও। বুয়েন্স আইরসের অদূরে ভিলা ফ্লোরিতোর বস্তির আবর্জনার স্তুপ হোক বা কিউবা, উরুগুয়ে বা ব্রাজিলের রাষ্ট্রনেতাদের আবাস––– সহজে মিশে গিয়েছেন প্রতিটা জায়গাতেই। তাঁর উত্থান, তাঁর উদযাপন, ছয় সাত–জনকে বল ড্রিবল করে গোলের দিকে ছুটে যাওয়া তাঁকে করে রাখে বিরল সোনালি ডানার চিল।

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল